kalerkantho


অনেক উত্থান-পতনের পর জয় খুলনার

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অনেক উত্থান-পতনের পর জয় খুলনার

ছবি : মীর ফরিদ, চট্টগ্রাম থেকে

চট্টগ্রাম থেকে প্রতিনিধি : ম্যাচ শেষে খুলনা টাইটানসের উপদেষ্টা হাবিবুল বাশার স্থির একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেই গেলেন, ‘খুলনা আসলে কোনো ম্যাচ সহজে জেতে না। ’

রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে কাল অন্তত সহজ জয়ের আশাই করেছিলেন।

সে আশায় দোষেরও কিছু ছিল না। নিজেরা স্কোরবোর্ডে ১৫৮ রান জমা করার পর শুরুতেই প্রতিপক্ষকে ফেলতে পেরেছিল ঘোর বিপদে। দ্রুতই ফেরানো গিয়েছিল ব্রেন্ডন ম্যাককালাম আর আগের দুই ম্যাচে রংপুরের জয়ের অন্যতম স্থপতি ক্রিস গেইলকেও। শুধু তা-ই নয়, রান তাড়ায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের বিপর্যয় আরো ঘনীভূত হয় ৪৬ রানেই ৪ উইকেট খুইয়ে বসায়।

অর্থাৎ ম্যাচের লাগাম তখন পুরোপুরি খুলনা টাইটানসের হাতে। কিন্তু সেখান থেকেই রংপুরের হাল ধরা রবি বোপারা আর এবারের বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা নাহিদুল ইসলাম একসময় সেই লাগাম ছুটিয়ে নিজেদের হাতে প্রায় নিয়েই ফেলেছিলেন। সহজ জয়ের দুয়ার দেখার পরে উল্টো তাঁদের দুজনের ১০০ রানের পঞ্চম উইকেট পার্টনারশিপে এমনকি খুলনা শিবিরে হারের আতঙ্ক উঁকি দেওয়াও বিচিত্র ছিল না। ম্যাচের পর তাই খুলনা অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহকেও বলতে হলো, ‘আজও ম্যাচটি ওদের (রংপুরের) হাতে চলে যাচ্ছিল। ’

চলে যাচ্ছিল কিন্তু শেষ পর্যন্ত যায়নি।

না যেতে দেওয়ার কৃতিত্বের পুরোভাগে তাই স্বাভাবিকভাবেই চলে আসছেন জুনাইদ খান। ডেথ ওভারে পাকিস্তানি এ পেসারের বোলিংই মুঠো গলে বেরিয়ে যেতে থাকা ম্যাচে খুলনাকে ফেরালই না শুধু, জেতালও। ৬ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ৩ ওভারে ৩৫ রানের প্রয়োজন ছিল রংপুরের। উইকেটে দারুণভাবে থিতু হয়ে যাওয়া বোপারা এবং নাহিদুলও ততক্ষণে রংপুরকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে শুরু করে দিয়েছেন। জুনাইদ এসে সেই স্বপ্নের রং বিবর্ণ করে দিতে শুরু করাতেই ম্যাচটি আবার খুলনার দিকে ঘুরে যায়।  

ঘুরতে থাকে জুনাইদের করা ১৮তম ওভার থেকেই। ওই ওভারে মাত্র ৬ রান দেন তিনি। আর শেষ ওভারে রংপুরের জেতার জন্য ১৫ রানের দরকার হলেও জুনাইদ দেন মোটে ৫ রান। সেই সঙ্গে শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউট হন সব মিলিয়ে বিপিএলে নিজের মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে নেমেই ফিফটি করা নাহিদুল ইসলাম (৪৩ বলে ৫৮)। শেষ বলে বোপারাকেও (৪৪ বলে ৫৯) তুলে নিয়ে জুনাইদ খুলনাকে এনে দেন ৯ রানের জয়। যা ৮ ম্যাচে পঞ্চম জয় পাওয়া খুলনাকে নিয়ে গেছে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেও। ১১ পয়েন্ট নিয়ে তারা এগিয়ে গেল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স (১০) ও ঢাকা ডায়নামাইটসকেও (৯)। আর ৭ ম্যাচে চতুর্থ হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে রংপুর থেকে গেল পাঁচ নম্বরেই।

অথচ রংপুরের ইনিংসে যেখানে সেঞ্চুরি পার্টনারশিপও আছে, সেখানে খুলনার সর্বোচ্চ জুটি ৪৩ রানের। ব্যাটিং অর্ডারের প্রথম তিন ব্যাটসম্যান যেমন, তেমনি পরের দিকের ব্যাটসম্যানরাও পারেননি বিশেষ কিছু করতে। এর মধ্যেও উজ্জ্বল ব্যতিক্রম অধিনায়ক মাহমুদ উল্লাহ। তিনি বনে গেলেন হাল ধরা নাবিক। রাজশাহী কিংসের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ে তাঁর ফিফটির পরেও দলের জয়ে শেষ ছোঁয়াটা দিয়েছিলেন ১৯ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলা আরিফুল হক। এই ম্যাচে মাহমুদ উল্লাহর ৩৬ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় খেলা ৫৯ রানের ইনিংসটি ছাড়া ওরকম আর কোনো ঝলকই নেই।

ঝলক যা ছিল, তার সবই মাহমুদ উল্লাহর ব্যাটে। প্রথমে নিকোলাস পুরানকে (১৬) নিয়ে ৪৩ রান যোগ করার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩৮ রানের পার্টনারশিপ আরিফুলের (১৬) সঙ্গে। এই দুটো পার্টনারশিপই দেড় শ পেরোনোর পথ দেখায় খুলনাকে। ৩ উইকেট নিলেও একটু খরুচে রুবেল হোসেন (৩৫) আর লাসিথ মালিঙ্গাও (২/২৭) প্রতিপক্ষকে আরো বাড়তে না দেওয়ায় রেখেছেন ভূমিকা। খুলনার তরুণ অফস্পিনার আফিফ হোসেনেরও রংপুরের বিপর্যয়ে কম অবদান নয়।

২ ওভারে মাত্র ৪ রান খরচায় তুলে নেন ম্যাককালাম (২) ও শাহরিয়ার নাফীসের জায়গায় এই আসরে প্রথম খেলতে নামা ফজলে রাব্বিকে (৬)। মাঝে পেসার আবু জায়েদ রাহিকে টানা দুই বাউন্ডারি ও এক ছক্কার মারার পর একই ওভারে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে যান গেইলও (৯ বলে ১৬)। কার্লোস ব্রাথওয়েটের সরাসরি থ্রোতে মোহাম্মদ মিঠুনও (৩) হন রানআউট। ব্যস, ম্যাচের প্রাণ সেখানেই শেষ একরকম। মরা সেই ম্যাচে প্রাণ ফেরে বোপারা-নাহিদুল পার্টনারশিপে। আবার কাছে গিয়ে রংপুরের জয়ের স্বপ্নও প্রাণ হারায় তাঁদের ব্যাটেই!


মন্তব্য