kalerkantho


রোমাঞ্চ ছড়াবে চট্টগ্রামেও

২৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



রোমাঞ্চ ছড়াবে চট্টগ্রামেও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এভাবে চলতে থাকলে তো হার্ট অ্যাটাকে মারা পড়বে অনেকে! শুনে টেলিফোনের ও-প্রান্তে মাশরাফি বিন মর্তুজার আশ্বাস, ‘এরপর আর কষ্ট হবে না। পর পর দুটা ম্যাচ যেভাবে জিতেছি, তাতে পুরো দল চার্জড আপ হয়ে আছে।

মনে হয় সামনে আরো ভালো করব। ’ সিলেট ঘুরে ঢাকায় বিপিএলের পঞ্চম আসর চট্টগ্রামে যাওয়ার আগে রংপুর রাইডার্স অধিনায়কের আশ্বাসে ভরসা করাই যায়, অন্তত ঢাকা ডায়নামাইটসের মুঠো থেকে রোমাঞ্চকরভাবে ম্যাচ বের করে নেওয়া রংপুর রাইডার্সের ওপর হারাতে বসা সাধারণের বিশ্বাসও ফিরে এসেছে নতুন করে।

তবে বিজয়ের মঞ্চ এখনো দূরের বাতিঘর। আগামীকাল শুরু হচ্ছে এবারের বিপিএলের চট্টগ্রাম পর্ব। পয়েন্ট তালিকার চূড়ায়ই শুধু নয়, মাত্র একটি ম্যাচ হারায় আত্মবিশ্বাসেরও চূড়ায় চট্টগ্রামের লোকাল বয় তামিম ইকবালের কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস। সমান ৯ পয়েন্ট সত্ত্বেও খুলনা টাইটানসকে টপকে ঢাকা ডায়নামাইটস দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নেট রান রেটের জোরে। তবে ডায়নামাইটসের (৮) চেয়ে ১ ম্যাচ কম খেলায় জায়গা বদলের আশা করতেই পারে টাইটানস। টানা হারের পরও ৮ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে আছে বটে সিলেট সিক্সার্স, তবে ৬ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে থাকা রংপুর রাইডার্সের সামনে সুযোগ রয়েছে ওপরের প্রতিটি দলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর। সিক্সার্সের পর ডায়নামাইটসের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস জয়ের পর রাইডার্স প্রবলভাবে ফিরে এসেছে এলিমেনেটরে ঢোকার রেসে।

তলানির দুই দল রাজশাহী কিংস কিংবা চিটাগং ভাইকিংসের সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়নি। তবে সে রকম কিছু ওলট-পালট করতে পারেন শুধু ক্রিকেট ঈশ্বরই, তা-ও নিজের হাতে!

রাইডার্সের জয় নিশ্চিত হয় যেমন এক-দুজনের হাতে। শেষ দুই জয়ে ঝোড়ো ফিফটি করেছেন ক্রিস গেইল। কিন্তু তিনি আউট হতেই কেমন নেতিয়ে পড়ছে ব্যাটিং। ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ক্যারিবীয় ‘ব্যাটিং দানব’ ২৬ বলে ফিফটির পরও রাইডার্সের ইনিংস শেষ মাত্র ১৪২ রানে! আগের ম্যাচে, সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষেও গেইল-ঝড়ের হাওয়াতেও খুব বেশি দূর যায়নি রংপুর রাইডার্সের ইনিংস। তবে দুই ম্যাচেই সময়ে ব্রেক থ্রু এনে দিয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তিনি সমর্থন পেয়েছেন সোহাগ গাজী আর থিসারা পেরেরার কাছ থেকে। ডায়নামাইটসের বিপক্ষে লাসিথ মালিঙ্গাও ছিলেন দুর্দান্ত। তবে রাইডার্সের সেরা বোলার সেই মাশরাফিই, ৬ ম্যাচে ৭ উইকেট। আর টি-টোয়েন্টিতে ৫.৯৫ ইকোনমি তো অভিবাদন পাওয়ার যোগ্য। সব মিলিয়ে ব্যাটিংয়ের চেয়ে বোলিংটাই যেন ‘পেশিশক্তি’ রংপুর রাইডার্সের। ব্রেন্ডন ম্যাককালাম এখনো নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। তাই একজন গেইল প্রতি ম্যাচে রান করে দেবে ধরে নিয়ে যদি বাকিরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকেন, তবে ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া সব আত্মবিশ্বাস চট্টগ্রামেই রেখে আসতে হবে রংপুর রাইডার্সকে। অধিনায়ক অবশ্য আশা দিচ্ছেন, ‘সিলেটে দুইটা ম্যাচ হারার পর মোর‌্যাল ডাউন হয়ে গিয়েছিল দলের। আর আমাদের রবি (বোপারা), মিঠুন রান করছে। দেখবেন এরপর অন্যরাও রান করবে। ’ আর তেমনটা হলে নিশ্চিতভাবেই বিপিএলে আরো রং ছড়াবে রংপুর রাইডার্স।

রাইডার্সের উত্থানের পাশাপাশি ডায়নামাইটসের অধোগতিও কম আলোচ্য নয়। রাইডার্সে যদি বিশ্বাসযোগ্য ম্যাচ উইনার থাকেন জনা তিনেক, তো ডায়নামাইটসের একাদশজুড়েই ম্যাচ উইনার। তার পরও মামুলি ১৪২ রান তাড়া করতে গিয়ে হট ফেভারিটদের হুমড়ি খেয়ে পড়াটা বিস্ময়কর, তাদের সমর্থকদের জন্য হতাশাজনক তো বটেই। তার আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস এবং সিলেট পর্বে সিক্সার্সের কাছে হারা ডায়নামাইটসের শিরোপা ধরে রাখার মিশনকে মোটেও আর কণ্টকহীন মনে হচ্ছে না।

এ উত্থান-পতনটাই ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ঝাঁজ। তাই শেষ ল্যাপের জন্য বিপিএল ঢাকায় ফেরার পর দেখা যেতে পারে পয়েন্ট টেবিলে চূড়ান্ত ওলট-পালট, ক্রিকেট ঈশ্বর নয় ফরম্যাটের ধরনের কারণেই ঘন ঘন রং বদলায় এই জাতীয় আসর। অগত্যা চোখ রাখুন চট্টগ্রাম পর্বেও।


মন্তব্য