kalerkantho


নিষ্ফলা ডার্বিতে আরো পেছাল দুই মাদ্রিদ

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নিষ্ফলা ডার্বিতে আরো পেছাল দুই মাদ্রিদ

মুদ্রার অপর পিঠটা দেখছেন জিনেদিন জিদান। নতুন মৌসুমে ১২ ম্যাচ না যেতেই তাঁর দল লা লিগায় বার্সেলোনার চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে ১০ পয়েন্ট! গত পরশু অ্যাতলেতিকোর নতুন মাঠ ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানে গোলশূন্য ড্র করেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

লা লিগায় প্রতিপক্ষের মাঠে এবারই প্রথম গোল পেল না জিনেদিন জিদানের দল। তাতে ষোলো আনা লাভ বার্সেলোনার। মাদ্রিদেরই আরেক দল লেগানেসের বিপক্ষে লুই সুয়ারেসের জোড়া গোলে ৩-০তে জিতেছে তারা। দামি ৩ পয়েন্টের সঙ্গে সুয়ারেসের গোলে ফেরাটা স্বস্তির এরনেস্তো ভালভারদের জন্য। লা লিগার অপর ম্যাচে গেতাফে ৪-১ গোলে আলাভেসকে আর সেভিয়া ২-১ গোলে হারিয়েছে সেল্তা ভিগোকে।

১২ ম্যাচ শেষে শীর্ষে থাকা বার্সার পয়েন্ট ৩৪, রিয়াল ও অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের ২৪ আর সেভিয়ার ২২। এক ম্যাচ কম খেলা ভ্যালেন্সিয়া ২৭ পয়েন্ট নিয়ে রয়েছে দুইয়ে। ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থেকেও অবশ্য উচ্ছ্বাসে ভাসছেন না বার্সা কোচ এরনেস্তো ভালভারদে, ‘৩-০ স্কোরলাইন একটু বেশি হয়ে গেছে। ছেলেরা যতটা অবদান রেখেছে তাতে জয়ের ব্যবধান এত বেশি হওয়া উচিত হয়নি।

লেগানেস খুব ভালো খেলেছে। ওরা আমাদের খেলাটা কঠিন করে তুলেছিল। আরো উন্নতি করতে হবে আমাদের। ’ চ্যাম্পিয়নস লিগে জুভেন্টাস আর লা লিগায় দুইয়ে থাকা ভ্যালেন্সিয়ার সঙ্গে ম্যাচের আগে খেলোয়াড়দের উদ্দীপ্ত করতেই হয়তো এমন বার্তা ভালভারদের। মৌসুমে পঞ্চম হলুদ কার্ড পাওয়ায় ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে অবশ্য খেলা হবে না জেরার্দ পিকের।

ওয়ান্ডা মেট্রোপলিটানে প্রথম ডার্বি উত্তেজনা ছড়িয়েছিল বেশ। সেই ম্যাচে কিনা গোল পেল না অ্যাতলতিকো বা রিয়াল মাদ্রিদের কেউ। সবশেষ ২০০৫ সালে লা লিগায় সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে গোলশূন্য ড্র করেছিল দুদল। ২০০৫ সালের আগে এ রকম নিষ্ফলা ম্যাচটা ছিল অ্যাতলেতিকোর পুরনো মাঠ ভিসেন্তে কালদেরনে ১৯৯৩ সালে। অ্যাতলেতিকোর প্রাণভোমরা আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান এ নিয়ে ৭২৩ মিনিট গোল পাননি একটিও। দর্শকরা এই ফরাসিকে দুয়ো দিলেও পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ ডিয়েগো সিমিওনে, ‘পরিবারের যে কারো পাশে মৃত্যু পর্যন্ত থাকার শিক্ষা পেয়েছি আমি। আর গ্রিয়েজমান আমার পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। প্রথম ২৫ মিনিট বিশ্বের সেরা দলের মতো খেলেছে রিয়াল। তবে কোররেয়ার গোলটা হয়ে গেলে ম্যাচের গতি বদলে যেত। ’ বার্সার চেয়ে ১০ পয়েন্টে পিছিয়ে অবশ্য ভেঙে পড়ছেন না জিদান, ‘সবাই খুব ভালো খেলেছে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে গোলটাই পায়নি শুধু। ১০ পয়েন্ট অনেক বেশি তবে নিশ্চিতভাবে এটা বদলাবে। বার্সেলোনা সব ম্যাচে জিতবে না, আমরাও ওদের পেছন পেছন ছুটব। ’

তৃতীয় মিনিটে মার্সেলো ও রাফায়েল ভারানের ভুলে গোলরক্ষককে একা পেয়ে গিয়েছিলেন আনহেল কোররেয়া। এই আর্জেন্টাইনের লক্ষ্যভ্রষ্ট শট হতাশ করে অ্যাতলেতিকো সমর্থকদের। ৩৫ মিনিটে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ফ্রিকিক ঝাঁপিয়ে কর্নারের বিনিময়ে ফেরান অ্যাতলেতিকো গোলরক্ষক ইয়ান ওবলাক। ৩৭ মিনিটে লুকাস এরেনদেসের পা নাকে লাগে সের্হিয়ো রামোসের। এ জন্য বিরতির পর তাঁকে তুলে নেন জিদান। গোলের জন্য মরিয়া রিয়াল একের পর এক আক্রমণ শানিয়েও লক্ষ্য ভেদ করতে পারছিল না। উল্টো ৭৮ মিনিটে প্রায় গোল করে ফেলেছিলেন কেভিন গামেইরো। তাঁর চিপ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে গেলেও শেষ মুহূর্তে হেডে ফেরান ভারানে।

লেগানেসের মাঠে যথারীতি পাসের ফোয়ারা ছুটিয়ে খেলেছে বার্সেলোনা। তবে পাল্টা আক্রমণে বার্সার রক্ষণ ত্রস্ত রেখেছিল স্বাগতিকরাও। গোলরক্ষক টের স্টেগান অসাধারণ কটি সেভ না করলে অন্য রকম হতে পারত ম্যাচের ফল। বার্সেলোনা প্রথম গোল পায় ২৮ মিনিটে। ডান দিক থেকে নেওয়া পাকো আলকেসেরের শট গোলরক্ষক ইভান কুয়েইয়ার ঠেকালেও ফিরতি বল জালে জড়িয়ে দেন লুই সয়ারেস। ৪৭৯ মিনিট পর প্রথম গোলের দেখা পান এই উরুগুইয়ান। ৬০ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুয়ারেস। আলকেসেরের শট গোলরক্ষক ঠিকভাবে ফেরাতে না পারলে শূন্যে ভেসে কাঁচি চালানোর ভঙ্গিতে নিজের ট্রেডমার্ক ‘স্কিসোরস’ শটে লক্ষ্য ভেদ করেন এবার। ৮৮ মিনিটে লিওনেল মেসির দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ঠেকানোর পর আবারও গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন সুয়ারেস। তবে হ্যাটট্রিক পাওয়া হয়নি তাঁর। ম্যাচের শেষ মিনিটে মেসির বাড়ানো বল জটলার মধ্যে টোকা দিয়ে ব্যবধান ৩-০ করেন বদলি হয়ে নামা পাউলিনিয়ো। এএফপি


মন্তব্য