kalerkantho


সিলেট সিক্সার্সের কোচ তাহলে ওয়াকারই!

২০ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সিলেট সিক্সার্সের কোচ তাহলে ওয়াকারই!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিপিএল শুরুর আগেও তিনি একবার এসেছিলেন বাংলাদেশে। সিলেট সিক্সার্সের উদ্যোগে স্থানীয় পেস বোলিং প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচিতে এসে কিছু বোলার বাছাইও করে দিয়ে গিয়েছিলেন।

তবে বিপিএল শুরু হয়ে যাওয়ার পর নবীনতম ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ওয়াকার ইউনুসের ভূমিকাটা বদলে গেছে। হালের টি-টোয়েন্টি জমানায় যাকে বলে ‘মেন্টর’।

বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসরগুলোতে ‘মেন্টর’ হিসেবে সাবেক কীর্তিমান ক্রিকেটারদের চাহিদাও বেশ তুঙ্গে। এই যেমন ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানার পর থেকেই শচীন টেন্ডুলকারকে এই ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে আইপিএলের মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের সঙ্গে। দিল্লি ডেয়ারডেভিলসও একই পদবি দিয়ে দলের সঙ্গে জুড়ে রেখেছে রাহুল দ্রাবিড়কে। কাজেই সিলেট সিক্সার্সের সঙ্গে ওয়াকারের ওভাবে যুক্ত হওয়াটাও নতুন কোনো ব্যাপার নয়।

তবে এই কৌতূহল নিত্য ঘুরে বেড়ায় যে মেন্টরের কাজটা আসলে কী? যখন প্রতিটি দলের সাপোর্ট স্টাফে হেড কোচকে সহায়তা করার জন্য সহকারী কোচ থেকে শুরু করে থাকেন আরো অনেকেই। মেন্টর কি তাহলে শুধুই দলের শোভা বাড়ান নাকি তাঁর ভূমিকাও দলের সাফল্য চিন্তার পুরোভাগেই থাকে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য এই বিপিএলের বাজারে ওয়াকারের চেয়ে আদর্শ আর কে! গতকাল মিরপুরের একাডেমি মাঠে সিলেট দলের অনুশীলনের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে আসা ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফাস্ট বোলার সেই প্রশ্নের মুখে পড়লেনও।

জবাব যা দিলেন তাতে মনে হলো কোচ আর মেন্টরের ভূমিকা প্রায় কাছাকাছিই।

বিখ্যাত ‘টু ডাব্লিউ’র অন্যতম এই দুর্ধর্ষ ফাস্ট বোলার বলছিলেন, ‘মেন্টর এবং কোচের কাজ অনেকটাই একরকম। আমাদের দলে আমরা বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ সাবেক ক্রিকেটারকে পেয়েছি। আছেন ফারুক ভাইয়ের (বাংলাদেশের সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ) মতো অভিজ্ঞরা আছেন। আমরা একসঙ্গে বসে আমাদের ভাবনাগুলো একীভূত করে তা অনুশীলন ও ম্যাচে প্রয়োগের চেষ্টা করে থাকি। ’

এই মুহূর্তে ওয়াকারের ভাবনাই যে সিলেট শিবিরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়ে আসছে, সে ধারণায় বিশ্বাসী লোকের সংখ্যাও বেশি। কারণ এই দলটির হেড কোচ স্থানীয় জাফরুল এহসান। বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনে কোচ হিসেবে বেশ পরিচিত নাম হলেও নাম-ভার এমন নয় যে দলে ওয়াকারের উপস্থিতি ছাপিয়ে যেতে পারেন। তার ওপর টানা তিন ম্যাচ জিতে আসর শুরু করা দলটি যখন এখন জিততেই ভুলে গেছে, তখন জয়ের ধারায় ফিরতে ওয়াকারের গেম প্ল্যানই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে স্বাভাবিক।

কয়েক দফায় পাকিস্তান দলের কোচের দায়িত্বও পালন করা এই সাবেক অধিনায়ক যথাসাধ্য সিলেট সিক্সার্সের কাজে আসার চেষ্টাও করছেন, ‘আমি আসলে তরুণদের সাহায্য করতেই এখানে এসেছি। আমার কাজটি প্রতিদিনের নয়, অনুশীলনে। উঠতি তরুণ যাদের সহযোগিতার প্রয়োজন, তাদের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টকেও সাহায্য করছি। আপনার ভুলে গেলে চলবে না যে সিলেট আসরের নতুন দল। ওদের পর্যাপ্ত সহযোগিতার প্রয়োজন। যদি আমি কোনো কাজে আসি, সেটি দুই পক্ষের জন্যই ভালো। ’ 

কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর ক্রিকেট মস্তিষ্কের কার্যকারিতা নিয়েও যথেষ্ট আস্থাশীল শোনাল ওয়াকারের কণ্ঠ, ‘এর আগেও আমি এই কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। কখন কী করতে হবে, সেটা আমি ভালো করেই জানি। পাশাপাশি এও জানি, বিপিএলের মতো লিগগুলোতে আমার এমন প্রচেষ্টা কতটা ফলপ্রসু হয়। ’ সেটির প্রয়োগও দেখাতে চান রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে আজকের ম্যাচেই, ‘আমরা কালকেই (আজ) ঘুরে দাঁড়াতে চাইছি। টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতেই আমরা এখানে। প্রতিটি ম্যাচই আমাদের জন্য নতুন। কালকের ম্যাচে সিলেট আরো ভয়ংকর রূপে আবির্ভূত হবে। ’ কথা শুনে মনে হওয়া স্বাভাবিক যে আনুষ্ঠানিক ভূমিকা ‘মেন্টর’-এর হলেও অদৃশ্যে হেড কোচের পদটি ওয়াকারের জন্যই ছেড়ে বসে আছে সিলেট সিক্সার্স!


মন্তব্য