kalerkantho


স্থানীয়রাই জেতালেন রাজশাহী-খুলনাকে

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



স্থানীয়রাই জেতালেন রাজশাহী-খুলনাকে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সবেধন নীলমণি হয়ে ছিল মমিনুল হকের ইনিংসটি। এবারের বিপিএলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের একমাত্র হাফ সেঞ্চুরি।

কাল একই দিনে আরো দুজন সঙ্গী পেয়ে যান রাজশাহী কিংসের ওই বাঁহাতি। সতীর্থ জাকির হাসান ও চিটাগং ভাইকিংসের এনামুল হক।

জাকিরের পঞ্চাশ পেরোনো ইনিংসে ৭ উইকেটের জয়টাও মুঠোবন্দি তাঁর  দলের। তবে জয় পাননি এনামুলরা। রাইল রুশো ঝড় তুললেও স্থানীয় দুই ক্রিকেটার মাহমুদ উল্লাহর ৩৫ বলে হার না মানা ৪৮ ও আরিফুল হকের ২৪ বলে ৩৪-এ  পাঁচ উইকেটে চিটাগংকে হারিয়েছে খুলনা টাইটানস।

জাকিরের দল রাজশাহী কিংসের জয় সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে; সাত উইকেটে। হারানোর জন্য সিলেটই এখন বোধকরি সবচেয়ে সহজ শিকার। ঘরের মাঠে টুর্নামেন্ট শুরুর প্রথম তিন ম্যাচ জেতে তারা। পরের চার ম্যাচ জয়শূন্য।

আগের ম্যাচটি বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় তবু পরাজয়ের ধারায় বিরতি। কাল আবার সেই বৃত্তেই ঘুরপাক নাসির হোসেনের দলের।

সিলেটের দুর্দান্ত শুরুর বড় অবদান ছিল দুই ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার ও উপুল থারাঙ্গার ঝোড়ো ব্যাটিং। কিন্তু সেই ঝড় থেমে গেছে কবে! কালও অল্প রানে ফিরে যান দুই ওপেনার। এরপর গুনাস্কা গুণাথিলাকা (৩৭ বলে ৪০) আগলে খেলেন একপ্রান্ত। শেষদিকে সাব্বির রহমান (২৬ বলে ৪১) এবং টিম ব্রেসনানের (১৭ বলে ২৯*) ব্যাটিংয়ে ছয় উইকেটে ১৪৬ রানের পুঁজি পায় সিলেট।

জবাবে ৬৫ রানের ওপেনিং জুটি মমিনুল ও রনি তালুকদারের। ভালো ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতায় কালও ৩৬ বলে ৪২ রান মমিনুলের। ত্রয়োদশ ওভারে তাঁর আউট হওয়ার আগেই জাকিরের উইকেটে পেতে পারত সিলেট। নাবিল সামাদের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়েছিলেন এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান। কিন্তু সেটি যে নো বল! ‘জীবন’ পেয়ে পরের দুই বলেই পর পর দুটি ছক্কা। ১৮তম ওভারে পর পর দুটি চার মেরে কেবল দলের জয় নিশ্চিত করেননি। ২৬ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে বিপিএলে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দ্বিতীয় ফিফটিও তুলে নেন জাকির। বিপিএলের পঞ্চম ম্যাচে দ্বিতীয় জয় পায় রাজশাহী কিংস। রাজশাহীর এই জয়ে দেশি ক্রিকেটারদের ভূমিকাই বেশি। এটিকে বেশ ইতিবাচকভাবে দেখছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ জাকির, ‘অনেক বড় ব্যাপার এটি। আমরা স্থানীয়রা যদি ভালো করতে পারি, সঙ্গে বিদেশিরা পারফরম করে, তাহলে তা দলের অনেক কাজে লাগবে। ’

স্থানীয় ক্রিকেটারদের এই দাপট ছিল কাল দ্বিতীয় ম্যাচেও। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে চিটাগং ভাইকিংস প্রথম উইকেট হারিয়ে বসে প্রথম ওভারেই। এরপর সৌম্য ও এনামুলের ৯৫ রানের জুটি। প্রথমজন ৩৪ বলে ৩২ করে আউট হলেও পরেরজন ঠিকই তুলে নেন হাফ সেঞ্চুরি। ৪৭ বলে পাঁচ বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় ৬২ রান এনামুলের। শেষ দিকে নাজিবুল্লাহ জাদরান (১৬ বলে ২৪) এবং স্টিয়ান ফন জিলের (১৫ বলে ২৩) ব্যাটিংয়ে পাঁচ উইকেটে ১৬০ রান তোলে চিটাগং। অবশ্য পুরো ইনিংসে ছয়-ছয়টি ক্যাচ ফেলে ওই স্কোর গড়ায় যথেষ্ট সাহায্য করেন খুলনার ফিল্ডাররা।

জবাবে রাইল রুশো ২৬ বলে পাঁচ বাউন্ডারি ও তিন ছক্কায় ৪৯ করে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন খুলনাকে। তবে সপ্তম ওভারে ৬০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে তারা। মাহমুদ উল্লাহর ৩৫ বলে ৪ বাউন্ডারি ১ ছক্কায় হার না মানা ৪৮ আর আরিফুল হকের ২৪ বলে ৩ ছক্কায় ৩৪ রানে ১০ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে খুলনা।


মন্তব্য