kalerkantho


উন্নতিটা ধরে রাখলে পদক আসবেই

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



উন্নতিটা ধরে রাখলে পদক আসবেই

প্রশ্ন : কমনওয়েলথ গেমসে পদকের নিশ্চয়তা দেওয়া হচ্ছে আপনাকে নিয়ে, আসর শুরু হতে এখনো মাস পাঁচেক—এই ফর্মটা তো ধরেও রাখতে হবে...

শাকিল আহমেদ : হ্যাঁ, সেটা জানি। তবে আমি এ নিয়ে বেশি কিছু ভাবছি না।

কারণ আমার চিন্তাই আমার ফর্ম নিয়ে, কমনওয়েলথের পদক নয়। ফর্ম ধরে রাখতে পারলে, এখন যে স্কোরটা করছি তা করে যেতে পারলে পদকই আমার পেছনে আসবে। আমাকে তার জন্য ছুটতে হবে না।

প্রশ্ন : তবু এই যে পদক জয়ের ঘোষণা দিয়ে দেওয়া, এতে একটা চাপ তৈরি হচ্ছে না আপনার ওপর? সেটি সামলাবেন কী করে?

শাকিল : সে জন্যই আমি আমার দৈনিক স্কোর আর সাপ্তাহিক উন্নতির গ্রাফটার কথাই শুধু মাথায় রাখি, কমনওয়েলথ নয়। কোচ আমার সঙ্গে আছেন, উনিও গাইড করছেন কিভাবে এগোতে পারি সে ব্যাপারে। গেমসের কথা বললে এটুকুই বলব, দেশে আমি এখন যে স্কোরটা করছি এর ধারাবাহিকতাই শুধু ধরে রাখতে চাই ওই আসরে। এরপর একটা ফল তো পাবই। এখনই পদকের কথা বলা হচ্ছে কারণ আমি এখন যে স্কোরটা করছি তা ফাইনাল রাউন্ডের জন্য যথেষ্ট। আর ফাইনালেও আমার স্কোর খারাপ নয়, তাতে পদক সম্ভব।

প্রশ্ন : কিন্তু বড় আসরে ফাইনাল রাউন্ডের পরিস্থিতিটা তো ভিন্ন রকম হয়, তার জন্য নিশ্চয় আলাদা প্রস্তুতি নিচ্ছেন?

শাকিল : তাতো অবশ্যই। ফাইনাল রাউন্ডের কথা আসলে আগেভাগে বলা যায় না। তার পরও যত বেশি ওই ধরনের পরিস্থিতিতে শ্যুটিং করার অভিজ্ঞতা থাকবে, তত ভালো করার সম্ভাবনা বাড়ে। সেটা মাথায় রেখেই আমি অনুশীলনের চেষ্টা করছি। প্রতি বৃহস্পতিবার আমাদের একটা কম্পিটিশন হয়। ওখানে ফাইনাল রাউন্ডের শ্যুটিংটা আমি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গেই নিই। আর আমার আত্মবিশ্বাস আছে বড় আসরেও নিজের স্বাভাবিক খেলার। প্রতিপক্ষরা তো আর আমার খেলা নষ্ট করতে আসবে না, ওখানে খেলাটা আমার নিজের সঙ্গেই।

প্রশ্ন : আপনি খুব দ্রুত উন্নতি করেছেন, গত এসএ গেমসে সোনা জয়ের সময় থেকে এই দেড় বছরে ঠিক কতটা এগিয়েছেন মনে করেন?

শাকিল : এই সময়ের পারফরম্যান্সে যে উন্নতি হয়েছে তাতে আমার আত্মবিশ্বাস এখন অনেক বেশি। স্কোরে এগিয়ে গেছি অনেক। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলেই যেমন সাফে মেরেছিলাম ৫৪৭, অনুশীলনেও এর আশেপাশেই থাকত স্কোর। সেই ইভেন্টেই এখন ৫৭০ মারছি আমি। সাফে ৫০ মিটারে সোনা জিতেছিলাম ৫২৬ মেরে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে এই ইভেন্টেই হয়েছে আমার ৫৪২। এ পর্যন্ত আমি ধারাবাহিকভাবে এগিয়েছি, পিছাইনি কখনো, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

প্রশ্ন : এসএ গেমসে সোনা জয়টা ছিল চমক, তরুণ সেই শ্যুটার এখন কতটা পরিণত?

শাকিল : এই সময়ের মধ্যে অনেকগুলো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টও খেলেছি আমি। অলিম্পিক পদকজয়ীদের বিপক্ষেও লড়ছি। তাতে করে ভয়টা কেটেছে। আগে শ্যুট করতে দাঁড়ালেই শরীর কাঁপত, এখন আর তেমন কিছু অনুভব করি না। জাতীয় পর্যায়েও এই সময়ের মধ্যে আমি আমার শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রেখেছি। ফলে নিজেকে এখন যেকোনো টুর্নামেন্টের আগেই যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মনে হয়।

প্রশ্ন : ২০১৫-তে দিল্লিতে প্রথম আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে (এশিয়ান জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপ) খেলতে নেমেই পদক জিতেছিলেন, ক্যারিয়ারের এই দারুণ শুরুটাই কি আপনাকে সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দিয়ে গেছে এত দূর আসতে?

শাকিল : সেটি আমার জীবনের বড় ঘটনা কোনো সন্দেহ নেই। বলতে পারেন, নিজের সামর্থ্যের কথা সেখান থেকেই বুঝতে পেরেছিলাম। তাতে ফেডারেশনের নজরেও পড়েছি। তারা আমার পারফরম্যান্সে মনোযোগ দিয়েছে, বিদেশি কোচ সাহায্য করেছে, তাতেই এই পর্যায়ে আসতে পেরেছি।

প্রশ্ন : পিস্তলের দুটি ইভেন্টই আপনি করছেন ১০ মিটার ও ৫০ মিটার, স্বচ্ছন্দ বেশি কোনটাতে?

শাকিল : ১০ মিটার, ৫০ মিটার দুটোতেই আমার পারফরম্যান্সের উন্নতি হয়েছে। ৫০ মিটারে ভালো করছি আগে থেকেই। এখন ১০ মিটারও ভালো হচ্ছে। দুটি ইভেন্টেই আমার কমনওয়েলথ গেমসে ফাইনাল খেলার মতো স্কোর আছে। ৫০ মিটারে আগে থেকে ভালো করছিলাম বলে সেটাতে স্বচ্ছন্দের একটা ব্যাপার তো আছেই, তবে এখন দুটিতেই সমান মনোযোগ দিচ্ছি। তাতে আমার পদকের সম্ভাবনাও বাড়বে।

প্রশ্ন : পিস্তল ইভেন্টে দীর্ঘদিন সাফল্য পায়নি বাংলাদেশ, অনেক আগে আতিকুর রহমান, আব্দুস সাত্তার নিনির সাফল্যে তাঁরাই এখনো এই ইভেন্টের তারকা। তাঁদের সঙ্গে আপনার কি কথা হয় এই ইভেন্টটি নিয়ে?

শাকিল : হ্যাঁ, উনারা দুজনই আমাকে স্নেহ করেন, পছন্দ করেন। গত চ্যাম্পিয়নশিপের সময়ও তাঁদের সঙ্গে কথা হয়েছে। উনারা উৎসাহ দেন আমাকে, প্রশংসা করেন। সত্যি বলতে তাঁদের উৎসাহে আমি আরো সাহস পাই।

প্রশ্ন : ২০১৩ সালে যখন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন, তখনো শ্যুটিং কী জানতেন না, সেই আপনি এখন দেশসেরার তকমা পাচ্ছেন, পেছনে তাকিয়ে কী মনে হয়?

শাকিল : আমারও অবাক লাগে, কোথা থেকে কোথায় এলাম! এশিয়ান জুনিয়রে প্রথম যেদিন পদক জিতি আমার বাড়ির লোকজন বিশ্বাস করতে চাইনি। এসএ গেমসে আমার সোনাজয়ের খবর টিভি স্ক্রলে দেখেও মা আমাকে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হন। এখন তো শ্যুটার, আমাদের এলাকার সবাই আমাকে চেনে। সবার কাছ থেকে অনেক আদর, সহযোগিতাও পাই। শ্যুটিং নিয়ে ব্যস্ত থাকি— এটাই এখন সবাই চায়।

প্রশ্ন : আপনাকে ঘিরে আগামী টোকিও অলিম্পিকের পরিকল্পনাও করা হয়েছে, আপনি নিজে কী স্বপ্ন দেখেন, ক্যারিয়ারটা কোথায় শেষ করতে চান?

শাকিল : ফেডারেশনের এখন সব কর্মকাণ্ডই আগামী অলিম্পিক সামনে রেখে। সেই আসরে আমরা পদকের জন্যই যাব। আর ক্যারিয়ার নিয়ে যা বললেন সেভাবে আসলে আমি কখনো ভাবিনি। আমার ক্যারিয়ার তো সবে শুরু। আমি একটা বছর ধরে ধরে বা একেকটি টুর্নামেন্ট ধরে এগোচ্ছি। ভবিষ্যতে কোন পর্যায়ে যাব, অতটা এখনো মাথায় আনিনি। তবে এখন আমরা অলিম্পিক পরিকল্পনার মধ্যে আছি, আমারও লক্ষ্য টোকিওতে পদক জেতার।


মন্তব্য