kalerkantho


এশিয়া কাপ হকির ব্যয় নিয়ে সন্দেহ

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



এশিয়া কাপ হকির ব্যয় নিয়ে সন্দেহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাত্র এক বছর আগের কথা। ঢাকায় হওয়া অনূর্ধ্ব-১৮ এশিয়া কাপ হকি টুর্নামেন্টে ট্রান্সপোর্ট খাতে খরচ হয়েছিল মাত্র সাত লাখ টাকা।

এক বছর পর সিনিয়রদের এশিয়া কাপে সেই অঙ্কটা বেড়ে এক লাফে হয়েছে ৩১ লাখ। সেই আট দলের খেলা, দলগুলোর যাতায়াতও প্রায় একই, অথচ এত খরচ! তাহলে এক বছরে কি দেশের গাড়িভাড়া বেড়েছে চার গুণের বেশি! এমন নানা আর্থিক সন্দেহ ঘিরে আছে সদ্য সমাপ্ত এশিয়া কাপ হকিকে। এ রকম উপলক্ষ পেলেই মাঠের খেলার চেয়েও নাটক আর কেলেঙ্কারি বড় হয়ে ওঠে অনেক সময়।

এই টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে হকি ফেডারেশনের খরচ হয়েছে দুই কোটি ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যেই অসংগতি ধরা পড়েছে অনেক। তাই ফেডারেশন থেকে এশিয়া কাপের পাঁচ উপ-কমিটির কাছে খরচের অসংগতি ও অসামঞ্জস্যগুলোর ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাদেক বলেছেন, ‘কমিটিগুলোর খরচের মধ্যে আমরা কিছু অসংগতি পেয়েছি। তাই উপ-কমিটিগুলোর কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয়েছে। এটা করা হয়েছে ফেডারেশনে স্বচ্ছতা আনার জন্য।

’ এই সন্দেহের তালিকায় ওপরের দিকে আছে যাতায়াত উপ-কমিটি। তারা খরচ করেছে ৩১ লাখ টাকা। দেখা গেছে, একই ফ্লাইটে করে হকির দুই বিদেশি টেকনিক্যাল পারসন ঢাকায় এসেছেন, তাঁরা একই সময়ে একই হোটেলে উঠলেও বিমানবন্দর থেকে দুজনকে নিয়ে আসা হয়েছে দুটো আলাদা গাড়ি করে! সবচেয়ে বড় কথা, একজন এই সাব-কমিটির চেয়ারম্যান হতে চেয়েছিলেন ১১ লাখ টাকায় যাতায়াত খাত সম্পন্ন করে দেবেন বলে। কিন্তু কোনো এক রহস্যময় কারণে তাঁকে না দিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আরিফুল হক প্রিন্সকে, এই সদস্যসচিবের সঙ্গে চেয়ারম্যান করা হয় চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইউসুফকে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই অবশ্য ইউসুফ সভা করতে গিয়ে ধাক্কা খেয়েছেন, ‘আমি সভা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু ফেডারেশনের উচ্চ পর্যায়ের একজন বলেছেন সভার দরকার নেই। এর পর থেকে আমি আর এর মধ্যে নেই। তাই ফেডারেশনের ব্যাখ্যার জবাবও আমি দিতে পারব না। ’ এক সহসভাপতির নির্দেশে তিনি চেয়ারম্যানগিরি ছেড়ে দিয়ে পুরোটাই ছেড়ে দিয়েছেন প্রিন্সের হাতে। তিনি ২২ লাখ টাকার বাজেট দিয়ে খরচ করেছেন ৩১ লাখ টাকা। এ ব্যাপারে প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া মিডিয়া, আইন-শৃঙ্খলা ও লিয়াজোঁ কমিটির কাছেও প্রস্তাবিত বাজেটের বাড়তি খরচ নিয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী ফেডারেশনের এই চিঠিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ‘ফেডারেশন জানতে চাইতে পারে আমার কমিটির বাড়তি খরচ সম্পর্কে। আমাকে বেশ কিছু জিনিস দেওয়ার কথা ছিল। সেগুলো না দেওয়ায় আমার ভাড়া করতে হয়েছে বাইরে থেকে। আমি কাগজপত্র দিয়েই বাড়তি খরচের ব্যাখ্যা দেব। ’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হকি কর্মকর্তা টুর্নামেন্ট কমিটির সম্পাদক মামুনুর রশীদকেও আসামির কাঠগড়ায় তুলতে চাইছেন। তাঁদের অভিযোগ, ‘মামুন নিজে বিভিন্ন কাজের সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলেন। যেমন প্লেয়ার্স টেন্ট বানানোর কাজসহ টিভি সম্প্রচারের জন্য টাওয়ার তৈরি ইত্যাদি কাজ তিনি করেছেন। তাই উপ-কমিটিগুলোর বেসামাল খরচে তিনি লাগাম দিতে পারেননি। ’ এসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে মামুনুর রশীদ বলেছেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ঠিকাদার দিয়ে প্লেয়ার্স টেন্ট তৈরি করে দিয়েছে। আসলে এত বড় এক টুর্নামেন্ট ভালোভাবে তুলে দেওয়ার পর কেউ একটা ধন্যবাদও দেয়নি। এখন উল্টো লেগেছে আমার পেছনে। ’    

এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে হয়েছে অনেক নাটক। নায়ক হিসেবে এসেছিলেন এশিয়ান হকি ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী তৈয়ব ইকরাম। তাঁকে সেবা দেওয়া এবং খুশি করতে দুই সহসভাপতি যেন এক শ মিটার দৌড় শুরু করেছিলেন। আর নায়ক হাতে সার্টিফিকেট নিয়ে ঘুরেছেন, সেবায় তুষ্ট হলে সার্টিফিকেট দিয়ে প্রতিদান দিয়েছেন। শোনা যায়, কেউ আট লাখ টাকার উপহার সামগ্রী দিয়েছেন তাঁর আনুকূল্য পেতে, কেউ-বা দিয়েছেন তাঁর স্ত্রীর জন্য ১২ লাখ টাকার ডায়মন্ড সেট! মাঠের খেলার চেয়ে এসব নাটকই ছিল এশিয়া কাপের বড় আকর্ষণ।


মন্তব্য