kalerkantho


হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : কিশোরীরাও শিখে ফেলছে ফুটবল খেলা! দুই বছর আগেও অনূর্ধ্ব-১৪ বছর বয়সী স্কুল পড়ুয়াদের কাছে ফুটবল ছিল উড়িয়ে মারার বস্তু। এখন কী সুন্দর তারা খেলছে।

সতীর্থকে পাস দিচ্ছে, বল নিয়ন্ত্রণে রাখছে, পায়ে বল না থাকলে জায়গা নিচ্ছে। উপভোগ করার মতোই একটি ফাইনাল হয়েছে জেএফএ কাপ অনূর্ধ্ব-১৪ ফুটবলের, যেখানে ঠাকুরগাঁও জেলাকে ৩-০ হারিয়ে ময়মনসিংহ জেলা হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

ময়মনসিংহের মেয়েরা ফুটবল খেলাটা একটু বেশি ভালোই খেলে। মাঠের খেলায় সব সময় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকে। তাদের ঐতিহ্য এবং টানা তিনবারের শিরোপা জয়ই বলে দেয় আধিপত্যের কথা। বিশ্ব মহিলা ফুটবলের আমেরিকা-জার্মানির মতোই। কৃতিত্বটা ময়মনসিংহের হলেও আসল কারিগর কলসিন্দুর গ্রাম। যেন মহিলা ফুটবলের তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আমেরিকারই কোনো এক প্রত্যন্ত জায়গা, যারা ফুটবলটাকে ধ্যান-জ্ঞান করেই এগোচ্ছে। এই দলেও কলসিন্দুর হাই স্কুলের ১৫ জন আছে, বাকি তিনজন নান্দাইলের।

তাদের কাছে গোল যেন পৃথিবীর সহজতম জিনিস, মাঠে নামলেই প্রতিপক্ষকে গোলের মালা পরিয়ে বিদায় দেয়। কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের ফাইনালেও তা-ই হয়েছে, প্রথমার্ধেই ঠাকুরগাঁওয়ের জালে তিনবার বল পাঠিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে তারা ফুটবলে ঢের এগিয়ে। ১০ মিনিটে শুরু করেছে রোজিনা আক্তার। ডি-বক্সে সালমা নিজেই শট নিতে পারে পোস্টে, না নিয়ে গোল নিশ্চিত করতেই যেন ঠেলে দিল রোজিনার পায়ে। এ দেশের কিশোরীর মাথায়ও ফুটবল বোধ কত প্রখর। ১৬ মিনিটে লং বল ধরে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া রোজিনা গোলরক্ষককে বাইরে টেনে এনে পাশ দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের জালে পৌঁছে দেয় বল। ফাইনালের দুই গোলসহ চূড়ান্ত পর্বের তিন ম্যাচে করেছে সে ১৪ গোল! প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে শামসুন্নাহারের তৃতীয় গোলে আসলে ম্যাচ শেষ হয়ে যায়।

দ্বিতীয়ার্ধে ঠাকুরগাঁও একটু গুছিয়ে খেলে প্রতিপক্ষের গোলে বাঁধ দিয়েছে, এটুকুই তাদের কৃতিত্ব। এর পরও ময়মনসিংহের কোচ সালাহউদ্দিনের একটু আক্ষেপ রয়ে গেছে, ‘আমাদের পাঁচ গোলে জেতা উচিত ছিল। কয়েকজন খেলোয়াড় পরীক্ষা শেষ করে ময়মনসিংহ থেকে খেলতে আসায় তারা ক্লান্ত ছিল। তাই প্রথমার্ধের মতো চাপ দিতে পারেনি পরে। ’ এরপর আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন বাফুফের মহিলা ফুটবল কমিটিকে, ‘বাফুফে এমন সময় চূড়ান্ত পর্বের খেলা দিয়েছে যখন দেশজুড়ে জেএসসি পরীক্ষা চলছে। এ জন্য আমাদের সাতজন ভালো খেলোয়াড় সেমিফাইনালসহ দুটি ম্যাচ খেলতে পারেনি। অথচ আমরা বাফুফেকে লিখিতভাবে জানিয়েছিলাম, এই পরীক্ষার সময়টাকে এড়ানোর জন্য। তারা এটা কানে তোলেনি। ’ পরীক্ষার সময় খেলা দিয়েও ঠেকাতে পারেনি ময়মনসিংহের শিরোপা। আর এই শিরোপা উৎসর্গ করা হয়েছে রোজিনা-শামসুন্নাহারদের অকালপ্রয়াত ফুটবল-বন্ধু সাবিনা ইয়াসমিনের জন্য। শিরোপার ট্রফি নিয়ে সাবিনার মায়ের কাছে যাওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে বিজয়ী দল।


মন্তব্য