kalerkantho


মেক্সিকোর স্মৃতি নিয়ে রাশিয়ায় ‘টেলস্টার ১৮’

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মেক্সিকোর স্মৃতি নিয়ে রাশিয়ায় ‘টেলস্টার ১৮’

১৯৭০ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপেই প্রথম অফিশিয়াল বল তৈরির দায়িত্ব পেয়েছিল অ্যাডিডাস। এরপর অনেকগুলো বিশ্বকাপেই জার্মান এই ক্রীড়াসামগ্রী নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বকাপের ম্যাচবল তৈরি করেছে।

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে জাবুলানি, ব্রাজিলে সবশেষ বিশ্বকাপে ব্রাজুকা। রাশিয়া বিশ্বকাপেও বল তৈরি করবে অ্যাডিডাসই। এবারের বিশ্বকাপ বলে অ্যাডিডাস ফিরিয়ে এনেছে সেই ১৯৭০ বিশ্বকাপের বল ‘টেলস্টার’ এর স্মৃতি। তবে একুশ শতকের বাস্তবতা মাথায় রেখে রিমিক্সের মতো ‘রিইমাজিন’ করা হয়েছে রাশিয়া বিশ্বকাপের বল, প্রয়োগ করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। তাই নতুন এই বলের নাম রাখা হয়েছে ‘টেলস্টার ১৮’।

সাদাকালো টেলিভিশনে খেলা দেখার সুবিধার জন্য সাদা ও কালো রঙের প্যানেলের টেলস্টার বল তৈরি করেছিল অ্যাডিডাস, সেই ১৯৭০ সালে। সেই স্মৃতি ধরে রাখতেই নতুন বলের এই নামকরণ। শুনতে রকেট বা কৃত্রিম উপগ্রহের নামের মতো হলেও টেলস্টার ১৮ আসলে ফুটবলই। তবে নামের মতো কাজেও বেশ প্রযুক্তির বাহার দেখা যাবে অ্যাডিডাসের নতুন এই বলে।

টেলস্টারে ব্যবহৃত হয়েছে ‘নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন’ বা ‘এনএফসি’ প্রযুক্তি, যেটা ব্যবহৃত হয় স্মার্টফোনসহ অনেক ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশেই। ই-টিকেট, স্মার্টকার্ড, মোবাইল পেমেন্টসহ নানা পরিসেবায় ব্যবহৃত এই প্রযুক্তি যোগ হচ্ছে বলে। এর মাধ্যমে বলের অবস্থান নির্ভুলভাবে নিরূপণ করা সম্ভব হবে। ২০১৮ বিশ্বকাপ থেকেই বিশ্বকাপে চালু হবে ভিডিও রেফারিং, যার সফল পরীক্ষা হয়েছে কনফেডারেশনস কাপেও। তাই বল গোললাইন অতিক্রম করল কি না, সেটা নিখুঁতভাবে জানান দেবে টেলস্টার ১৮। অ্যাডিডাসের ফুটবল যন্ত্রাংশ বিভাগের পরিচালক রোনাল্ড রমলার তাই নির্দ্বিধায় বললেন, ‘এনএফসি চিপ এবং ফুটবলের নকশা খেলাটিকে একটা অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে, এটা খেলোয়াড় ও ভোক্তাদের জন্য হবে নতুন এক অভিজ্ঞতা। ’

জাবুলানি বল নিয়ে খানিকটা উষ্মা ছিল খেলোয়াড়দের। এ রকম কোনো সমস্যা যাতে না হয়, সে জন্য বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের দিয়ে বলটির পরীক্ষা করানো হয়েছে বলেই অ্যাডিডাসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন ব্রিটিশ সংবাদপত্র মিররকে। তিনিই জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, কলম্বিয়া, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আয়াক্স—এমন অনেক জাতীয় ও ক্লাব দলকেই অ্যাডিডাস যুক্ত করেছে বলটির প্রস্তুত প্রক্রিয়ার সঙ্গে।

জাবুলানিতে ছিল ত্রিভুজ নকশা, ব্রাজুকায় ছিল সর্পিল। তবে টেলস্টার ফিরিয়ে আনছে ফুটবলের ‘রেট্রো লুক’, সাদা ও কালো রঙের ৩২টি প্যানেল। তবে প্রস্তুত প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে আধুনিক পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। মোড়কটা পুনরায় ব্যবহারযাগ্য। সত্তরের বিশ্বকাপে টেলস্টারে পা ছুঁইয়ে ছিলেন পেলে, জার্ড মুলার, ববি মুরের মতো কিংবদন্তিরা। রাশিয়া বিশ্বকাপে লিওনেল মেসি, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, নেইমাররাও পা ছোঁয়াবেন নতুন রূপের টেলস্টার ১৮ বলে। মেসি অবশ্য এরই মধ্যে পরখ করে নিয়েছেন নতুন বলটা, ‘একটু আগেভাগেই বলটা পরখ করে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। আমার কাছে ভালো লেগেছে; নকশা, রং সব কিছুই। ’ আর এই বলটা গোলে পাঠাতে যে আরো ভালো লাগবে, সেটা নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না! ফিফা, মিরর


মন্তব্য