kalerkantho


কাটছে না কারো বিস্ময়ের ঘোর

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



কাটছে না কারো বিস্ময়ের ঘোর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তাঁর সম্পর্ক ছিল সরাসরি বিসিবি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। চন্দিকা হাতুরাসিংহের হঠাৎ পদত্যাগে বিস্মিত তিনিও।

এ দেশের ক্রিকেটের অন্দরমহলে আরেকজনের সঙ্গে ভীষণ ঘনিষ্ঠতা ওই লঙ্কান কোচের—খালেদ মাহমুদ। বিসিবির এই পরিচালকও লুকাতে পারছেন না বিস্ময়। এমন দুম করে কেন পদত্যাগ করতে চাইবেন হাতুরাসিংহে?

‘খুব অবাক হয়েছি। দক্ষিণ আফ্রিকা গিয়ে পাঁচ দিন থেকেছি, তখন এমন কোনো কথাই হয়নি। কাল হাতুরাসিংহের পদত্যাগের কথা শুনে তাই অনেক অবাক হয়েছি’—কাল শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম চত্বরের একাডেমিতে দাঁড়িয়ে বলছিলেন এই বিসিবি পরিচালক। বিপিএলের দল ঢাকা ডায়নামাইটসের প্রধান কোচও যিনি। কারণ জানতে হাতুরাসিংহের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার খবরও জানান তিনি, ‘গতকাল ফোনে আমিও চেষ্টা করেছি। ফোন বন্ধ ছিল। হয়তো কিছুদিন পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

তবে কেউ যদি চলে যেতে চায়, তাহলে তাকে আটকে রাখা সম্ভব নয় আমাদের পক্ষে। ’

লঙ্কান কোচের হঠাৎ পদত্যাগের সম্ভাব্য কারণ নিয়ে চলছে সুলুকসন্ধান। ক্রিকেটারদের ওপর মুঠি আলগা হয়ে যাওয়াকে সম্ভাব্য এক কারণ হিসেবে আগের দিন দাঁড় করাতে চেয়েছেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট। বোর্ড পরিচালক মাহমুদ অবশ্য সে পথে হাঁটলেন না, ‘খেলোয়াড়রা কোচকে মানতে চান না, এমন কিছু দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়ে আমি পাইনি। পরিবারে অনেক সময় অনেক কিছু হয়। সিনিয়র খেলোয়াড় যারা আছে তারা অনেক দিন ধরে খেলছে, তাদের কিছু মতামত হয়তো থাকে। অনেক সময় একাদশ বানাতে গিয়ে কারো সঙ্গে কারো দ্বিমত হতে পারে। সেটা খুব স্বাভাবিক ঘটনা। ওই রকম বড় কিছু আমি কখনো দেখিনি। ’ আর হাতুরাসিংহের পদত্যাগে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইমেজ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না বলেও দাবি তাঁর, ‘বোর্ডের পক্ষ থেকে এতটুকু বলতে পারি, কোচকে যতটুকু সমর্থন করার, বিসিবি করেছে। আমি মনে করি না হাথুরুসিংহে এমন কিছু বলবে যার কারণে বোর্ডের ইমেজ ক্ষুণ্ন হবে। ’ এরপর তিনি চোখ রাখছেন বাস্তবতায়, ‘টেস্ট খেলুড়ে দেশ হওয়ার পর বাংলাদেশে অনেক কোচ আসছে, অনেকে চলে গেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট কিন্তু তার পথ হারায়নি, এগিয়ে গেছে। আশা করি, সামনে আমরা আরো এগিয়ে যাব। ’

সেই এগিয়ে চলার পথে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ কোচ হিসেবে বাতাসে ভাসছে মাহমুদের নাম। এ নিয়ে প্রশ্নে প্রত্যাশিতভাবেই নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখলেন মাহমুদ, ‘এটা তো আমি জানিই না। আমার নাম আসছে, আজকে শুনলাম একজনের কাছ থেকে। এটা আসলে সময়ের ব্যাপার।   বোর্ডসভাতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। আমরা ভালো কোচের দিকেই যাব। ’ তবে দায়িত্ব পেলে চ্যালেঞ্জটা গ্রহণ করায় নিজের প্রস্তুতির আগাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন তিনি, ‘দায়িত্বটা পাব কিনা জানি না। যদি পাই, তাহলে চেষ্টা করব ভালোভাবে করতে। এই মুহূর্তে আমি মনে করি আমি পুরোপুরি প্রস্তুত। ’ বিসিবি প্রেসিডেন্ট আগের দিনই বলেছেন, স্থায়ী কোচ হিসেবে বিদেশি কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া হবে। মাহমুদ অবশ্য দেশি কোচের পক্ষে, ‘আমি অনেক আগে থেকেই বলি, আমাদের দেশি কোচের প্রয়োজন আছে। আমাদের স্থানীয় কোচদের মধ্যে অনেকেই আছে আত্মবিশ্বাসী এবং অনেক বেশি যোগ্য। আসলে এটা সময়েই বলে দেবে কী হবে। ’

এদিকে সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ পদত্যাগ প্রসঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন হাতুরাসিংহের পেশাদারিত্ব নিয়ে, ‘বিদেশি কোচ আসবে, তারা সারা জীবন থাকবে না, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যেভাবে সে পদত্যাগপত্র দিয়েছে, এটা পেশাদার ছিল না। কারণ বোর্ডের সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। তিনি পৃথিবীর অন্যতম সর্বোচ্চ বেতনভুক্ত কোচ, এ ছাড়া তার অনেক কর্তৃত্ব ছিল। চুক্তি শেষের আগে এমন হঠাৎ করে পদত্যাগ না করে আগে জানালে আমাদের জন্য ভালো হতো। ’ হাতুরাসিংহের হঠাৎ পদত্যাগে বিস্মিত জাতীয় দলের বর্তমান ক্রিকেটাররাও। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন যেমনটা, ‘সিদ্ধান্তটি আসলে অবাক করার মতো। দক্ষিণ আফ্রিকায় আমাদের কাছে ওইভাবে কখনো মনে হয়নি যে উনি চলে যাচ্ছেন। আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। ’ আর উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান এ সিদ্ধান্তকে দেখছেন পেশাদারি দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘একজন যাবে। একজনের জায়গায় আরেকজন আসবে, সেটাই স্বাভাবিক। আর আমাদের দলে এখন অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার রয়েছেন। মাশরাফি ভাই, সাকিব ভাই, মাহমুদ উল্লাহ ভাই, তামিম ভাই, মুশফিক ভাই। এই সিনিয়ররা অনেক কিছু জানেন, আশা করছি নতুন কোচ এলে আমাদের কোনো সমস্যা হবে না। ’


মন্তব্য