kalerkantho


জয়ে ফিরতে মরিয়া রংপুর

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



জয়ে ফিরতে মরিয়া রংপুর

রণকৌশল : হেড কোচ টম মুডি যখন গলা ভিজিয়ে নিচ্ছেন, তখন রংপুর রাইডার্সের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার অঙ্গভঙ্গিই বলে দিচ্ছিল কতটা সিরিয়াস তিনি। সেটি খুব স্বাভাবিকও। চিটাগং ভাইকিংসের কাছে হারের পর জয়ে ফিরতে তো তাদের মরিয়াই হওয়ার কথা। ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ফিকশ্চারটা এমন গোলমেলে যে সপ্তাহ না ঘুরতেই আবার দেখা হয়ে যাচ্ছে এক দলের সঙ্গে আরেক দলের। ৪ নভেম্বর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস ও স্বাগতিক সিলেট সিক্সার্সের ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল আসর।

উদ্বোধনী দিনেই সন্ধ্যার ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রংপুর রাইডার্স-রাজশাহী কিংস। এবার আজ থেকে শুরু হতে যাওয়া ঢাকা পর্বের প্রথম দিনেও আবার তারা একে অন্যের মুখোমুখি। পার্থক্য বলতে ঢাকা-সিলেট ম্যাচটি চলে গেছে সন্ধ্যায় আর রংপুর-রাজশাহী দুপুরে।

খুব দ্রুত দেখা হয়ে গেলেও এই দুটি ম্যাচকে ঘিরে অবশ্য কম আকর্ষণও জিইয়ে নেই। নিরঙ্কুশ ফেভারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট শুরু করা ঢাকা ডায়নামাইটস যে উদ্বোধনী ম্যাচেই রীতিমতো উড়ে গিয়েছিল আন্ডারডগ সিলেট সিক্সার্সের সামনে। আর ইংল্যান্ড দলে তাঁর সাবেক সতীর্থ লুক রাইটের হাতে জীবন পাওয়া রবি বোপারার ব্যাটে রাজশাহী কিংসের বাধা পেরিয়ে টুর্নামেন্টে শুভসূচনা করেছিল রংপুর। ফিরতি ম্যাচে একই প্রতিপক্ষের কাছে হারের ধাক্কা সামলে কতটা ‘ফিরতে’ পারে ঢাকা কিংবা রাজশাহী, সেটিই ম্যাচ দুটিকে আরো জমজমাট করে তোলার পক্ষে যথেষ্ট।

সিলেট পর্বের শেষ দিনে চিটাগং ভাইকিংসের কাছে হারা রংপুর অবশ্য জয়ে ফিরতেও কম মরিয়া হয়ে নেই। দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে আসা শাহরিয়ার নাফীস সেই তাগিদই অনুভব করলেন সবচেয়ে বেশি, ‘দুঃখজনকভাবে শেষ ম্যাচটিতে আমরা হেরেছি।

বোলিংয়ে শুরুটা ভালো না হলেও আমরা কিন্তু দারুণভাবে ফিরেছিলাম। ব্যাটিংও আমরা খুব ভালো করছিলাম। ওই ম্যাচে আসলে একটি ওভারেই (তাসকিন আহমেদের) আমরা হেরে গেছি। আশা করছি, পরের ম্যাচ জিতেই আমরা আবার জয়ের ধারায় ফিরব। ’ জয়টা অবশ্য এই মুহূর্তে টুর্নামেন্টের সাত দলের মধ্যে রাজশাহী কিংসেরই সবচেয়ে বেশি জরুরি। এখন পর্যন্ত একমাত্র জয়হীন দল তারা। গত আসরের ফাইনালিস্টরা হেরেছে দুই ম্যাচেই।

যদিও টানা দুই হার ভড়কে দিচ্ছে না কিংদের। এখনো বহুদূর যাওয়ার লক্ষ্যটা অটুট তাদের। সে জন্য অনুপ্রেরণার জোগানটাও তারা পাচ্ছে গত আসর থেকেই। অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ যেমন বলে গেলেন, ‘গত বছরও কিন্তু আমাদের শুরু এ রকমই ছিল। এবারও তা-ই হচ্ছে। তবে আমাদের আত্মবিশ্বাস এখনো উঁচুতেই আছে। এখনো ১০টি ম্যাচ বাকি। এখান থেকেও ঠিকভাবে খেলতে পারলে শেষ চারে যাওয়া সম্ভব। আপাতত আমাদের দরকার একটি জয়। যা আমাদের ভালো খেলার ছন্দটা ধরিয়ে দেবে। ’

রাজশাহী যখন ছন্দটা ধরতে চাইছে, তখন আজ সন্ধ্যার ম্যাচের দুই দল ছন্দেই আছে। বিশেষ করে নিজেদের ডেরায় চার ম্যাচের তিনটিতেই জেতার বিশ্বাস নিয়ে ঢাকা পর্ব শুরু করতে চলেছে নাসির হোসেনের দল। অবশ্য বিপুল দর্শক সমর্থন পেয়ে আসা সিলেটকে এবার আসতে হচ্ছে নিজেদের ‘কমফোর্ট জোন’-এর বাইরে। তা ছাড়া অন্য চ্যালেঞ্জও অপেক্ষা করে আছে তাদের জন্য। পর পর তিন ম্যাচে যথাক্রমে ১২৫, ৭৩ ও ১০১ রানের উড়ন্ত সূচনা দেওয়া উপুল থারাঙ্গা ও আন্দ্রে ফ্লেচারের উদ্বোধনী জুটি যেদিন ব্যর্থ, সেদিনই প্রথম হারের মুখ দেখেছে সিলেট। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে ওপেনিং জুটি করেছিল মাত্র ১৯ রান, দল হেরেছিল ৬ উইকেটে। ওপেনারদের ব্যর্থতা পুষিয়ে দেওয়ার প্রথম সুযোগে ব্যর্থ সিলেটের অন্য ব্যাটসম্যানরা।

সিলেট শিবির অবশ্য নিজেদের মাঠের মতো ঢাকাতেও দারুণ শুরুই চাইছে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান এসে তা জানিয়েও গেলেন, ‘সিলেটে আমরা ভালো শুরু করেছিলাম। এখানেও একই লক্ষ্য থাকবে, যেন শুরুটা ভালো করতে পারি। ঢাকা অবশ্যই ভালো এবং শক্তিশালী দল। আমাদেরও লক্ষ্য থাকবে মাঠে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার। ’ কাগজ-কলমে টুর্নামেন্টের সেরা দল ঢাকা ডায়নামাইটস অবশ্য আজ সিলেটের বিপক্ষে নামছে আরো শক্তি সঞ্চয় করেই। শিরোপা ধরে রাখার অভিযান হারে শুরু হলেও খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে পরের ম্যাচেই স্বরূপে দেখা গেছে ঢাকাকে। এভিন লুইস ও ক্যামেরন ডেলপোর্টের বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ২০২ রানের ইনিংস গড়া ঢাকার শক্তি বাড়াতে এসে গেছেন শহীদ আফ্রিদিও। মারদাঙ্গা ব্যাটিংয়ের গভীরতা বাড়াতে আজ একাদশে দেখা যেতে পারে পাকিস্তানের সাবেক এ অধিনায়ককেও। নিজেদের চেনা গণ্ডির বাইরে আসা সিলেটের জন্য আজ ঢাকার বিস্ফোরক ব্যাটিং সামলানোই হয়ে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


মন্তব্য