kalerkantho


দেখতে চাই আমরা কিভাবে ঘুরে দাঁড়াই

২৪ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



দেখতে চাই আমরা কিভাবে ঘুরে দাঁড়াই

তাঁর নেতৃত্বের ৫০তম ম্যাচটি হলো এমন সময় যখন খুব উপভোগের সুযোগ নেই। বরং ব্যাখ্যা-অজুহাত-আত্মপক্ষ সমর্থন এগুলোই থাকার কথা বেশি।

কিন্তু মাশরাফি বলে কথা! ইস্ট লন্ডনে শেষ ওয়ানডেতে ২০০ রানে হারার রাতে নিজের হোটেলরুমে বসে নোমান মোহাম্মদ-এর সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি বরং দেখালেন এই ব্যর্থতার অন্য একটা দিক। বোঝালেন, এই সময়টা থেকে বেরোনোর চ্যালেঞ্জটাও কম আকর্ষণীয় নয়। ‘অর্ধশত’ পূরণ করার উপলক্ষটাও আলোচনায় উপেক্ষিত হলো না। তাঁর নেতৃত্বের অলিগলির অনেক খবরও জানা গেল নতুন করে।

 

প্রশ্ন : ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে আপনার অধীনে ৫০টি ম্যাচ খেলল বাংলাদেশ। নেতৃত্বের এই যাত্রাটি কেমন ছিল?

মাশরাফি বিন মর্তুজা : ৫০ ম্যাচ হয়ে গেছে, সেটা আপনাদের কাছ থেকেই কাল (পরশু) জেনেছি। এই যাত্রায় উত্থান-পতন ছিল; চোটের বাধা ছিল। কয়েক দফায় নেতৃত্ব পেয়েছি; এবারই টানা অনেক দিন করতে পেরেছি। আমার কাছে এই যাত্রায় সন্তুষ্টিই বেশি।

প্রশ্ন : সব অধিনায়কেরই একটা স্বপ্ন থাকে। ৫০ ম্যাচ পূরণ করার পর কি মনে হয়, সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে?

মাশরাফি : তিন দফায় যে নেতৃত্ব পেয়েছি, এর মধ্যে প্রথমবার ছিল প্রত্যাশিত। তখন মনে হয়েছিল, অধিনায়ক বদল হলে আমারই তো পাওয়ার কথা। পরের দুইবার একেবারে অপ্রত্যাশিত। ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে ফেরার পর হুট করে যখন অধিনায়ক হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়, তখন আমার মাথার ভেতরে এসব ছিল না। স্বপ্নের কথা বললে, আমরা চেয়েছি দেশের মাটিতে ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ম্যাচ জিততে। তা মোটামুটি অর্জন করতে পেরেছি। এখন অধিনায়ক হিসেবে চ্যালেঞ্জ, দেশের বাইরে কত ম্যাচ জিততে পারি।

প্রশ্ন : ২০১৪ সালে বাংলাদেশ ক্রিকেটের খুব খারাপ সময়ে ওয়ানডে অধিনায়ক হন। অধিনায়ক হিসেবে পেছনে চোটের ইতিহাস, সামনে কয়েক মাস পরই আবার বিশ্বকাপ। ব্যাপারটি নিশ্চয়ই খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল?

মাশরাফি : অবশ্যই। আমার এই দফা নেতৃত্বের প্রথম ম্যাচে ৩১ রানে তিন উইকেট পড়ে যায়। এরপর সাকিব সেঞ্চুরি করে; রুম্মান (সাব্বির রহমান) অভিষেক ম্যাচে অপরাজিত ৪৪ রান করে। আমার মনে হয়, চ্যালেঞ্জটা ওই প্রথম ম্যাচেই আমি অনুভব করে ফেলি।

প্রশ্ন : দায়িত্ব নেওয়ার সময় কি ভেবেছিলেন, মাস কয়েক পরের বিশ্বকাপে বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে? কিংবা পরের সিরিজগুলোতে পর পর হারাবে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকাকে?

মাশরাফি : এটা অনেক বেশি ভালো লাগার ব্যাপার ছিল। কিন্তু আমি আপনাদের একটা কথা সব সময় বলতাম—খারাপ সময় যখন আসবে, তখন আমরা কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাই, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। এখন যে খারাপ সময় এসেছে, তা অবধারিতভাবেই কখনো না কখনো আসত। পৃথিবীর সব বড় দলেরই এসেছে। এখন অধিনায়ক হিসেবে আমি এই জিনিসটাই দেখতে চাই, এখান থেকে কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারি।

প্রশ্ন : কিন্তু শুরুটা অত ভালো হওয়ায় প্রত্যাশা কি বেড়ে গিয়েছিল না?

মাশরাফি : এটি তো অস্বীকারের সুযোগ নেই। প্রত্যাশাটা প্রথমে নিজের কাছেই তৈরি হয়। এই দলকে যখন আপনি জিততে দেখবেন, তখন হার মেনে নিতে পারবেন না।

প্রশ্ন : ক্রিকেটের মতো নিজের পরিবার অথবা বন্ধুমহলেও আপনার আচরণ অধিনায়কের মতো। এই নেতৃত্বগুণ কি সহজাত?

মাশরাফি : দেখুন, কেউ কিছু পছন্দ না করলে আমি কখনো তা চাপিয়ে দিই না। সব সময় অন্যের জন্য ‘কমফোর্ট জোন’ তৈরি করতে চাই। এই চর্চা পরিবারে করি, মাঠেও করি। আর নেতৃত্বে আপনার নিজস্বতা থাকতে হবে। পরিবর্তন করলে তা মেকি হয়ে যাবে। মানুষের কাছে ধরাও খাবেন। ওরা ভাববে, আমি নতুন কিছু করতে চাচ্ছি। আমি নেতৃত্ব পাওয়ার পর ভেবেছি, নিজের মতো করেই যতটুকু করতে পারি, করব। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে সিরিজের আগে ভেবেছি যে, আমরা জিততে পারব। কিন্তু তারপর? সামনে বিশ্বকাপ, পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ। আমি ওই সময়ে যদি তাকিয়ে দেখতাম, নিশ্চিত যে, তত দিন বাংলাদেশ ক্রিকেটে অধিনায়কত্ব করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না। কারণ এসব দলের বিপক্ষে হেরে গেলে হয় আমি নেতৃত্ব থেকে সরে যেতাম অথবা আমাকে সরিয়ে দেওয়া হতো। এ কারণেই আমি ম্যাচ ধরে ধরে এগোতে চেয়েছি। সিরিজ ধরে ধরে।

প্রশ্ন : জাতীয় দলের ভবিষ্যতের জন্য কার মধ্যে নেতৃত্বগুণ দেখেন বেশি?

মাশরাফি : গত তিন বছর বাংলাদেশকে টানা নেতৃত্ব দিতে গিয়ে মনে হয়েছে, কাউকে বাংলাদেশের অধিনায়ক হতে হলে তাকে অনেক ধৈর্যশীল হতে হবে। কারণ, চারপাশের মানুষরা সবাই খুব অধৈর্য। আর খেলাটা এমনই যে, ভালো পারফরম করলে প্রত্যাশা অনেক বেড়ে যাবে। আবার খারাপ করলে প্রচণ্ড সমালোচনা হবে। এখন যেটি হচ্ছে। এসব মেনে নিয়েই প্রচণ্ড ধৈর্য ধরে এগোতে হয় অধিনায়ককে।

প্রশ্ন : আপনার অধিনায়কত্বের অনুপ্রেরণাদায়ী অংশটি নিয়েই চর্চা চলে বেশি। অথচ ২০১৪ সালে অধিনায়ক হওয়ার পর ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বোলোরদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫৮ উইকেট আপনার। এ নিয়ে আলোচনা হয় কমই। অধিনায়ক মাশরাফির ছায়ায় এই যে বোলার মাশরাফির ঢাকা পড়া—তাতে একটু আক্ষেপ কি হয়?

মাশরাফি : আমি ভালো করলেও কেউ কিছু বলছে না, এটা কোনো ব্যাপার নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দল ঠিক পথে এগোচ্ছে কি না। অধিনায়ক হিসেবে সেটিই মূল কাজ। বোলার মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনা হচ্ছে কি না, তা কখনো আমার মাথায়ই আসেনি। এটা বরং একদিক দিয়ে ভালো। কেন, তার উত্তর হয়তো আমি জানি না। পাশাপাশি এ-ও তো ঠিক, মানুষ আমাকে কম ভালোবাসা দেয়নি। সেটি অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

প্রশ্ন : অধিনায়ক হিসেবে অনেক স্যাক্রিফাইসও তো করতে হয়েছে। যেমন নতুন বল ছেড়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য?

মাশরাফি : এটা আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। বলতে পারেন, নতুন বল ছেড়ে নিজের ক্যারিয়ার শেষ করে দেওয়ার পদক্ষেপ নিই আমি। কিন্তু অধিনায়ক হিসেবে মনে হয়েছে, নতুন বলে উইকেট পাওয়ার সামর্থ্য মুস্তাফিজের আছে। এর ফলও পেয়েছি। রোহিত শর্মাকে যেমন কয়েকবার দ্রুত আউট করে দেয় ও। অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার অর্জন। পরে মনে হয়েছে, নতুন বল ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সময় আমি অনেক সৎ ছিলাম।

প্রশ্ন : অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে ভালো আর সবচেয়ে কঠিন সময় কোনটি?

মাশরাফি : সবচেয়ে কঠিন এই সময়টা। দল যেহেতু হারের ভেতর আছে। নিউজিল্যান্ডে হারলেও সেখানে সম্ভাবনা অনুযায়ী কিছুটা খেলতে পেরেছি। দক্ষিণ আফ্রিকায় তা পারিনি মোটেই। আমার কাছে এই সময়টা আবার বেশ রোমাঞ্চকরও। কারণ এখান থেকে বের হয়ে আসতে পারলে যে শান্তিটা লাগবে, ভালো সময় চলতে থাকলে তা কখনো বুঝতে পারতাম না। অধিনায়ক হিসেবে আরেক হতাশার সময় ইংল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারা। আফগানিস্তানের কাছে প্রথম ওয়ানডে হারা। চিন্তাই করতে পারিনি যে, এই ম্যাচগুলো হারব। আর ভালো স্মৃতি তো অসংখ্য। বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা, ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকাকে আমাদের দেশে হারানো। এরপর এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল খেলা।

প্রশ্ন : অধিনায়ক হিসেবে কোনো সিদ্ধান্তের কথা মনে করতে পারেন, যা খুব তৃপ্তি দিয়েছে?

মাশরাফি : অনেকগুলো আছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে চট্টগ্রামের তৃতীয় ওয়ানডেতে দুটি সিদ্ধান্ত ছিল। আমি প্রথম ২ ওভারে ১০ রান দিই, তবু নিজেকে বদলে বোলিংয়ে নিয়ে আসি সাকিবকে। ও ওর দ্বিতীয় ওভারেই পায় ফাফ দু প্লেসিসের উইকেট। ওই ম্যাচেই পরে একটা সময় রিয়াদকে (মাহমুদ উল্লাহ) বোলিংয়ে আনার কোনো কারণ ছিল না। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয়েছে ও উইকেট নিতে পারবে। ঠিকই রাইলি রুশোকে আউট করে দেয়। আরেকটি সিদ্ধান্ত ছিল, এবার চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের ৪২তম ওভারে মোসাদ্দেককে ম্যাচে প্রথমবারের মতো বোলিংয়ে আনা। তিন ওভারে ১৩ রান দিয়ে তিন উইকটে নেয় ও।

প্রশ্ন : অধিনায়কের ভূমিকা কি বোলার হিসেবে আপনাকে সহায়তা করেছে?

মাশরাফি : যখন বোলিং করি, তখন ভুলে যাই যে আমি অধিনায়ক। এটা বলা সহজ, করা এত সহজ নয়। আমি খুব ভাগ্যবান যে, তা আমার ভেতরে আছে। যখন বসে থাকি, আমার মধ্যে দুটি ব্যাপার কাজ করে। একটি হচ্ছে আমার নেতৃত্ব নিয়ে ভাবা, আরেকটি নিজের বোলিং নিয়ে ভাবা। আলাদা ভাবে দুই ব্যাপারেই সময় দিতে হয়।

প্রশ্ন : প্রথম দফা অধিনায়কত্বে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে পেয়েছেন জেমি সিডন্সকে। এবার বড় সময়টা জুড়ে চন্দিকা হাতুরাসিংহকে। তাঁদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?

মাশরাফি : দুজন আসলে দুই রকম। সিডন্সের সময়ে যখন নেতৃত্ব পাই, তখন একটি ঘটনা ঘটে। দল নিয়ে ইংল্যান্ডের মাটিতে পা রাখার পরই দলের একজন জানাল, সিডন্স নাকি সাক্ষাৎকারে বলেছে, ‘মাশরাফিকে কেন অধিনায়ক করা হয়েছে, আমি জানি না। ’ সেটি আমার জন্য একটা ধাক্কা ছিল। মনে হয়েছে, কী অধিনায়ক হলাম, কোচই জানে না! হয়তো-বা সে আমাকে সেভাবে গ্রহণ করছে না। আর এবারেরটা তো আগেই বলেছি, আমি হুট করে অধিনায়ক হয়েছি। হাতুরাসিংহে তখন অনেক ইতিবাচক কথা বলেছেন। বলেছেন, ‘এই খারাপ সময় থেকে দলকে তুমি বের করে আনতে পারবে। ’ প্রথমবার দায়িত্ব পাওয়ার পর সিডন্সের কথা শুনে অধিনায়ক হিসেবে পা নড়বড়ে হয়ে যায়। এবার পরিস্থিতি অন্য রকম। কোচের কথায় মনে হয়েছে, আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে; এখন দলকে পরিবর্তন করে দিতে হবে।

প্রশ্ন : অধিনায়ক হিসেবে নিজের সিদ্ধান্তে কাউকে খেলিয়েছেন, পরে সে খুব ভালো করেছে—এমন ঘটনাও নিশ্চয়ই আছে?

মাশরাফি : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সম্ভবত এমন হয়েছে; রিয়াদকে নিয়ে। আগের সিরিজে ওর আঙুল ভেঙে যায়। সেরে উঠতে অনেক দিন সময় লাগছিল। ওকে খেলানো নিয়ে সবাই তখন দ্বিধায়। আমি কথা বলি রিয়াদের সঙ্গে। ও বলে, খেলতে পারব। তখন ওকে পুরোপুরি বিশ্বাস করি। রিয়াদকে খেলাই এবং সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মিলারের উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি করে ৫০ রান। সেটা  আমার জন্য আনন্দদায়ক ছিল খুব।

প্রশ্ন : এবার অধিনায়ক হওয়ার পর প্রায় তিন বছরে কোনো ইনজুরি হয়নি। এদিক থেকে নিজেকে কি একটু ভাগ্যবান মনে হয়?

মাশরাফি : শুধু ক্রিকেট না, আমার ৩৫ বছরের গোটা জীবনটাই ভাগ্যের ওপর। এটি প্রথম বুঝি যখন পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় তিনতলা থেকে নিচে পড়েও বেঁচে যাই। পড়ার পর দেখি, আমার ঠিক পাশেই একটা পাথরের দলা। ওখানে পড়লেই মারা যেতাম। তখন থেকেই আমার মনে হয়, দুনিয়া ভাগ্যের ওপর চলে। জন্ম-মৃত্যুই যখন ভাগ্যের ওপর, তখন ক্রিকেট-ইনজুরি এসবে তো কথাই নেই।

প্রশ্ন : অধিনায়কত্বে কোনো আদর্শ আছে?

মাশরাফি : না।

প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলে যত দিন খেলবেন, অধিনায়ক হিসেবেই খেলতে চান?

মাশরাফি : খুব কঠিন প্রশ্ন। কখনো মনে হয়, অধিনায়কত্ব ছেড়ে খেলে দেখি। সেটি হবে আরেক চ্যালেঞ্জ। আবার কখনো মনে হয়, যেভাবে চলছে, চলুক। এগুলোর আসলে কোনো ঠিক নেই। কোনো স্থির পরিকল্পনা নেই।

প্রশ্ন : ওয়ানডে অধিনায়কত্বের ফিফটি হয়ে গেল। সেঞ্চুরি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা?

মাশরাফি : আমার কাছে মনে হয় না।

প্রশ্ন : অধিনায়ক হিসেবে সর্বোচ্চ স্বপ্নের কোনো লক্ষ্য?

মাশরাফি : প্রথম লক্ষ্য যা ছিল, তা অনেকটাই সফল। দলের সবাই মিলে দেশের মাটিতে ৮০ শতাংশের বেশি ম্যাচ জিততে চেয়েছি। তা পেরেছি। এখন লক্ষ্য দেশের বাইরের ম্যাচ জেতা। এখানে এত তাড়াতাড়ি সফল হওয়া যাবে না। কারণ চ্যালেঞ্জটা আরো বড়।

প্রশ্ন : আপনার অধীনে বাংলাদেশ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছে; চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সেমিফাইনালে। বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন দেখেন না?

মাশরাফি : বৈশ্বিক শিরোপা জেতা ভালো অধিনায়ক বা ভালো দলের মানদণ্ড বলে আমি মনে করি না। তাহলে দক্ষিণ আফ্রিকা কখনো ভালো দল হতে পারে না। আমি তাই বৈশ্বিক শিরোপার কথা না ভেবে ভালো একটি দল তৈরি করতে চাই। যারা দেশে ভালো খেলবে; বাইরেও ভালো। দেশে তো আমরা ভালো খেলছিই; এখন বাইরে জিততে শুরু করাই চ্যালেঞ্জ।


মন্তব্য