kalerkantho


প্রবাসী জুনায়নায় রেকর্ড ভেঙে তছনছ

২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



প্রবাসী জুনায়নায় রেকর্ড ভেঙে তছনছ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : উচ্চতা ও শরীরের শক্তপোক্ত গড়নে স্টার্টিং ব্লকে দাঁড়ানো জুনায়না আহমদেকে অনায়াসে আলাদা করা যাচ্ছিল অন্যদের চেয়ে। সাঁতার শুরু হতে এই মেয়ে আরো বড় পার্থক্য গড়ে দিল তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে।

৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলে সে যখন শেষ ৫০ মিটারের জন্য ঘুরছে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা ‘সেরা সাঁতারু’ ক্যাম্পের ফাতেমা আক্তারের তখন কেবল ৩০০ মিটার শেষ হয়েছে। জুনায়না ফিনিশিং প্যাড ছুঁলো নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে পুরো এক লেন পেছনে রেখেই। বয়সভিত্তিক সাঁতারে কাল যাঁরা এই ইভেন্টটি দেখছিলেন তাঁদের মধ্যে বিস্ময় নেই। সেই বিস্ময় জুনায়না ভেঙে দিয়েছে এর আগের দুই ইভেন্টেই। যেখানে বয়সভিত্তিক আসরের নতুন জাতীয় রেকর্ড শুধু নয়, ১৪ বছরের এই কিশোরী তছনছ করে দিয়েছে জাতীয় সিনিয়র রেকর্ডও।

এক লেন ব্যবধান রেখে জেতা—৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইলেও হয়েছে তা। ১৫-১৭ বছর গ্রুপে ২০১২ সালে গড়া নাজমা খাতুনের রেকর্ড তো ভাঙলই, ভেঙে গেল তাঁর গত বছর সিনিয়র সাঁতারে গড়া রেকর্ডটাও। নাজমার টাইমিং ছিল ৫:০৭.১০। জুনায়না কাল শেষ করেছে ৫:০০.৭৮-এ।

এর আগে ১০০ মিটার ফ্রিস্টাইলেও সে নাজমার সিনিয়র রেকর্ড ভেঙেছে, ২০০ মিটার ইনডিভিজুয়াল মিডলেতে ভেঙেছে রুমানা আক্তারের সিনিয়র রেকর্ড। তার মানে বয়সভিত্তিক সাঁতারে পুলে নেমেই জুনায়না এখন ১০০, ৪০০ মিটার ফ্রিস্টাইল ও ২০০ মিটার আইএমের দেশসেরা। সাঁতারপুলে একেবারে হঠাৎ করে এই জলকন্যার আবির্ভাব। দুদিন আগেও তাঁকে কেউ চিনত না, চিনবে কী করে জুনাইনা যে লন্ডনপ্রবাসী, বার্কিং ডাগেনহাম সুইমিং ক্লাবের সাঁতারু, লন্ডন চ্যাম্পিয়নশিপ, অ্যাসেক্স চ্যাম্পিয়নশিপে তার প্রতিযোগিতা করা হয়ে গেছে। বাবা জুবায়ের আহমেদের স্বপ্ন সত্যি করতেই এবার সে ঢাকায়। ১৪ বছর বয়সে যেসব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে, তাকে নিয়ে সাঁতার ফেডারেশনেও এখন চাপা উত্তেজনা। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোল্লা বদরুল সাইফ তো আগামী এসএ গেমসেরও হিসেব কষে ফেলেছেন, ‘এত অল্প বয়সে এমন ভালো মানের সাঁতারু... ওকে আমরা ছাড়তে পারি না। আগামী এসএ গেমসেই আশা করি ওকে আমরা খেলাতে পারব। আমাদের এখানকার সাঁতারুদের চেয়ে অনেক এগিয়ে সে। ’ জুনায়না বাংলাদেশে প্রথমবার পুলে নেমেই সেই ব্যবধান দেখিয়ে দিয়েছে। ব্রিটিশ, বাংলাদেশি দুই পাসপোর্টই আছে তার। কিন্তু বাবার মতো তারও স্বপ্ন বাংলাদেশেরই প্রতিনিধিত্ব করা, ‘বাংলাদেশই আমার কাছে আগে। ’ সুনামগঞ্জে জুনায়নাদের দাদাবাড়ি। ইংরেজির সঙ্গে সিলেটের আঞ্চলিক ভাষায় তার দখল যতটা, শুদ্ধ বাংলায় ততটা না। তবে সাঁতারে শরীরের ভাষায় জানিয়ে দিয়েছে তার লড়াইটা আন্তর্জাতিক। যুক্তরাষ্ট্রে কেটি লেডিকিকে অনুসরণ করা জুনায়নাকে ঘিরে তাঁর বাবারও যে অলিম্পিক স্বপ্ন, ‘২০১২তে মাহফিজুর রহমান যখন লন্ডন অলিম্পিকে অংশ নিতে যায়, তখনই আমার মধ্যে জুনায়নাকে ঘিরে স্বপ্নটা বড় হয়। আমি মাহফিজুরকে অনুসরণ শুরু করি, রিও অলিম্পিকেও ওর সাঁতার দেখেছি। পরে ওর সঙ্গে যোগাযোগ করেই এই আমার ঢাকায় আসা। ’ বর্তমানে থাইল্যান্ডে ফিনার অনুশীলনে থাকা মাহফিজুর নিজেও দারুণ উচ্ছ্বসিত লন্ডনি এই কিশোরীকে নিয়ে, ‘ও আমাদের দেশের জন্য আশীর্বাদ বলতে পারেন। এই বয়সেও ও আমাদের সিনিয়র রেকর্ড সব ভেঙে দিচ্ছে, শুধু এটাই তো ওর সামর্থ্য বোঝানোর জন্য যথেষ্ট।

বয়সভিত্তিক সাঁতারের প্রথম দিনে রেকর্ডসহ তিন সোনা জিতে জুনায়নাই সেরা। মেয়েদের ১৮-২০ বছর গ্রুপে দুটি সোনা জিতেছেন মিতু আক্তার, ছেলেদের এই গ্রুপে একটি রেকর্ডসহ দুই সোনা জাহিদুল ইসলামের, ছেলেদের ১৫-১৭ গ্রুপে একটি রেকর্ডসহ দুই সোনা মামুর রশিদের, ১৩-১৪ মেয়েদের গ্রুপে মুক্তি খাতুন এবং ১১-১২ বছর গ্রুপে প্রমি আক্তারের দুই সোনা।


মন্তব্য