kalerkantho


দুঃসহ সফরে আরো দুর্বিষহ বোলিং

২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



দুঃসহ সফরে আরো দুর্বিষহ বোলিং

এমন বাজে সিরিজ তাঁর যায়নি কখনো। দলীয় পারফরম্যান্সে যেমন, তেমনি নিজের বোলিংয়েও।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজটি তাই মাশরাফি বিন মর্তুজার ক্যারিয়ারে কাঁটা হয়ে হুল ফোটাবে চিরকাল।

দ্বিপক্ষীয় সিরিজ কম খেলেননি তিনি। অন্যূন তিন ম্যাচ খেলেছেন, এমন সিরিজের সংখ্যা ৩০টি। এর মধ্যে একবারই কেবল কোনো উইকেট নিতে পারেননি। ২০০৮ সালের অস্ট্রেলিয়া সফরে। সেবার তিন ম্যাচে ২৯ ওভার বোলিং করে ১১৬ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য। তবে উইকেটের ঘরের ওই শূন্যতার হাহাকার ঘোচানোর সান্ত্বনা হিসেবে ছিল ইকোনমি কলাম। ওভারপ্রতি মাত্র ৪ রান করে যে দেন সেবার মাশরাফি!

কিন্তু এবার? ২৭.৫ ওভার বোলিং করে দিয়েছেন ২০১ রান। ওভারপ্রতি ৭.২২ রান করে।

কোনো উইকেট পাননি বলে গড় নেই তাঁর; স্ট্রাইকরেটেরও প্রশ্ন আসে না। ইনজুরি মাশরাফিকে অনেক দুর্বিষহ দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছে, কিন্তু পারফরম্যান্স কখনোই এমনভাবে না। আর অধিনায়কের এই অবস্থা উদাহরণ মাত্র। বাকি বোলারদের অবস্থাও যে তথৈবচ! শুধু শুধুই তো আর দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ওয়ানডেতে বিনা উইকেটে ২৮২ রান তুলে ফেলে না! দ্বিতীয় ম্যাচেও চড়ে ৩৫৩ রানের পাহাড়ে। আর কাল ইস্ট লন্ডনের তৃতীয় ওয়ানডেতে চূড়াটা আরেকটু উঁচু করে পৌঁছে যায় ৩৬৯ রানে। শেষ দুই ম্যাচের শেষ দিকে রানের গতি বাড়ানোর তাড়ায় ছয়টি করে উইকেট হারায় বটে প্রোটিয়ারা। তাতে কি মুখরক্ষা হওয়ার জোগাড় আছে বাংলাদেশের বোলারদের!

সাকিব আল হাসানের কথাই ধরা যাক। তিন ওয়ানডে মিলিয়ে বোলিং করেন ২৮ ওভার। এর মধ্যে প্রথম ও তৃতীয় ওয়ানডেতে পাননি কোনো উইকেট। পার্লে দ্বিতীয় ম্যাচের দুই শিকারই সম্বল। তাতে গড় কিংবা স্ট্রাইকরেট পায় না ভদ্রস্থ চেহারা। প্রথমটি ৮২, পরেরটি ৮৪। ১৬৪ রান দিয়ে মাত্র দুই উইকেট যে তাঁর! পেসার তাসকিন আহমেদ উইকেট পাননি প্রথম দুই ম্যাচে। কাল দুই উইকেট পেলেও সিরিজে ২৪ ওভারে দিয়েছেন ১৯৮ রান। ওভারপ্রতি ৮.২৫ করে। কালকের দুই শিকারের পরও তাঁর গড় ৯৯; স্ট্রাইকরেট ৭২!

বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে যা কিছুটা মুখরক্ষা রুবেল হোসেনের। তিন ম্যাচে ২৬ ওভার বোলিং করে ১৭৪ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার। প্রথম ম্যাচে উইকেট পাননি; দ্বিতীয় খেলায় ৬২ রান দিয়ে চার উইকেট। আর কাল পান তিনি এবি ডি ভিলিয়ার্সের উইকেট। রুবেলের গড় ৩৪.৮০; ইকোনমি ৬.৬৯, স্ট্রাইকরেট ৩১.২।

এই চারজনই বাংলাদেশের মূল বোলার। সিরিজের সবগুলো ম্যাচ খেলেন তাঁরা। অন্যদের মধ্যে কাল প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ১০ ওভারে ৫৯ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। ইকোনমি ৫.৯০, গড় ২৯.৫০, স্ট্রাইকরেট ৩০। এ ছাড়া সিরিজে হাত ঘোরানো বাংলাদেশের সব পার্টটাইমারই উইকেটশূন্য। নাসির হোসেন ১৩ ওভারে দেন ৭৮ রান, মাহমুদ উল্লাহ ৭ ওভারে ৬০, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ৫ ওভারে ৪৬ এবং সাব্বির রহমান ২ ওভারে ১৯ রান। লজ্জাটা আরেকটু বেড়ে যাওয়ার মতো আরেক পরিসংখ্যানও আছে। ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচ মিলিয়েও বাংলাদেশের কোনো বোলার একটি মেডেন ওভার করতে পারেননি। একটিও না!

পারফরম্যান্সে ব্যাটসম্যানরা যে আলোকবর্ষ এগিয়ে, তা বলার উপায় নেই। তবু তো প্রথম ওয়ানডেতে ২৭৮ রানের পুঁজি এনে দেন তারা। বড়লোকের বখে যাওয়া ছেলের মতো তা উড়িয়ে দিতে বাংলাদেশের বোলাররা সময় নেননি। আর বাকি দুই ম্যাচ তো শেষ প্রথম ইনিংসেই। দক্ষিণ আফ্রিকা যখন ৩৫৩ ও ৩৬৯ রান তুলে ফেলে, এরপর ম্যাচের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তার অবকাশ থাকে কোথায়! ব্যাটসম্যানদের জন্য জয়ের মশালে আগুন দূরে থাক, মোমবাতিতেও আলো জ্বালাতে পারেন না বোলাররা।

অন্ধকারাচ্ছন্ন মহাদেশ সফরে আসা বাংলাদেশের অন্ধকার কাটে না তাই। মাত্র মাসচারেক আগের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ওই আলোকিত পারফরম্যান্সকেও এখন মনে হয় আলোকবর্ষ দূরের কোনো ঘটনা।


মন্তব্য