kalerkantho


আগুনে ঝলসে গেছে সাদিয়ার শরীর

২২ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



আগুনে ঝলসে গেছে সাদিয়ার শরীর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : প্রায় চার বছর তিনি শ্যুটিংয়ে গরহাজির। রাইফেল হাতে ইদানীং কোনো মিটেই দেখা যেত না সাদিয়া সুলতানাকে।

গতকাল হঠাৎ এই চ্যাম্পিয়ন শ্যুটার আলোচনায় ফিরেছেন আগুনে পুড়ে! কর্তব্যরত ডাক্তারদের মতে, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুড়ে গেছে তাঁর শরীরের ২০ শতাংশ।

এসএ গেমস ও দিল্লি কমনওয়েলথ শ্যুটিংয়ের সোনাজয়ী এই শ্যুটার এখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। এই দুর্ঘটনা ঘটেছে গত ১৫ অক্টোবর চট্টগ্রামে তাঁর নিজের বাসায়। রান্না করতে গিয়ে গ্যাসের চুলা থেকে ওড়নায় আগুন লেগে শরীরের বিভিন্ন অংশ পুড়ে যায়। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয় বেশি। প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য গত বৃহস্পতিবার তাঁকে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। এই শ্যুটারের বাবা সৈয়দ সারোয়ার বলেছেন, ‘গত রবিবার সাদিয়া রান্না করছিল, হঠাৎ করেই গ্যাসের চুলা থেকে আগুন লেগে যায় তার শরীরে। চট্টগ্রামে কয়েক দিন চিকিৎসা করানোর পর তাকে নিয়ে এসেছি ঢাকা মেডিক্যালে।

’ শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড সার্জারি বিভাগে দুদিন চিকিৎসা চললেও ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন এখন শঙ্কামুক্ত বলতে পারছেন না, ‘তার পোড়ার ঘটনা ঘটেছে সাত দিন আগে। বিভিন্ন জায়গায় গভীর ক্ষত হয়েছে। তার একটা অপারেশনেরও প্রয়োজন। এখনো ঠিক শঙ্কামুক্ত নয় তার অবস্থা। ’

২০১০ সালে ঢাকা এসএ গেমসে ১০ মিটার এয়ার রাইফেল দলগতে সোনা জিতে সাদিয়া আলোচনায় আসেন। একই বছরে দিল্লি কমনওয়েলথ শ্যুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে শারমিন আক্তার রত্নার সঙ্গে দ্বৈতে সোনা জেতেন তিনি। এমন সাফল্য দিয়েই এই তরুণী বাংলাদেশ শ্যুটিংয়ের নতুন ছবি হয়ে উঠেছিলেন। ছবিটা দিনে দিনে আরো উজ্জ্বল হওয়ারই কথা ছিল। কিন্তু ২০১৩ সালে বাংলাদেশ গেমসে অংশ নেওয়ার পর হঠাৎ করে তিনি হারিয়ে যান শ্যুটিং থেকে। তবে অনেকের সন্দেহ, নানা চাপে চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবের এই শ্যুটার গুটিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। এ নিয়ে শ্যুটিং অঙ্গনে নানা রকম গুঞ্জন থাকলেও সাদিয়ার ভাই সৈয়দ সাজ্জাদ উল্লাহ বলেছেন তাঁর হতাশায় পড়ার কথা, ‘২০১৩ সালে সাদিয়া শ্যুটিং ছেড়ে বিরতিতে গিয়েছিল পরীক্ষার জন্য। এ সময় ফেডারেশন থেকে কিছুটা সময় চেয়েও পায়নি সে। আর মাঝে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ না নেওয়ায় চট্টগ্রাম রাইফেল ক্লাবও তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়। এ দুই ঘটনা নিয়ে প্রচণ্ড হতাশা কাজ করছিল তার মধ্যে। এই হতাশা থেকে বের করে আনতে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়ে কাউন্সেলিং করানো হয়েছিল। শেষে ডাক্তারের পরামর্শে তার বিয়ের ব্যবস্থা করা। ’

সাদিয়ার সঙ্গে বিয়ে ঠিক হয় স্থানীয় ব্যবসায়ী শাহীনুল আলমের। গত ১৮ আগস্ট তাঁর বিয়ে হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে শ্বশুরবাড়িতে ওঠার আগেই ঘটেছে এই দুর্ঘটনা।


মন্তব্য