kalerkantho


ফিরে আসছেন তামিমও!

২১ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ফিরে আসছেন তামিমও!

পার্লে দ্বিতীয় ওয়ানডের আগের দিন। বোল্যান্ড পার্কের ঐচ্ছিক অনুশীলনে আসেন মাত্র ছয় ক্রিকেটার।

তাঁদের একজন তামিম ইকবাল তখনো ইনজুরিমুক্ত নন পুরোপুরি। পরদিন তাঁর খেলার সম্ভাবনা নিয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘একটা জিনিস মাথায় রাখতে হবে, এটাই আমার শেষ খেলা না। এটাই বাংলাদেশের শেষ সফর না। যদি কিছু করতে গিয়ে আবার চোট পাই, তাহলে আমি প্রায় দুই মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যাব। যেটা আশা করি, টিম ম্যানেজমেন্ট চায় না, আমি নিজেও চাই না। যারা ক্রিকেট দেখেন তারাও চাইবেন না। ’

মাত্রই দিন কয়েক আগের কথা। কিন্তু সেগুলো কেমন বিষণ্নতার প্রতিধ্বনি তুলেই না ফিরে আসছে এখন! ইনজুরির কারণে সত্যি সত্যিই তো প্রায় মাসখানেকের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেলেন তামিম। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডে আর দুটি টি-টোয়েন্টিতে আর খেলতে পারছেন না।

যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার বিমান ধরবেন এই বাঁহাতি।

পার্ল থেকে ইস্ট লন্ডন—এই হাজার মাইল দূরত্বেও তামিমের সেদিনের কথাগুলো ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসের ফিসফিসানিতে! হাহাকারের ডানায়। হতাশার বুদ্বুদ হয়ে।

বাঁ ঊরুতে এই চোটটা পান তিনি বেনোনির তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের সময়। মাত্র ১৩ বল খেলেছেন, ক্রিজে কাটিয়েছেন ২৪ মিনিট—এরপরই বেরিয়ে যেতে হয় মাঠ ছেড়ে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং আর করেননি। পচেফস্ট্রুমের প্রথম টেস্ট খেলেন তবু। কিন্তু ওখানে চোট বেড়ে যায় আরো। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধারণা করা হয়, চার সপ্তাহের মতো মাঠের বাইরে থাকতে হবে তামিমকে। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি, আশা ছাড়তে চায়নি বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্টও। ব্লুমফন্টেইন টেস্ট না খেললেও ওয়ানডে সিরিজে তাঁর ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন সবাই। তবে কিম্বার্লির প্রথম ওয়ানডের আগের রাতে ফিজিওর সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেন তামিম না খেলার। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ফিটনেস টেস্টে উতরানোর পর খেলেছেন।

তখন কি আর জানতেন যে তাতে হিতে বিপরীত হবে!

কিম্বার্লি থেকে বাংলাদেশ দল ইস্ট লন্ডনে পৌঁছেছে আগের দিনই। কাল সকালে অনুশীলন করে তৃতীয় ম্যাচের ভেন্যু বাফেলো পার্কে। সেই অনুশীলনে অনুপস্থিত তামিম। আগের ইনজুরির ব্যথা যে বেড়েছে আরো! হোটেলেই ছিলেন তিনি; পরে দুপুরে ম্যানেজার মিনহাজুল আবেদীনের সঙ্গে গিয়ে আলট্রাসনোগ্রাম করিয়ে আসেন। সেখানেও পাওয়া গেছে ইনজুরির মাত্রা বাড়ার দুঃসংবাদ। ‘তামিমের খবর ভালো না। আর মুস্তাফিজও খেলতে পারবে না কোনো ম্যাচে’—জানান মিনহাজুল।

মুস্তাফিজের পর তামিমের সফর থেকে ছিটকে যাওয়া তুলে দিচ্ছে আরো বড় প্রশ্ন। আর তা জাতীয় দলের টিম ম্যানেজমেন্টের ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট নিয়ে। ফিজিও থিহান চন্দমোহন ও অন্যান্য স্পেশালিস্টদের ওপর ভরসা করে প্রথম ওয়ানডে খেলেননি বলে জানিয়েছিলেন তামিম। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে এসে একের পর এক ইনজুরিতে পড়ছেন কেন ক্রিকেটাররা?

বেনোনির ওই প্রস্তুতি ম্যাচে তামিম ছাড়াও ইনজুরিতে পড়েন সৌম্য সরকার। কাঁধের ইনজুরির কারণে প্রথম টেস্ট খেলতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে থাকতেন কি না, তা হয়তো প্রশ্নসাপেক্ষ—কিন্তু ইনজুরিতে শফিউল ইসলামের ন্যূনতম সম্ভাবনাও তো যায় উবে। ব্লুমফন্টেইনের প্রস্তুতি ম্যাচটি যায় ভালোভাবেই, কিম্বার্লির প্রথম ওয়ানডের আগে আবার বিপত্তি। অনুশীলনের সময় অ্যাঙ্কেল মচকে সফর থেকেই ছিটকে যান মুস্তাফিজ। কিম্বার্লি থেকে পার্ল, পার্ল থেকে ইস্ট লন্ডনে তাঁকে বয়ে নিয়ে এসেও লাভ হয়নি কোনো। দেশে ফেরত যেতে হচ্ছে এই বাঁহাতি পেসারকে। প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েন মুশফিকুর রহিম। যে কারণে ফিল্ডিং করতে পারেননি সে ম্যাচে। দ্বিতীয় ম্যাচ খেলতে হয়েছে ফিটনেস টেস্টে পাস করে। আর গতকাল তো পাওয়া গেল আরেক সর্বনেশে খবর। মুস্তাফিজের মতো সফর শেষ হয়ে যাচ্ছে তামিমেরও।

ইনজুরির কারণে প্রথম টেস্টে সৌম্যকে পায়নি বাংলাদেশ। অর্ধফিট অবস্থায় খেলেছেন তামিম। দ্বিতীয় টেস্টে তো খেলতেই পারেননি; যেমনটা পারেননি শফিউল। প্রথম ওয়ানডেতে অনুপস্থিত তামিম-মুস্তাফিজ। এরপর মুস্তাফিজের সফরই শেষ। তামিম দ্বিতীয় ওয়ানডেটি খেলার পর খুঁজছেন দেশে ফেরার উড়াল। অর্থাৎ, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের কোনো ম্যাচেই পূর্ণ শক্তির একাদশ নামাতে পারেনি বাংলাদেশ। নামলেও যে হাতি-ঘোড়া কিছু করে ফেলত, ম্যাচগুলোর ফল অবশ্য তা বলছে না। তবু পূর্ণ শক্তির একাদশ নামাতে না পারার সত্য তো আর মিথ্যে হচ্ছে না।

একইসঙ্গে অনেক খেলোয়াড়ের ইনজুরির কারণে শীর্ষস্থানীয় অনেক ফুটবল ক্লাব পুরো মেডিক্যাল টিম বরখাস্ত করেছে পর্যন্ত। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের বেলায় সেটি না হোক, অন্তত জবাবদিহির আওতায় তো আনা যায় টিম ম্যানেজমেন্টকে! এক সফরে এত ইনজুরি হচ্ছে কেন?


মন্তব্য