kalerkantho


১০ জন নিয়েও অদম্য বার্সেলোনা

২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



১০ জন নিয়েও অদম্য বার্সেলোনা

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে ৬ গোলের থ্রিলার, আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্নের বিস্ফোরণ, ব্রাসেলসে নেইমারের গোল আর ন্যু ক্যাম্পে জেরার্দ পিকের লাল কার্ড। ইউরোপে বুধবারের রাতটা ছিল ঘটনাবহুল।

চ্যাম্পিয়নস লিগের আটটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কোনো বড় অঘটন ঘটেনি। তৃতীয় ম্যাচে এসে গ্রুপের সবার সঙ্গেই সবার একবার করে খেলা হয়ে গেছে; তাতে তিনে তিন ম্যানইউ, ম্যানসিটি, বার্সেলোনা ও  পিএসজির সঙ্গে বেসিকতাসেরও।

গোল করে উল্লাসে দুই হাত মাথার ওপর তুলে ফেলেছিলেন জেরার্দ পিকে! কিন্তু গোলের বাঁশি বাজানোর পরিবর্তে লাল কার্ড বের করলেন রেফারি। আসলে পায়ের খেলায় পিকে যে গোলটা করেছিলেন হাত দিয়ে। ৩১ বছরে প্রযুক্তির যতটা উন্নতি হয়েছে, তাতে ‘হ্যান্ড অব গড’ কাণ্ডের সুযোগ নেই। ম্যাচের ৪২ মিনিটেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছেড়ে যাওয়া পিকে দলকে ১০ জনে নামিয়ে আনলেও বিরতির পর ফিরে আসা কাতালানরা এই দুর্বলতাকেই বানিয়েছে শক্তি। লিওনেল মেসির ফ্রি-কিকে করা দারুণ গোলের সঙ্গে লুকাস দিনিয়ের গোলে ৩-১ ব্যবধানেই এরনেস্তো ভালভের্দের সাবেক ক্লাবকে হারিয়েছে কাতালানরা। সাবেক কোচের ‘গুরুদক্ষিণা’ হিসেবেই বোধহয় বার্সেলোনাকে একটা আত্মঘাতী গোলও উপহার দিয়েছে অলিম্পিয়াকোস! আত্মঘাতী গোল অবশ্য বেশ ‘উপহার’ পাচ্ছে বার্সেলোনা, চ্যাম্পিয়নস লিগে ঠিক আগের ম্যাচটাই তারা স্পোর্তিং লিসবনের সঙ্গে জিতেছিল ১-০তে, সেটাও প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলের সৌজন্যে। বুধবার রাতের ম্যাচটা অবশ্য শুধু আত্মঘাতী গোলে ভর করে নয়, মেসির ফ্রি-কিক থেকে গোল আর লুকাস দিনিয়ের গোলেই তারা পেয়েছে পূর্ণ পয়েন্ট।

শুরুতে আত্মঘাতী গোল করা নিকোলুই শেষ সময়ে প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠিয়ে খানিকটা কমিয়েছেন ব্যবধান।

ডর্টমুন্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতে অবসরে গিয়েছিলেন ইয়ুপ হেইঙ্কেস। আবার বায়ার্ন মিউনিখের কোচ হিসেবে ফিরে চ্যাম্পিয়নস লিগে প্রথম ম্যাচেই সেল্টিকের বিপক্ষে দলকে জিততে দেখলেন ৩-০তে। স্কোরলাইনটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ প্যারিস সেন্ত জার্মেইর কাছে আগের ম্যাচটা এই ৩-০ ব্যবধানে হারের পরই চাকরি খুইয়েছিলেন কার্লো আনচেলোত্তি। তিনি ম্যাটস হুমেলসকে খেলাননি, থোমাস ম্যুলারকে তুলে নিয়েছিলেন ম্যাচের ৬৯ মিনিটে; এঁরা দুজনেই বুধবার রাতে গোল করেছেন। সঙ্গে স্কোরশিটে নাম তুলেছেন জোশুয়া কিমিচও। জার্মান পত্রিকাগুলো বলছে, বায়ার্নের সেই পুরনো অভিজাত্য, শৃঙ্খলা আর দলীয় সংহতি ফিরে এসেছে। সেই সঙ্গে কিমিচের মাঝে নতুন ফিলিপ লামের ছায়াও বোধহয় খুঁজে পেয়েছেন হেইঙ্কেস!

বেনফিকার মাঠের সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। মিউনিখ ট্র্যাজেডির পর অনেকেই ভেবেছিল হারিয়েই যাবে ম্যানইউ। কিন্তু ১৯৬৬-র ইউরোপিয়ান কাপে কোয়ার্টার ফাইনালে সেসময়ে ইউসেবিওর অদম্য বেনফিকাকে ৫-১ গোলে হারিয়েই ফিনিক্স পাখির মতো বড় মঞ্চে ফের আবির্ভাব রেড ডেভিলদের। তাদের উত্তরসূরিরা অবশ্য এবারের সফরে তেমন দারুণ কিছু করে দেখাতে পারেননি। ম্যাচের ৬৪ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের দূর থেকে নেওয়া শটটা ঠেকাতে গিয়ে গোলরক্ষক নিজেই বলসহ ঢুকে পড়েন জালের ভেতর! খালি চোখে খানিকটা আন্দাজ করা গেলেও গোললাইন প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েই বাঁশি বাজান রেফারি। গোলরক্ষক মাইল সভিয়ারের সেটা ছিল আবার অভিষেক ম্যাচ! তবে পর্তুগিজ কাগজগুলো ‘ক্ষমা’ই করে দিয়েছে তরুণ এই খেলোয়াড়কে, বরং এমন ম্যাচের পর ঠোঁটকাটা হোসে মরিনহোও বলেছেন, ‘এই ছেলেটা বড় হয়ে খুব নাম করবে। দেখবে একদিন ওর জন্য অনেক টাকা দিতে হবে। ’

খুব একটা উপভোগ না করলেও ব্রাসেলসবাসীরা দেখল ‘এমসিএন’ শো! এমবাপ্পে, কাভানি, নেইমারের তিনজনই গোল করেছেন, করিয়েছেন। সঙ্গে উৎসবে যোগ দিয়েছেন আনহেল দি মারিয়াও। তাতেই পিএসজির তিনে তিন। বিশেষ করে কাভানির গোলটাতে তো তিনজনেরই ছোঁয়া! নেইমারের জোরালো শট ভালোভাবে ঠেকাতে পারেননি আন্ডারলেখটের গোলরক্ষক ম্যাটজ সেলস। তাঁর গ্লাভসে লেগে হাওয়ায় ভাসা বলে হেড করে পাস এমবাপ্পের, তাতে আবারও হেডে গোল কাভানির। কৌণিক শটে এমবাপ্পের গোল নেইমারের চাতুর্যপূর্ণ গড়ানো ফ্রি-কিকে গোল—সবই ছিল ম্যাচে।

ওদিকে সময়টা খারাপ যাচ্ছে চেলসির। ক্রিস্টাল প্যালেসের কাছে ২-১ গোলে হেরে আসার পর স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে রোমার সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করেছে আন্তনিও কন্তের দল। ১১ মিনিটে দাভিদ লুইজের গোলের পর ৩৭ মিনিটে এডেন হ্যাজার্ডের গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছিল তারা। এরপরই সাবেক দুই ম্যানসিটি খেলোয়াড়ের রোষানলে পড়ল চেলসি! ৪০ মিনিটে গোল করলেন এবারই ম্যানসিটি থেকে রোমায় যাওয়া কোলারভ, এরপর ৬৪ আর ৭০ মিনিটে জোড়া গোল এডেন জেকোর। এই বসনিয়ানও রোমায় গেছেন ম্যানসিটি থেকেই। অবশেষে ৭৫ মিনিটে হ্যাজার্ডের আরেকটি গোলে সমতায় ফিরে ১ পয়েন্ট রাখতে পেরেছে চেলসি।

জুভেন্টাস ২-১ গোলে হারিয়েছে স্পোর্টিং লিসবনকে আর বাসেল ২-০ গোলে হারিয়েছে সিএসকেএ মস্কোকে। উয়েফা, স্কাই স্পোর্টস


মন্তব্য