kalerkantho


রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের

শাহজাহান কবির    

২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের

ছবি : মীর ফরিদ

শ্যুট আউটে শেষ সুযোগ রাসেল মাহমুদের। দুই দলে তখন ৩-৩ এ সমতা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক গোল করলেই এশিয়া কাপের কাঙ্ক্ষিত জয় ধরা দেবে মুঠোয়। রাসেল সেই সুযোগ কি আর নষ্ট করেন। অবলীলায় চীনের গোলরক্ষককে হারিয়ে নিখুঁত হিটে বল ঠেললেন পোস্টে। কতটা আনন্দ আর স্বস্তির জয় যে সেটা বাংলাদেশের, মাঠের বাইরে রাসেলের স্টিক ছুড়ে ফেলে জার্সি খোলা বুনো উদ্যাপনেই তা বোঝা যাচ্ছিল। এই জয়ে এশিয়া কাপে যে প্রত্যাশার ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত হলো লাল-সবুজের। তাতে পরের এশিয়া কাপের আগে দ্বিতীয় সারির দলগুলোর সঙ্গে আর বাছাইও খেলতে হবে না। আজ বিকেল সাড়ে ৫টায় জাপানকে হারিয়ে সুযোগ থাকছে পঞ্চম হওয়ারও।

কাল শ্যুট আউটের আগের গল্পটাও দারুণ রোমাঞ্চে ঠাসা। প্রথমার্ধে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ৩-৩ এ সমতা ফিরিয়েছিল বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় কোয়ার্টারে চীন তিনটি গোলই করে পেনাল্টি কর্নারে। বাংলাদেশ পেনাল্টি স্ট্রোকে ১ গোলে শোধ করে শেষ কোয়ার্টারে পিসি থেকে করে আরো দুই গোল। তাতেই শ্যুট আউটের মঞ্চ তৈরি হয়ে যায়। ভাগ্য এদিন আর নিরাশ করেনি স্বাগতিকদের। কাল ম্যাচের শুরুতেই সুবর্ণ সুযোগ হারিয়েছিলেন পুস্কর ক্ষিসা। বাঁদিক থেকে রাসেলের আচমকা হিটে পোস্টের সামনে একেবারে একা বল পেয়েছিলেন বাংলাদেশি ফরোয়ার্ড, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বল লাগিয়েছেন তিনি সাইড পোস্টে। এর পরও টানা কয়েক মিনিট প্রতিপক্ষের অর্ধে চাপটা ধরে রেখেছিল বাংলাদেশ। কাউন্টার অ্যাটাকে সেই চাপ আলগা করে ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে চীন। প্রথম কোয়ার্টারেই আদায় করে নেয় দুটি পিসি, বাংলাদেশ সেই দুইবার তাদের ফেরাতে পারলেও দ্বিতীয় কোয়ার্টারে আর পারেনি। ওই কোয়ার্টারের শুরুতেই টানা তিনটি পিসি আদায় করে তৃতীয়টিতে গোল করেন দু তালাকে। মিনিট কয়েকের মধ্যেই দ্বিতীয় গোল, সেটিও পিসি থেকে, পোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে দু তালাকেই বল জালে পাঠান। টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই বাংলাদেশ দলের পিসি দেওয়ার প্রবণতা প্রবল। সেটি এদিনও কাল হতে যাচ্ছিল। তবে ২-০তে পিছিয়ে পড়ার পর গোলরক্ষক অসীম গোপকে উঠিয়ে আবু সাঈদকে নামানো হয়েছিল। শেষে টাইব্রেকারে চীনাদের রুখে দিয়ে তিনিও নায়কের ভূমিকায়। ম্যাচে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ার বাংলাদেশ লাইফলাইন পায় ২৫ মিনিটে, রোমান সরকার ফাউলের শিকার হওয়ায় সরাসরি পেনাল্টি স্ট্রোকই পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। তা থেকেই আশরাফুল ১ গোল শোধ দিয়েছেন। তাতে ম্যাচে ফেরার দারুণ সুযোগও তৈরি হয়েছিল স্বাগতিকদের। কিন্তু ডিফেন্ডারদের পিসি-প্রীতি থামাবে কে, এই কোয়ার্টারের শেষ দিকেই চীনাদের আরেকটি পিসি উপহার দিয়ে গোলও হজম করতে হয়েছে। দু তালাকে করেন হ্যাটট্রিক। ১-৩ এ পিছিয়ে থেকে তাই দ্বিতীয়ার্ধের লড়াই শুরু হয়।

৩৫ মিনিটে মিলন হোসেনকে থালায় খাবার সাজিয়ে দেওয়ার মতো করে বল বানিয়ে দিয়েছিলেন পুস্কর, বাংলাদেশের নাম্বার নাইন সেই বলটাও পোস্টে ঠেলতে না পারলে লড়াইয়ের আশাও ক্রমে উবে যেতে থাকে। চীনারা নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে ছিল মরিয়া। অন্যদিকে বাংলাদেশ সুযোগ হারাচ্ছিল হেলায়। একা গোলরক্ষকের সামনে একবার রাসেলের ফাইনাল পাসটা ধরতেই পারলেন না আশরাফুল। চতুর্থ কোয়ার্টারে বাংলাদেশের অসাধারণ প্রত্যাবর্তন। এ সময় টানা তিনটি পিসি আদায় করে তৃতীয়বারে গোল পান মিলন। ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট ছয়েক আগে আরেকটি পিসিতে খোরশেদুর রহমান ফেরান সমতা। টাইব্রেকারে চীন গোল করে শুরু করে, বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সমতা ফেরান ফরহাদ আহমেদ, চীনের দ্বিতীয় গোলের পর সমতা ধরে রাখেন নাঈম। তৃতীয়বারে গিয়ে সুযোগ হারায় চীন। সুওঝু অউকে রুখে দেন সাঈদ। কিন্তু বাংলাদেশ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে না সবুজ মিস করলে। চতুর্থ শ্যুটে চীনও গোল করে আর বাংলাদেশের হয়ে ৩-৩ এ সমতা রাখেন পুস্কর। এরপর চীনারা নষ্ট করে শেষ হিটটি। রাসেলের সামনে তাই সুযোগ আসে জয়সূচক গোলের। এই শেষবার আর তিনি হতাশ করেননি। উৎসব ছড়িয়ে পড়ে মাঠ থেকে সারা দেশে।


মন্তব্য