kalerkantho


সুদিনের খোঁজে নতুন গন্তব্যে

২০ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



সুদিনের খোঁজে নতুন গন্তব্যে

‘দে ছুট’ আবার বাংলাদেশের। পার্ল থেকে কাল দুপুরে তারা পৌঁছে যায় ইস্ট লন্ডনে।

ওয়ানডে সিরিজে তো হেরে গেছে এরই মধ্যে। তৃতীয় ওয়ানডে এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতা। তাই কি? মাশরাফি বিন মর্তুজার দলের কাছে সম্মান পুনরুদ্ধারের শেষ সুযোগও তো পরশুর এই শেষ ওয়ানডে।

কিন্তু সফরে এখন পর্যন্ত যেমন ‘বিচ্ছিন্ন’ পারফরম্যান্স বাংলাদেশের, তাতে ভরসা করতে যে বড্ড ভয়!

পার্লে পরশুর দ্বিতীয় ওয়ানডে শেষে অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠে সেই আফসোস, ‘আমরা দল হিসেবে ভালো খেলতে পারছি না। হঠাৎ কারো কারো পারফরম্যান্স হয়তো ভালো হচ্ছে। কিন্তু দল হিসেবে ভালো খেলা এখনো হয়ে উঠছে না। ’ বোলিং নিয়ে কথা বলতে গিয়েও এই কথাটিই আবার সামনে নিয়ে আসেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘আমরা দল হিসেবে ভালো বোলিং করতে পারছি না। আজ যেমন রুবেল-সাকিব ভালো বোলিং করেছে। আমরা বাকিরা তা পারিনি।

তবে সম্মিলিতভাবে ভালো বোলিং না করলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তিন শ রানের ভেতরে আটকানো কঠিন। ’

বোলিং বলুন কিংবা ব্যাটিং—সব কিছুতেই বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ছাড়া ছাড়া পারফরম্যান্স। ছেঁড়া ফুলের বিচ্ছিন্নতা তাতে। সব মিলিয়ে মালা গাঁথা আর হয়ে ওঠেনি বলে জয়টা অধরাই থেকে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। পার্লের ওয়ানডেতে মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের ৯৩ রানের জুটির কথা ধরুন। এই সফরে এমন জুটি এখন পর্যন্ত হয়েছে কটি?

পচেফস্ট্রুমে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে চারটি পঞ্চাশ পেরোনো জুটি বাংলাদেশের। তৃতীয় উইকেটে মুশফিকুর রহিম-মমিনুল হকের ৬৭, চতুর্থ উইকেটে মমিনুল-তামিম ইকবালের ৫৫, পঞ্চম উইকেটে মমিনুল-মাহমুদ উল্লাহর ৬৯, ষষ্ঠ উইকেটে মাহমুদ-সাব্বির রহমানের ৬৫ রান। চারটি পঞ্চাশ পেরোনো জুটির কৃতিত্ব ম্লান হয়ে যায় কোনোটি আরো বড় না হওয়ায়। সর্বোচ্চই তো ৬৯! আর দ্বিতীয় ইনিংসে তো এক জুটিরও পঞ্চাশ হয়নি। হবে কিভাবে? দলই তো অলআউট ৯০ রানে!

ব্লুমফন্টেইনের দ্বিতীয় টেস্টে দুই ইনিংসে ১৪৭ ও ১৭২ রান করে বাংলাদেশ। পঞ্চাশ পেরোনো জুটি একটিই। আর তা বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যাটসম্যানদের লজ্জা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সপ্তম উইকেটে লিটন দাশ ঠিক ৫০ রানের জুটিতে সঙ্গী হিসেবে পান যে বোলার তাইজুল ইসলামকে। দ্বিতীয় ইনিংসে নেই পঞ্চাশের কোনো জুটি।

এবার দেখা যাক ওয়ানডে সিরিজে। কিম্বার্লির প্রথম ম্যাচে দুটি মাত্র জুটি পঞ্চাশ পেরোনো। তৃতীয় উইকেটে মুশফিক-সাকিবের ৫৯ রানের; পরের উইকেটে মাহমুদের সঙ্গে মুশফিকের ৬৯ রানের। আর পার্লের দ্বিতীয় ম্যাচে ইমরুল-মুশফিকের ৯৩ রানের সেতু।

দুই টেস্টের চার এবং দুই ওয়ানডের দুই—দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ছয়টি ইনিংস মিলিয়ে আটটি মোটে পঞ্চাশ পেরোনো জুটি বাংলাদেশের। এর মধ্যে সর্বশেষ পাঁচ ইনিংসে মাত্র চারটি। শতরানের কোনো জুটি নেই। আর দক্ষিণ আফ্রিকা? প্রথম টেস্টে ডিন এলগার-হাশিম আমলার ২১৫, এলগার-এইডেন মারক্রামের ১৯৬, ফাফ দু প্লেসিস-টেম্বা বাভুমার ১৪২; দ্বিতীয় টেস্টে এলগার-মারক্রামের ২৪৩, আমলা-দু প্লেসিসের ২৪৭, প্রথম ওয়ানডেতে কুইন্টন ডি কক-আমলার অবিচ্ছিন্ন ২৮২, দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আমলা-এবি ডি ভিলিয়ার্সের ১৩৬ এবং ডি ভিলিয়ার্স-জেপি দুমিনির ১১৭ রানের জুটি।

অর্থাৎ বাংলাদেশের ছয় ইনিংসে যেখানে কোনো শতরানের জুটি নেই, সেখানে দক্ষিণ আফ্রিকার পাঁচ ইনিংসে এক শ পেরোনো জুটি আটটি। এর মধ্যে চারটি দুই শ পেরোনো। বাংলাদেশের পারফরম্যান্সগুলো যে বিচ্ছিন্ন, তা বোঝার জন্য আর কী চাই! 

বোলিংয়েও একই অবস্থা। পার্থক্য গড়ে দিতে পারতেন যে মুস্তাফিজুর রহমান, তিনিও ইনজুরির কারণে গেছেন ছিটকে। পরশু ইস্ট লন্ডনে তৃতীয় ওয়ানডের পরদিন অধিনায়ক মাশরাফির সঙ্গে এই বাঁহাতি পেসার ফিরে যাবেন বাংলাদেশে। তাঁর বিকল্প হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্দেশে কাল রাতেই তো বাংলাদেশ ছেড়েছেন শফিউল ইসলাম। সফরে ব্যাটসম্যানদের যেমন ছিটেফোঁটা সাফল্য, বোলারদেরও তাই। আর সেই সাফল্য খুঁজতে হয় অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে।

ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠে তাই মিশে থাকে মহাসাগরের হাহাকার। দ্বিতীয় ওয়ানডে হয়েছে যে কেপ টাউনের পার্লে, সেখান থেকে মহাসাগর দূরে না। আর তৃতীয় ওয়ানডের ভেন্যু ইস্ট লন্ডনের আরো কাছে ভারত মহাসাগর। ওখানে যদি ‘বিচ্ছিন্ন’ পারফরম্যান্সগুলোর মালা গাঁথা যায়, তাহলে হয়তো ঘুচবে অধিনায়কের আক্ষেপ। ফুরাবে বাংলাদেশের কষ্টও।


মন্তব্য