kalerkantho


আজ জয় চায় বাংলাদেশ

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



আজ জয় চায় বাংলাদেশ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আজকের ম্যাচের আগে ফিরে ফিরে আসছে ২০১৩ ওয়ার্ল্ড হকি লিগের প্রসঙ্গ। চীনের সঙ্গে সর্বশেষ দেখায় সে আসরে বাংলাদেশ জিতেছিল ৩-২ গোলে।

এবারের এশিয়া কাপে সেই চীন হয়ে গেছে বাংলাদেশের ‘লাইফলাইন’। গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশা পূরণ করতে না পারা মাহবুব হারুনের দল মনে করছে আজ চীনকে হারিয়ে নিজেদের মান রাখা সম্ভব। হারুনের কথা, ‘আশা করি, আমরা এই ম্যাচ জিতব। ’ অধিনায়ক রাসেল মাহমুদ বলছেন, ‘জয় ছাড়া বিকল্প নেই। ’

গ্রুপ পর্বে ভারত, পাকিস্তান কি জাপানের বিপক্ষে সেই অর্থে কোনো লক্ষ্য ছিল না বাংলাদেশের। আগে কখনো জিততে না পারায় এবারও ভালো খেলাই ছিল প্রতিশ্রুতি। কাল থেকে শুরু হয়ে যাওয়া স্থান নির্ধারণী লড়াইয়েই বাংলাদেশ যেন নিজেদের টুর্নামেন্টে প্রবেশ করেছে এবং এখানে তাদের লক্ষ্যটা এখন স্পষ্ট। আজ চীনকে হারাতে পারলেই আট দলের আসরে ষষ্ঠ স্থান নিশ্চিত হয়ে যাবে। এশিয়া কাপে এখনো পর্যন্ত (সাত দলের প্রথম আসরটি বাদ দিয়ে) এটিই বাংলাদেশের সেরা অবস্থান।

১৯৯৯-এ দিল্লিতে সর্বশেষ এই অবস্থান পাওয়া গিয়েছিল, তার আগে ’৯৪-এ হিরোশিমায়, ঢাকায় হওয়া ’৮৫-র সেই আসরেও ষষ্ঠ ছিল বাংলাদেশ। ইরানকে হারানোর পাশাপাশি চীন, জাপানের সঙ্গে দুটি ড্র ছিল জুম্মন লুসাইদের। এবার রাসেলরা এক ম্যাচ জিতেই সেই অবস্থান পেলে তবু মান বাঁচে। গৌরবজনক হয়তো হবে না, কারণ পঁচাশির বিশ্বজয়ী পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের যে বুক চেতানো লড়াই, তেমন কোনো পারফরম্যান্স নেই যে এবার। পাকিস্তানের বিপক্ষে সেই ১-০ এবার হয়েছে ৭-০। জাপানকেও রোখা যায়নি, শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে হারতে হয়েছে ৩-১ এ।

আজ চীনের বিপক্ষে ম্যাচের আগে যে দিল্লির ওয়ার্ল্ড হকি লিগের প্রসঙ্গ আসছে, সে টুর্নামেন্টেও কিন্তু মন ভরানো পারফরম্যান্স ছিল এই রাসেলদের। প্রথম ম্যাচে ইউরোপের শক্তিশালী দল আয়ারল্যান্ডকে চমকে দিয়ে ২-০তে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ, শেষ পর্যন্ত অবশ্য লিডটা ধরে রাখা যায়নি। তবে এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই পরের ম্যাচে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় তারা র‍্যাংকিংয়ে বেশ এগিয়ে থাকা চীনকে। ওই আসরে ওমান বাংলাদেশের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি। ৪-১ এ জিতেছিল মাহবুব হারুনের দল, ফিজি উড়ে যায় ৮-৪ গোলে। শেষ ম্যাচে ভারতকেও চমকে দিয়ে মামুনুর রহমানের পেনাল্টি কর্নারের গোলে শুরুতে এগিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশই। রাসেল, মামুনুরসহ ওই দলের ৯ জন খেলোয়াড় আছেন এবারের এশিয়া কাপে। কিন্তু সেই গতিময় পারফরম্যান্স উধাও! আজ চীনের বিপক্ষে জেতাটাও তাই সহজ নয়। চীনারা ‘বি’ গ্রুগে কিন্তু চতুর্থ নয় তৃতীয় হয়েছে। ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা ওমানকে, গোল করেছে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও। র‍্যাংকিংয়েও এখনো তারা বেশ এগিয়ে, বাংলাদেশ যেখানে ৩৪তম, সেখানে তারা আছে ১৮তম স্থানে। রাসেলদের এবারের ছন্দহীন দলটা কী করে তাহলে আজ সেই মান বাঁচানোর জয়টা পেতে পারে, প্রশ্ন থাকছেই। বাংলাদেশ অধিনায়কের জবাব দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সৈনিকের মতো, ‘পারফরম্যান্সে উত্থান-পতন আছেই। এখান থেকেই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। টুর্নামেন্ট শুরুর আগেও বলেছি পঞ্চম বা ষষ্ঠ স্থানের জন্য আমরা খেলব। এখন আমাদের সামনে সেই লড়াই। যেভাবেই ঘুরে দাঁড়িয়ে আমাদের লক্ষ্যটা আমরা পূরণ করতে চাই। ’

দিল্লির ওই আসরে প্রশ্নাতীতভাবে দলের সেরা পারফরমার ছিলেন রাসেল নিজে। শুধু তা-ই নয়, হকিতে গত এক যুগ ধরেই তিনি বড় নাম, সতীর্থদের চেয়ে এগিয়ে অনেকখানি। কিন্তু রাসেলের সেই পারফরম্যান্সও টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত দেখা যায়নি। আজ চীন ম্যাচ তাঁর জন্যও তাই বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যক্তিগত সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছেনও রাসেল, ‘জানি আমার কাছে সবারই অনেক প্রত্যাশা। সেটা মেটাতে না পারলে আমার নিজের কাছেও খারাপ লাগে। চীনের বিপক্ষে নিজেকে উজাড় করে দিয়ে খেলব। আশা করি এবার হতাশ হবেন না সমর্থকরা। ’ আজ জিতলে এরপর পঞ্চম স্থানের জন্যও লড়াইয়ের সুযোগ থাকবে। এই সময়ে সমর্থকদের সমর্থনটাও যে চান খেলোয়াড়রা।


মন্তব্য