kalerkantho


দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরলেন ডি ভিলিয়ার্স

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরলেন ডি ভিলিয়ার্স

মাঝে কী ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ই না গেল! বিশ্রামের কারণে গেল জুনের পর দক্ষিণ আফ্রিকার জার্সি গায়ে ওঠাননি। এ নিয়ে তাঁর দিকে ধেয়ে যায় কত সমালোচনার শেল! ছেড়েছেন ওয়ানডে অধিনায়কত্ব।

টেস্ট খেলবেন কি না, এ নিয়েও ধোঁয়াশা! কিন্তু কাল যখন আবার ওই ২২ গজে, এসব সাম্প্রতিকতা মুহূর্তেই যেন তলিয়ে যায় অতীতের গর্ভে। জ্বলজ্বলে বর্তমান হয়ে থাকে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং-সত্তা।

আর তা বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের বিস্ময়কর প্রদর্শনীতে!

মাঝে ঘরোয়া ক্রিকেটের একটি ম্যাচ খেলেছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ব্লুমফন্টেইনের প্রস্তুতি ম্যাচ এবং প্রথম ওয়ানডেও। এর মধ্যে শেষটিতে তো ব্যাটিংয়েরই সুযোগ পাননি। অন্যগুলোতে ছিলেন না নিজের বিধ্বংসী শ্রেষ্ঠত্বে। কাল অবশেষে ডি ভিলিয়ার্স ফেরেন স্বরূপে। পুরনো সেই হিংস্রতা আর রানক্ষুধা নিয়ে। ক্ষুধার্ত বুনো নেকড়ের প্রতিফলন তাই ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিংয়ে।

তাঁর সামনে প্রাণভয়ে ছুটে বেড়ানো ত্রস্ত হরিণের পালের দশা বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের। ১৫টি চার এবং সাত ছক্কায় সাজানো ডি ভিলিয়ার্সের ১০৪ বলে ১৭৬ রানের এই ইনিংসটি নিশ্চিতভাবে বহু দিন তাড়া করবে তাঁদের দুঃস্বপ্নে।

অথচ একেবারে শুরুতেই সুযোগ দেন তিনি। তা-ও একবার নয়, দু-দুবার। সতীর্থ হাশিম আমলা মিড অনে বল পাঠালে রানের জন্য বেরিয়ে আসেন ডি ভিলিয়ার্স। মাহমুদ উল্লাহ ঠিকঠাক বলটি তুলে স্টাম্পে মারতে পারলেই রান আউট। কিন্তু বলই তো তুলতে পারেন না ফিল্ডার। ব্যক্তিগত ১ রানে বেঁচে যাওয়া ডি ভিলিয়ার্স পরের ওভারে আবারও দেন সুযোগ। এবার সাকিব আল হাসানের বল ছুঁয়ে যায় ব্যাটের কানা। কিন্তু স্লিপের বাঁ পাশ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া বলে ক্যাচ নেওয়ার চেষ্টাই করেন না নাসির হোসেন। ১ ও ২ রানে বেঁচে যাওয়া ডি ভিলিয়ার্স এরপর বাংলাদেশের টুঁটি চেপে ধরেন বাকি সময়টায়। সময় যত গড়ায়, ফাঁসটা আরো বেশি শক্ত করে।

প্রমাণ? প্রথম ৩৪ বলে তাঁর ফিফটিতে। সেঞ্চুরিতে পৌঁছানোর জন্য পরের পঞ্চাশের জন্যও ৩৪ বল খেলে। আর শেষ ৭৬ রানের জন্য ৩৬ বলের বেশি না খেলে!

মুখোমুখি হওয়া প্রথম বলে কাভারে ঠেলে ১ রান নেন ডি ভিলিয়ার্স। নবম বলে প্রথম বাউন্ডারি; মাশরাফিকে কাভার ও মিড উইকেট দিয়ে পর পর দুটি চার। এরপর সাকিবকে পুল করে চার মারেন। নাসিরের বলে লেগ স্টাম্পের বাইরে লাফ দিয়ে সরেও ফিরে এসে স্লগ সুইপ করে পাঠান বাউন্ডারির ওপারে। তাসকিনকে জোড়া চার তো নয়, যেন মারেন ‘জোড়া চড়’। প্রথমটি বেরিয়ে এসে কাভার দিয়ে; পরেরটি আবার ডাউন দ্য উইকেটে এসে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে। ফিফটি হয়ে যায় তাই দেখতে দেখতেই। সেঞ্চুরিতেও সময় লাগে না খুব একটা। রুবেল হোসেনের বলে এক রান নিয়ে মাত্র ৬৮ বলে পৌঁছে যান ২৫তম ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে।

এরপর ডি ভিলিয়ার্সের আরো খুনে হয়ে ওঠার পালা। যদিও ১০৭ রানে তাসকিনের বলে হুক করতে গিয়ে মিস টাইমিং হয়ে বল উঠে যায় আকাশে। কিন্তু বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য, ফাইন লেগ ও ডিপ স্কয়ার লেগের মাঝখানে পড়ে তা। এতে হয়তো আরো কাঁধ ঝুলে যায় বাংলাদেশের বোলারদের। সাকিবকে তাই পুল করে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মারেন অনায়াসে। মাশরাফিকে টানা দুই ছক্কা আর তাসকিনকে তো টানা তিন বলে ছয়, চার, ছয়। এতে দেড় শও পেরিয়ে যান ডি ভিলিয়ার্স। বাংলাদেশের বোলাররা তখন চোখে দেখছেন শর্ষে ফুল। বল ফেলার জায়গাও পাচ্ছেন না যেন।

মাশরাফিকে মিড অফ দিয়ে চার মেরে ওয়ানডেতে নিজের আগের সর্বোচ্চ ১৬২ পেরিয়ে যান ডি ভিলিয়ার্স। এরপর অপেক্ষা কেবল ডাবল সেঞ্চুরির। ইনিংসের তিন ওভার বাকি যখন, ডি ভিলিয়ার্স তখন ওই মোক্ষ থেকে ২৭ রান দূরত্বে। কিন্তু রুবেলের করা ওভারে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে হয়ে যান আউট। ১০৪ বলে ১৭৬ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস শেষ হয় অবশেষে। যে ইনিংসে ১৫টি চার, যার মধ্যে ছয়টি চোখজুড়ানো কাভার ড্রাইভে। আর সাতটি ছক্কা, যার সবগুলোই স্কয়ার লেগ থেকে মিড উইকেটের ভেতর।

বাংলাদেশের বোলার-ফিল্ডারদের জন্য দুঃস্বপ্নের ইনিংস নিঃসন্দেহে। তবে ব্যাটসম্যানদের জন্য স্বপ্নের এক ইনিংস। কবে যে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান এমন একটি ইনিংস খেলতে পারবেন!


মন্তব্য