kalerkantho


এশিয়া কাপের বাড়তি পাওয়া মালয়েশিয়া

শাহজাহান কবির   

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



এশিয়া কাপের বাড়তি পাওয়া মালয়েশিয়া

পাকিস্তান দল তখন মাঠে ঘাম ঝরাচ্ছে। হোটেলে টেঙ্কু তাজউদ্দিন, ফয়জাল সাররিরা খালি গায়ে মেতেছেন টেবিল টেনিসে।

পাকিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরের ম্যাচের আগে মালয়েশিয়ান খেলোয়াড়দের এই নির্ভার চেহারা টুর্নামেন্টে তাদের অবস্থানও পরিষ্কার করে দেয়। এশিয়া কাপ শুরু হয়েছে ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা আর কোরিয়ানদের শিরোপা জয়ের ঘোষণায়। টুর্নামেন্ট শুরু হতেই দেখা গেছে এই তিন দলের বাইরে মালয়েশিয়াও প্রবল প্রতাপশালী। নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচেই চ্যাম্পিয়ন কোরিয়াকে হারিয়ে জানান দিয়েছে তারাও শিরোপার শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। ওদিকে পাকিস্তানের রুগ্ণ চেহারা, তাতে ভারতের বিপক্ষে সম্ভাব্য ফাইনালিস্ট হিসেবে মালয়েশিয়ানদেরই ধরছেন কেউ কেউ।

অথচ এশিয়া কাপে কখনোই তারা শিরোপা লড়াইয়ে ছিল না। নিজেদের দেশে হওয়া সর্বশেষ আসরেও পাকিস্তানের কাছে হেরে তারা সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছে। তবে সেটি চার বছর আগের কথা। এ মুহূর্তে মালয়েশিয়াকে ভারতের চেয়েও এগিয়ে এশিয়ার সেরা বললেও ভুল হবে না।

জুনে ওয়ার্ল্ড হকি লিগে তো তারা ভারতকেও হারিয়েছে। টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনা, ইংল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সেমিফাইনাল খেলেছে তারা। ভারত হয়েছিল পঞ্চম, সপ্তম পাকিস্তান, নবম কোরিয়া। সেই হিসাবেও এবারের এশিয়া কাপের সুপার ফোরে তারাই ফেভারিট এবং আজ পাকিস্তানের বিপক্ষেও স্টিফেন ফন হিউজেনের দলকে নিয়ে বাজি ধরা যায় অনায়াসে। ডাচ বংশোদ্ভূত স্টিফেন এবারের আগে সর্বশেষ ২০০০ সালে জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন। সেবারই সর্বশেষ অলিম্পিকে প্রতিনিধিত্ব ছিল মালয়েশিয়ার। গত চারটি অলিম্পিকে তারা সেই সুযোগ পায়নি। এবার ওয়ার্ল্ড লিগের আগে স্টিফেনকে ফেরানো নতুন স্বপ্ন নিয়েই। তাতে প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই বাজিমাত করেছেন তিনি। ওয়ার্ল্ড লিগে চতুর্থ হয়ে মালয়েশিয়া যে এর মধ্যে ২০১৮ বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করে ফেলেছে। টেঙ্কু, ফয়জাল, মুতালিবদের বর্তমান দলটা দারুণ কিছুর সম্ভাবনা দেখাচ্ছে অবশ্য বছর দুয়েক ধরেই। গত বছর এশিয়ান চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও তারা কোরিয়া, পাকিস্তানকে হারিয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সর্বশেষ দেখা ওই আসরেই। গ্রুপ পর্বে ৪-২ গোলে জিতেছিল মালয়েশিয়ানরা, দুই দলের আবার দেখা হয় সেমিফাইনালে, সেখানেও নির্ধারিত সময়ের খেলায় পাকিস্তান তাদের হারাতে পারেনি, টাইব্রেকারে হেরে শেষ পর্যন্ত তৃতীয় হয়েছিল মালয়েশিয়া। স্টিফেন ফিরে এ দলটিকেই আরো ধারালো করে দিয়েছেন।

বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার লিগ খেলে যাওয়া ফরোয়ার্ড টেঙ্কু তাজউদ্দিনও সেই সম্ভাবনা দেখছেন। তবে ওয়ার্ল্ড হকি লিগে পাওয়া ছন্দটা ধরে রাখাই এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে তাঁর কাছে, ‘মালয়েশিয়ার হকি ইতিহাসে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স দেখিয়েছি আমরা এই টুর্নামেন্টে। ’

বারবার এশিয়া কাপে সেমি থেকে ছিটকে পড়ার আক্ষেপ এবার তাই ঘুচে যেতেও পারে। এবার অবশ্য ভিন্ন ফরম্যাট। ফাইনালে ওঠার জন্য একটা ম্যাচের বদলে একেকটা দলকে তিনটা করে ম্যাচ খেলতে হবে। সেখান থেকেই বাছাই হবে সেরা দুই দল। কোচ স্টিফেন নতুন এই ফরম্যাটে অবশ্য কিছুটা বিরক্তই, ‘চার দিনে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটা ম্যাচ খেলতে হবে। খেলোয়াড়দের ওপর এতে করে চাপ পড়ে যাচ্ছে। এ ফরম্যাটটা মোটেও পছন্দ হয়নি আমার, মনে হচ্ছে টুর্নামেন্টের ভেতর আরেকটা টুর্নামেন্ট। ’ দর্শকদের দিক দিয়ে বিচার করলে এটি অবশ্য বাড়তি পাওয়া। যেমন বাড়তি পাওয়া মালয়েশিয়া দলটাও। টুর্নামেন্টে ভারত-পাকিস্তান, এরপর খুব বেশি কোরিয়ায় চোখ ছিল হকিপ্রেমীদের। মালয়েশিয়ানদের দারুণ গতিময় হকি তাতে বাড়তি আমেজ দিয়েছে এবারের এশিয়া কাপে।


মন্তব্য