kalerkantho


ভাবিনি বাংলাদেশ কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে আমাদের

১৭ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



ভাবিনি বাংলাদেশ কঠিন পরীক্ষায় ফেলবে আমাদের

কালের কণ্ঠ : সেই ১৯৮৫-র এশিয়া কাপের পর এই প্রথম আবার এলেন ঢাকায়...

হাসান সরদার : হ্যাঁ, ’৮৫-র পর এই প্রথম। অনেক কিছুই আগের মতো লাগছে।

মাঠে পাকিস্তান দল এখনো এখানকার মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছে। হকি নিয়ে মানুষের উৎসাহটা বোধ হয় আগের মতোই আছে।

প্রশ্ন : ’৮৫-র সেই আসরটা আপনার কতটা মনে আছে?

হাসান : মাঠ ভরা দর্শক ছিল। ভারত-পাকিস্তান দুই দলই সমর্থন পেয়েছে। পাকিস্তান পেয়েছে হয়তো ৬০ শতাংশ, ৪০ শতাংশ ভারত। হকিটা মানুষ উপভোগ করেছে—এটা ছিল সবচেয়ে বড় ব্যাপার। আমিও টুর্নামেন্টটা খুব উপভোগ করেছি। ’৮২-র এশিয়ান গেমস, ভারতে বিশ্বকাপ এরপর ’৮৪-র লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে টার্ফে খেলেই আমরা সাফল্য পাই। ঢাকায় আসার আগে আমাদের প্রস্তুতিও ছিল টার্ফে।

তো এখানে এসে ঘাসে শুরুতে কিছুটা অসুবিধা হচ্ছিল। এর পরও টুর্নামেন্টটা জমজমাট ছিল। ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে শেষ মুহূর্তের গোলে সৌভাগ্যক্রমে আমরা জিতে যাই, কলিমউল্লাহ করেছিল গোলটা।

প্রশ্ন : সেই গোল নিয়ে তো অনেক বিতর্ক, স্টিক অনেক ওপরে থাকায় ‘ডেঞ্জারাস প্লে’র অভিযোগ ছিল ভারতের?

হাসান : না, না, ওটা পরিষ্কার গোল ছিল। এখন দেখুন না, খেলোয়াড়রা স্টিক কত উঁচুতে তুলে ফেলে। তখনো ওটা ডেঞ্জারাস ছিল না, তা ছাড়া কলিমউল্লাহ লাফিয়েও ছিল। আর তখন রিপ্লে ছিল না। আম্পায়াররা ভুল সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকলে সেটা তো আমাদের খেলোয়াড়ি সুলভ মনোভাবেই নেওয়ার কথা। আর ওই টুর্নামেন্টে তো ওই একটি গোলই হয়নি। ভারতের বিপক্ষে ওই ম্যাচেই রেফারির অনেক সিদ্ধান্ত আমাদের বিপক্ষেও গেছে।

প্রশ্ন : বাংলাদেশের বিপক্ষে আপনার শেষ মুহূর্তের গোলে জিতেছিল পাকিস্তান, সেই ম্যাচটা কতটা মনে আছে?

হাসান : হ্যাঁ, ওটাও একটা ভালো ম্যাচ ছিল। বাংলাদেশ ভালো খেলেছিল। আমরা ম্যাচটা সহজ হবে ধরে নিয়েছিলাম। আমাদের মনোযোগ ছিল আসলে ভারত ম্যাচের দিকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় নিয়ে ভাবিনি। কিন্তু ওরা আমাদের ম্যাচটা কঠিন করে দেয়। তাতে ম্যাচটা সত্যি উপভোগ্য হয়ে ওঠে।

প্রশ্ন : গোল হচ্ছিল না দেখে পাকিস্তান দলে নিশ্চয়ই দুশ্চিন্তা বাড়ছিল?

হাসান : আসলে তখনকার পাকিস্তান দলে আমার গোল করাটা সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তখন আমরা খেলতামই এমন ফরমেশনে যে গোলের জন্য সেন্টার ফরোয়ার্ডের ওপরই শুধু নির্ভর করতে হতো। আমি বা যে-ই খেলত ওই পজিশনে সে গোল না পেলে দেখা যেত দলই খারাপ করছে বা ম্যাচ হারের দিকে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই ম্যাচেও গোলের জন্য আমাকেই কিছু একটা করতে হতো। সেটা করতে পেরেছিলাম। ক্যারিয়ারের লম্বা একটা সময়ই কিন্তু পাকিস্তান দলে গোল করার এই দায়িত্বটা নিয়ে আমি খেলেছি, তাতে অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস, এশিয়া কাপের মতো আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছি।

প্রশ্ন : আপনি টার্ফ খেলাটা পছন্দের বলছিলেন?

হাসান : হ্যাঁ, আমি নিজে টার্ফে খেলাটাই পছন্দ করতাম। এই উপমহাদেশের খেলোয়াড়দের যে শারীরিক গঠন তাতে টার্ফে ভালো করা সম্ভব, যদি বডি ডজটা রপ্ত করা যায়। আর ওইটাই ছিল আমার পছন্দের। ঘাসের মাঠে স্টিক ওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ, টার্ফে স্টিক ওয়ার্কের পাশাপাশি সমান গুরুত্বপূর্ণ ওই বডি ডজটা। দ্রুতগতির খেলায় আপনি প্রতিপক্ষকে বোঝাবেন বাঁ দিকে ঢুকছেন; কিন্তু আসলে আপনি ঢুকবেন ডান দিয়ে। এটা অনুশীলনেই রপ্ত করতে হয়।

প্রশ্ন : ১৯৮২-র এশিয়ান গেমসে আপনার হ্যাটট্রিকে ভারতকে ৭-১-এ হারিয়েছিল পাকিস্তান, ভারত এখন সেই লজ্জাটাই পাকিস্তানকে ফিরিয়ে দিচ্ছে, পাকিস্তানের হকি এভাবে পেছাল কেন?

হাসান : এটা খুব দুর্ভাগ্যজনক, যে পাকিস্তান একসময় বিশ্ব শাসন করত তাদের এখন এভাবে হারতে হয়েছে। ধসটা নেমেছে আসলে আমাদের হকি অবকাঠামোতেই। সুযোগ-সুবিধাগুলো হারিয়ে গেছে। স্কুল-কলেজে হকি নেই। আগে এটা কম্পালসরি ছিল, এখন ছেলেদের পড়াশেনায় বেশি ঝোঁক, পাশাপাশি ক্রিকেট খেলছে। ক্রিকেট খেলাটাও সহজ, রাস্তায়ও খেলা যায়। কিন্তু হকির জন্য যে মাঠ প্রয়োজন, সেই মাঠ আমাদের নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা হকি খেলবে কোথায়।

প্রশ্ন : ভারতও আগের দাপট হারিয়েছে; কিন্তু গত কয়েক বছরে তো তারা উন্নতি করেছে?

হাসান : ভারত ঠিক পথে আছে। ওরা পেশাদার হকি লিগ চালু করেছে। সেখানে ১০০ খেলোয়াড় খেললেও জাতীয় দলের জন্য তা কাজে আসছে। পাকিস্তানে তো লিগও নেই। আগামী বছর থেকে অবশ্য আমরা সেই লিগ চালু করতে যাচ্ছি।

প্রশ্ন : শেষ প্রশ্ন, ৩২ বছর পর ঢাকায় এসেছেন, ১৯৮৫-র স্মৃতি আপনাকে কতটা টেনে এনেছে?

হাসান : অনেকটাই, ১৯৮৫-তে এখানে আমি অনেক ভালোবাসা পেয়েছিলাম। খেলাশেষে লোকজন আমাকে জড়িয়ে ধরেছে। এবার ঢাকায় ফিরে সেই আলিঙ্গন আবার আমি অনুভব করেছি। সবাই আমাকে সেই স্মৃতিটাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।


মন্তব্য