kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ভারতকে আমরা হারাতে পারতাম

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভারতকে আমরা হারাতে পারতাম

এশিয়ান বা এসএ গেমসের বাইরে জাতীয় কাবাডি দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয় খুব কম। এবার নেপালে চার জাতির একটি টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ পেয়ে খেলোয়াড়রা চাঙ্গা হয়ে উঠেছিলেন।

কিন্তু ওই আসর থেকে ফিরেছেন তাঁরা তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে। বাংলাদেশ দলের কোচ আব্দুল জলিল কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে সেই ব্যাপারে বলেছেন বিস্তারিত।

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : নেপালে আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্ট খেলতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে আপনাদের, সেই ব্যাপারে বলুন?

আব্দুল জলিল : এটা খুবই দুঃখজনক। অনেক আশা নিয়ে এই টুর্নামেন্টটায় আমরা খেলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু খেলা একরকম শেষ না করেই ফিরে আসতে হয়েছে আমাদের। আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতির শিকার হয়েছি আমরা। নেপালের বিপক্ষে যেমন, তেমনি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের ভিডিও ফেসবুকে আমি আপলোডও করেছি, দেখলেই বুঝবেন।

প্রশ্ন : এই আসরে তো শ্রীলঙ্কারও থাকার কথা ছিল?

জলিল : হ্যাঁ, ওখানে গিয়ে শ্রীলঙ্কা আসেনি শুনেই আমরা প্রথম ধাক্কাটা খাই।

ফলে টুর্নামেন্টটা হয়ে পড়ে তিন দলের। নেপালের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের প্রথমার্ধে ২২-১১-তে আমরা এগিয়ে। সেই ম্যাচ আমরা ৩৭-৩৫ পয়েন্টে হেরে গেলাম স্রেফ ওই দেশের আম্পায়ারদের স্বজনপ্রীতিতে। নেপালের দলটা আমাদের কাছে কিছুই না। আমাদের বিজিবি দলের সঙ্গেও ওরা পারবে না। কিন্তু আম্পায়ারদের সঙ্গে তো আর আমরা পারি না! ম্যাচ শেষে আমাদের ম্যানেজার লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন এ নিয়ে। খেলোয়াড়রা এ আসরে আর খেলতেই চাইছিল না। পরে ঢাকা থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল হয়তো বা, সে জন্যই আমরা খেলি। কিন্তু ভারতের বিপক্ষেও একই কাণ্ড। আম্পায়ার অন্যায়ভাবে পয়েন্ট দিয়ে দিচ্ছিলেন তাদের, এর প্রতিবাদে আমরা খেলা বন্ধ রাখি।

প্রশ্ন : ঠিক কী হয়েছিল ম্যাচে?

জলিল : আমরা শুরু থেকেই ওদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়ছিলাম। ম্যাচের যখন ১৬ মিনিট, তখন দুই দলের পয়েন্ট ৯-৯। এমন সময় আমাদের একজন রেইডার ওদের চারজন খেলোয়াড়কে ‘মেরে’ আসেন। তাতে আমাদের ৪ পয়েন্ট পাওয়ার কথা। কিন্তু আম্পায়ার উল্টো আমাদের রেইড বাতিল করে পয়েন্ট দেন ভারতকে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই আমরা। আগের ম্যাচের তিক্ততা তো ছিলই, এ ম্যাচেও এমন অন্যায় মেনে নিতে পারছিলাম না। ফলে আমরা খেলা বন্ধ করে দিই। ঘণ্টাখানেক পর ভারতকেই জয়ী ঘোষণা করা হয়। পরে নেপালকে হারিয়ে ওরা চ্যাম্পিয়নও হয়।

প্রশ্ন : ওই দেশের আম্পায়াররা ভারতের বিপক্ষে সিদ্ধান্ত দেননি?

জলিল : আসলে নেপাল ওদের বিপক্ষে দাঁড়াতেই পারেনি। তবে সেদিন আমাদের ভালো সম্ভাবনা ছিল ভারতকে হারানোর। এর আগে কখনোই প্রথম মিনিট পনেরোর ম্যাচে এতটা হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়নি, সেদিন যেমনটা হয়েছিল। ভারতের মূল দলটা যদিও আসেনি, তবু ওরাও কম শক্তিশালী ছিল না। কিন্তু আমরা আসলেই সেদিন ভালো খেলছিলাম।


মন্তব্য