kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

ফুটবলের চেহারা ফেরাতে জেলায় যেতে হবে

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ফুটবলের চেহারা ফেরাতে জেলায় যেতে হবে

বর্তমান ফুটবলের দুরবস্থার অন্যতম প্রধান কারণ হলো থিতিয়ে যাওয়া জেলা ফুটবল। বাফুফেও কয়েক বছর ধরে জেলাগুলোকে চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে।

একই জায়গায় কাজ করার আগ্রহ তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিনেরও, সুবাদে বাফুফের ডিএফএ কমিটিতে কো-চেয়ারম্যান হয়েছেন। দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রাম আবাহনীর ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান নতুন করে জেলা ফুটবল সাজানোর কথা বলেছেন 

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : জেলা ফুটবল নিয়ে আপনার কাজ করার ইচ্ছা ছিল। শেষ পর্যন্ত বাফুফেও সেটা দিয়েছে আপনাকে...

তরফদার মোহাম্মদ রুহুল আমিন : প্রথমে বলে রাখি, এই ডিএফএ কমিটিতে নাছির ভাই (আ জ ম নাছির উদ্দিন) আছেন চেয়ারম্যান হিসেবে, আমি কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্বে। এ দেশের ফুটবলকে আমি যতটা বুঝেছি, তাতে জেলাই আসল জায়গা। এখানে ফুটবল একাডেমি কালচার নেই বলে জেলার ফুটবল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জেলা লিগগুলোকে সচল করাটাই বড় কাজ। নিজেরা না পারলেও স্পন্সর জোগাড় করে হলেও জেলা লিগগুলোকে নিয়মিত করতে হবে।

প্রশ্ন : কিছু জেলায় তো লিগ হচ্ছে ইদানীং।

রুহুল আমিন : ১৫-২০ দিনে খেলা শেষ হওয়াটাকে লিগ বলা যায় না।

আমি চাই অর্থবহ ফুটবল লিগ করতে। চিন্তা করেছি, নাছির ভাইসহ আমরা প্রত্যেক বিভাগের সঙ্গে আলাদা করে বসব। তাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে উপজেলা পর্যায় থেকে একটা নিয়মের মধ্যে খেলাটা শুরু করতে। আশা করছি, নভেম্বর-ডিসেম্বর নাগাদ আমরা বিভিন্ন জেলায় ফুটবল লিগ শুরু করতে পারব।

প্রশ্ন : কয়েক মাস আগেও একবার ডিএফএ কর্তাদের নিয়ে একটা অনুষ্ঠান করেছিলেন ঢাকায়। সেটার কী উদ্দেশ্য ছিল?

রুহুল আমিন : সাইফ পাওয়ারটেকের পক্ষ থেকে ডিএফএ-গুলোকে দুই লাখ টাকা করে দেওয়ার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি ছিল। সে জন্যই ডিএফএ কর্তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম ঢাকায়। আসল কথা হলো, ফুটবলের চেহারা ফেরাতে হলে জেলায় যেতে হবে। তারপর এই খেলাকে বাণিজ্যিকীকরণ করতে হলে ঢাকার ফুটবল এবং বাফুফেকে একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনার মধ্যে থাকতে হবে। নির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং পরিকল্পনা থাকে না বলেই ফুটবল স্পন্সরহীনতায় ভোগে। এ অবস্থার জন্য বাফুফে এককভাবে দায়ী নয়, আমরা সংগঠক এবং ক্লাবগুলোরও দায় আছে।

প্রশ্ন : জেলা ফুটবলে মনোযোগী হলেই কি বদলে যাবে আমাদের ফুটবল?

রুহুল আমিন : না। শুধু জেলা দিয়েও হবে না, ঢাকার ক্লাবগুলোকেও লাগবে। জেলায় খেলা চালুর পর ঢাকায় তৃতীয় বিভাগ থেকে পেশাদার লিগ পর্যন্ত সব খেলা ঠিকঠাক হতে হবে। আমাদের প্রিমিয়ারের ক্লাবগুলোকে আরো বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে মূল দলের পাশাপাশি একটি করে বয়সভিত্তিক দল রেখে। আসল কথা হলো, জেলা থেকে উঠে আসা ফুটবলারের ঢাকায় খেলার ব্যবস্থাটা থাকতে হবে। এই চক্রটা কয়েক বছর চললেই পাইপলাইন তৈরি হয়ে যাবে। রাতারাতি কিছু হবে না, চার/পাঁচ বছর পর ভালো চেহারা দাঁড়াবে ফুটবলের।


মন্তব্য