kalerkantho


স্বপ্ন নিয়ে ফিরল কিশোররা

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



স্বপ্ন নিয়ে ফিরল কিশোররা

উজ্জ্বল ভবিষ্যতের হাতছানি : ফুটবলের জন্য অবিশ্বাস্য সেপ্টেম্বর মাস! গত সাত বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্যর্থতার মিছিলে এমন একটি মাস কল্পনা করাও কঠিন। একই সময়ে বাংলাদেশের দুটো বয়সভিত্তিক দল চমক উপহার দিয়েছে বিশ্বমঞ্চে। একদম প্রত্যাশাহীন জায়গা থেকে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের বিস্ফোরণ হয়েছে ভুটানে সাফ ফুটবলে। তবে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের কিশোররা আরো বড় মঞ্চ মাতিয়ে গতকাল দেশে ফিরেছে। ছবি : বাফুফে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফুটবলের জন্য অবিশ্বাস্য সেপ্টেম্বর মাস! গত সাত বছরে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ব্যর্থতার মিছিলে এমন একটি মাস কল্পনা করাও কঠিন। একই সময়ে বাংলাদেশের দুটো বয়সভিত্তিক দল চমক উপহার দিয়েছে বিশ্বমঞ্চে।

একদম প্রত্যাশাহীন জায়গা থেকে অনূর্ধ্ব-১৮ দলের বিস্ফোরণ হয়েছে ভুটানে সাফ ফুটবলে। তবে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের কিশোররা আরো বড় মঞ্চ মাতিয়ে গতকাল দেশে ফিরেছে।

মঞ্চটা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের। এখানে মধ্যপ্রাচ্যের দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করে সব সময় হেরে ফেরে বাংলাদেশ। কিন্তু অনূর্ধ্ব-১৬ দল ইয়েমেনের কাছে হারার পর কাতারকে হারিয়ে চমকে দিয়েছে সবাইকে। বাংলাদেশ কোচ পারভেজ বাবুর আক্ষেপ, ‘ইয়েমেনের সঙ্গে ভালো খেলেছে আমার ছেলেরা। সুযোগগুলো মিস না হলে হয়তো অন্য রকম হতো ব্যাপারটা। ইয়েমেনের একটি ম্যাচ আগে দেখা থাকলে হয়তো ম্যাচটা হারতাম না। ’ ওই ম্যাচে চমত্কার পাসিং ফুটবল খেলে চাপে ফেলেছিল প্রতিপক্ষকে, গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি।

উল্টো ডিফেন্সের ভুলের মাসুল দিয়েছে দুই গোলে হেরে। পরের ম্যাচেই কাতারের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশি কিশোররা। সেটার রহস্য নাকি কাতার-ইয়েমেন ম্যাচ দেখা। ‘এই ম্যাচটা আমরা স্টেডিয়ামে গিয়ে দেখেছিলাম সবাই মিলে। প্রত্যেকের পজিশন ধরে ধরে দেখিয়েছি কী করতে হবে। বড় ব্যাপারটা ছিল, কাতারের খেলা দেখার পর আমাদের খেলোয়াড়দের মধ্যে বিশ্বাস ফিরেছিল, এই দলের বিপক্ষে তাদের ভালো করার সামর্থ্য আছে। ম্যাচেও তাই হয়েছে’— বলেছেন কিশোর দলের কোচ। সেই বিশ্বাস সঙ্গে নিয়েই খেলেছে এবং ২-০ গোলে কাতারকে হারিয়েছে বাংলাদেশ এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলের চূড়ান্ত পর্বের দুয়ারে কড়া নেড়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত দুয়ার খোলেনি। ফরোয়ার্ড ফয়সাল আহমেদের আফসোস, ‘আরেকটা গোল থাকলে আমরা চূড়ান্ত পর্বে চলে যেতে পারতাম। গ্রুপ রানার্স-আপদের মধ্যে সেরা ছয়ে থাকতে পারলাম না। ’ নিয়মানুযায়ী গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ছাড়াও সেরা ছয় রানার্স-আপ দল উঠবে চূড়ান্ত পর্বে। সেখানে গোল ব্যবধানে বাংলাদেশ হয়েছে সপ্তম।

অল্পের জন্য ছিটকে পড়ার আফসোস-হতাশা যাই থাকুক, এই দলের কাছে তো এত প্রত্যাশা ছিল না কারো। পারভেজ বাবু নিজেও এত এগিয়ে ভাবেননি, ‘ওরা ভালো দল, র‌্যাংকিংয়েও সেটার প্রমাণ আছে। তাদের সঙ্গে আমরা লড়াই করব, নিজেদের সেরাটা দিয়ে খেলব—এই ছিল লক্ষ্য। মাঠে গিয়ে আমাদের ছেলেরা ভালো ফুটবল খেলে বাংলাদেশকে নতুনভাবে চিনিয়েছে। এই দলের একটা চরিত্র হলো, খেলার আগে তারা হারে না। ’ বুক চিতিয়ে লড়াই করার সুবাদে বাংলাদেশ জয় পেয়েছে কাতারের বিপক্ষে। গোল দুটো ফয়সাল আর দীপকের। গত মাসে নেপালে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবল ছিল এই দলের প্রথম পরীক্ষা। তৃতীয় হলেও এই কিশোরদের খেলায় সম্ভাবনা জেগেছিল। বিশেষ করে গোলের সামর্থ্য প্রকাশ পেয়েছিল, যেখানে বড়ই অক্ষমতা বাংলাদেশ সিনিয়র জাতীয় দলের। ফয়সাল একাই করেছিল ছয় গোল। তারপর দোহায় কাতারের বিপক্ষে এক গোলের সুবাদে ৭ গোল নিয়ে সে হয়েছে দলের গোল মেশিন। বাফুফের কাছে তার প্রত্যাশা, ‘আমাদের তো এ রকম কোনো টুর্নামেন্ট নেই। কিন্তু আমরা খেলতে চাই। ’

তাদের এখন আর কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট নেই। দেশেও এই বয়সীদের কোনো টুর্নামেন্ট নেই। তাহলে এরপর তারা কী করবে? কোচ পারভেজ বাবুর পরামর্শ, ‘যেভাবে হোক, এদের খেলার মধ্যে রাখতে হবে। আমন্ত্রণমূলক টুর্নামেন্টে পাঠানো যেতে পারে। দেশজুড়ে অনূর্ধ্ব-১৭ দলের একটি টুর্নামেন্ট হতে পারে, তাতে আরো কিছু নতুন খেলোয়াড় বের হবে। উন্নতি করতে হলে যুব ফুটবল উন্নয়নেই জোর দিতে হবে। এখান থেকেই তৈরি হবে ভবিষ্যতের তারকা। ’ ফয়সাল-মিরাজদের পায়ে সেই ঝলক আছে, তাদের পথ দেখিয়ে বাকিটুকু এগিয়ে নেওয়ার কাজ করতে হবে ফুটবল ফেডারেশনকে।


মন্তব্য