kalerkantho


নেপালের বিপক্ষে আজ ‘ফাইনাল’

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নেপালের বিপক্ষে আজ ‘ফাইনাল’

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে ভারতকে ফেভারিট বলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি। অথচ সেই ভারতকে প্রথম ম্যাচে হারিয়ে আসর শুরুর পর বাংলাদেশই আসলে অঘোষিত ফেভারিট হয়ে গেছে অনূর্ধ্ব-১৮ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে।

এখন সমীকরণ এমন দাঁড়িয়েছে যে আজ নেপালের বিপক্ষে জিতলে ভুটানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে শুধু হার এড়ালেই ট্রফি উঠবে বাংলাদেশের তরুণদের হাতে। থিম্পুতের নেপালের বিপক্ষে লাল-সবুজের আজকের ম্যাচটি তাই একরকম ফাইনালের মর্যাদা পাচ্ছে।

কাল ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাংলাদেশের কোচের কণ্ঠেও সেই উত্তেজনা, ‘নেপালের বিপক্ষে কালকের (আজ) ম্যাচটাই আমাদের জন্য ফাইনাল। যদি এই বাধাটা পেরিয়ে যেতে পারি তাহলে বলা যাবে ট্রফি জয়ের ৯০ ভাগ কাজই আমাদের হয়ে গেছে। এরপর ভুটানের বিপক্ষে আর ১ পয়েন্টই তো শুধু দরকার থাকবে। ’ ভারত-বাধা পেরিয়ে আসার পরও এই মুহূর্তে নেপাল কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে বাংলাদেশের সামনে দাঁড়িয়ে। এই ‘ফাইনাল’-এর আগে মাহবুব হোসেনকে স্মরণ করতে হচ্ছে যে, ‘ওরা (নেপাল) কিন্তু এই আসরের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। আর এখানকার (ভুটানের) যে কন্ডিশন, আবহাওয়া, উচ্চতা—তাতেও ওরা পুরোপুরি অভ্যস্ত। ’ ফলে এই ম্যাচে নেপালিরা সব দিক দিয়েই বাংলাদেশের পরীক্ষা নিতে যাচ্ছে এমনটা বলাই যায়।

নেপালেই অনুষ্ঠিত ২০১৫-এর সাফে (তখন অবশ্য ছিল অনূর্ধ্ব-১৯) যে দুই দলের গ্রুপে পড়েছিল বাংলাদেশ এবারের আসরে সেই নেপাল আর ভুটানের সঙ্গেই এখনো শুধু খেলা বাকি। সে আসরে ভুটানকে ৩-১ গোলে হারালেও নেপালিদের কাছে ২-১ গোলে হেরে গ্রুপে রানার্স-আপ হতে হয়েছিল মান্নাফ-রোহিতদের। সেমিফাইনালে বাংলাদেশ বিদায় নেয় ভারতের কাছে হেরে। এবার সেই ভারতকে হারিয়েই যখন টুর্নামেন্ট শুরু জাফর ইকবালদের, তখন নেপালের বিপক্ষেও প্রতিশোধ নয় কেন? মাহবুব জানিয়েছেন খেলোয়াড়রা তার জন্য পুরো তৈরিও এবং নিজেও তিনি সেই জয়ের ব্যাপারে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী, ‘খেলোয়াড়রা এই ম্যাচটির জন্য পুরোপুরি মুখিয়ে আছে। ওদের আত্মবিশ্বাসেও কোনো ঘাটতি নেই। আমি তো মনে করি মাঠে ওরা যদি পরিকল্পনার ৭০ ভাগও করে দেখাতে পারে তাহলেই আমরা ম্যাচটি জিতব। ’

আগের দিন নেপাল-মালদ্বীপের ম্যাচটা মাঠে বসেই দেখেছেন কোচ খেলোয়াড়রা। ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের পর এই ম্যাচে ২-০ গোলে জয় পেয়েছে নেপালিরা। এই ম্যাচ দেখে প্রতিপক্ষ সম্পর্কে ধারণাটা এখন আরো স্বচ্ছ বাংলাদেশি কোচের, ‘আমরা আমাদের নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলেই ওদের হারানো সম্ভব। ওদের আক্রমণভাগ বেশ ভালো। ৭ নম্বর ও ১০ নম্বর জার্সি নিয়ে খেলা দুজনের ওপর আমাদের নজর থাকবে। তুলনায় ডিফেন্সে ওদের কিছুটা নড়বড়ে মনে হলো। এই ম্যাচে সেট পিসগুলো কাজে লাগাতে পারলেও হয়তো আমরা ম্যাচ বের করে নিয়ে আসতে পারব। ’

নেপালের মতো আক্রমণভাগ ভালো বাংলাদেশেরও। ২ ম্যাচে ৩ গোল করে ভারতের লালাজাম্পুইয়ার সঙ্গে যুগ্মভাবে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার শীর্ষে রয়েছেন জাফর ইকবাল। ভারতের মতো দলের বিপক্ষে ৩-০তে পিছিয়ে পড়ে যে দল ৪ গোল করে ম্যাচ বের করে নিয়ে আসতে পারে, সেই দলের আক্রমণভাগ নিয়ে এমনিতেই অবশ্য কোনো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। তবে হজম করা ওই তিন গোল নিজেদের ডিফেন্স নিয়ে নিশ্চয় কোচকে ভাবনায় রেখেছে। নেপালিদের আক্রমণভাগকে মাথায় রেখে সেই ডিফেন্স নিয়ে বাড়তি কাজ করার কথাও জানিয়েছেন মাহবুব, ‘আমাদের ডিফেন্ডাররা জানে এই ম্যাচে কঠিন পরীক্ষায় পড়তে হবে, সে জন্য তারা তৈরি আছে। ’ জাফর ইকবালদের জন্য নেপালি কোচেরও নিশ্চয় তেমনি আলাদা পরিকল্পনা থাকবে। সে জন্য অন্য ফরোয়ার্ড ও মিডফিল্ডারদের কাছ থেকেও গোল আশা করছেন তিনি, ‘জাফর, রহমতরা যেহেতু গোলের মধ্যে আছে ওরা আলাদাভাবে মার্কিংয়ে থাকবে নিশ্চিত। সে জন্য অন্যদেরও চেষ্টা করতে হবে সুযোগ পেলে সেগুলো যেন কাজে লাগানো যায়। ’

থিম্পুর চাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে আজ সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশের সামপ্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচ। সিনিয়র জাতীয় দলের দুর্বিপাকে তরুণদের সাফল্যই হয়তো অনুপ্রেরণা জোগাবে দেশের ফুটবলে। এই আসরে পারফরম করে তারকাখ্যাতি পাচ্ছেন জাফর। কোচ যতই বিকল্প স্কোরারের কথা বলুন না কেন, মনে মনে নিশ্চিত চাইবেন আরেকবার জ্বলে উঠুন এই উইঙ্গার। থিম্পু থেকে কাল সেই জাফরের কণ্ঠেও ঝরেছে আত্মবিশ্বাস, ‘আমাদের সমীকরণটা সহজ, এই ম্যাচ জিততেই হবে। এরপর ইনশাল্লাহ ট্রফি নিয়েই ফিরব আমরা!’

পুরো দেশও অপেক্ষায় ফুটবলারদের হাস্যোজ্জ্বল সে ছবি দেখার জন্য।


মন্তব্য