kalerkantho


মেসি-রোনালদোর সঙ্গী এবার নেইমার

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মেসি-রোনালদোর সঙ্গী এবার নেইমার

দশ বছর আগে, প্রথমবারের মতো বিশ্বের সেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি পাওয়ার ভোটের লড়াইতে একসঙ্গে ‘জোট’ বেঁধেছিলেন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। এখনকার মতো তখনো ফিফার বর্ষসেরার পুরস্কারের সঙ্গে সংযোগ ছিল না ফ্রান্স ফুটবলের দেওয়া পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের।

২০০৭ সালে নির্বাচিত সাংবাদিকদের ভোটে ৪৪৪ পয়েন্ট পেয়ে বর্ষসেরা হয়েছিলেন কাকা, ২৭৭ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো আর ২৫৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হয়েছিলেন লিওনেল মেসি। সেটাই প্রথম ও এখন পর্যন্ত একমাত্রবারের মতো এই দুজনেরই খালি হাতে ফিরে আসা! কারণ পরের ১০টি বছর ফিফার সঙ্গে ফ্রান্স ফুটবলের মিলে ফিফা ব্যালন ডি’অর হোক কিংবা ফিফার আলাদা হয়ে যাওয়ার পর নতুন পুরস্কার ‘দ্য বেস্ট’ হোক; লড়াইটা হয়েছে মেসি ও রোনালদোর মধ্যেই এবং তাঁদেরই কেউ একজন হেসেছেন শেষ হাসি। শুধু পার্শ্বচরিত্রের মতো তৃতীয় নামটা বদলেছে বছর বছর! কখনো ফার্নান্দো তোরেস, কখনো জাভি, কখনো ইনিয়েস্তা; শেষবার ছিলেন আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান। কাল লন্ডনে ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ ২০১৭ পুরস্কারের জন্য যে তিনজনের নাম সংক্ষিপ্ত তালিকায় চূড়ান্ত করা হয়েছে, তাতে গত বছর ‘দ্য বেস্ট’-এর প্রথম আয়োজনের পুরস্কার জেতা রোনালদো আর দ্বিতীয় হওয়া মেসির সঙ্গে আছেন নেইমারও। গতবারের তিনের দুজন ধ্রুবকের মতোই আছেন, এবার শুধু গ্রিয়েজমানের জায়গায় নেইমার।

লন্ডনে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উন্মোচিত করা হয়েছে ‘দ্য বেস্ট’-এর সব বিভাগের পুরস্কারের সংক্ষিপ্ত মনোনয়ন তালিকা। সেরা মহিলা ফুটবলারারের সংক্ষিপ্ত তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন ভেনিজুয়েলার স্ট্রাইকার ডেয়ানা কাস্তেলানোস, মার্কিন মিডফিল্ডার কার্লি লয়েড ও বার্সেলোনা মহিলা দলের ডাচ মিডফিল্ডার লিয়েকে মের্তেনস। বর্ষসেরা কোচের পুরস্কারের জন্য মনোনীত তিন কোচ হলেন— ইতালি/চেলসির আন্তনিও কন্তে, জুভেন্টাসের কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি ও রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জিনেদিন জিদান। ‘দ্য বেস্ট’-এর প্রথম বছরে গোলরক্ষকদের জন্য কোনো পুরস্কার ছিল না।

তবে এখন থেকে পুরস্কার আছে তাদেরও। বর্ষসেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পাওয়া তিন গোলরক্ষক; ইতালি/জুভেন্টাসের জিয়ানলুইগি বুফন, কোস্টারিকা/রিয়াল মাদ্রিদের কেইলর নাভাস ও জার্মানি/বায়ার্ন মিউনিখের মানুয়েল নয়ার। সেরা গোলের জন্য পুসকাস পুরস্কারে মনোনয়ন পেয়েছেন ১০ জন। তাঁদের মধ্যে যুব দলের খেলোয়াড়রা যেমন আছেন, তেমনি আছেন মহিলা ফুটবলাররাও। মনোনয়ন পাওয়া ১০ জন হচ্ছেন—কেভিন প্রিন্স বোয়াটেং, আলেহান্দ্রো কামারগো, ডেয়ানা কাস্তেলানোস, মুসা দেম্বেলে, অলিভিয়ের জিরদ, আভিলেস হুর্তাদো, মারিও মান্দজুকিচ, অস্কারিন মাসুকুলেলে, নেমানিয়া মাতিচ, ইহোর্দি এমবোলা। বছরজুড়ে দলের খেলা দেখতে গিয়ে যারা উল্লাসে হর্ষধ্বনিতে অনুপ্রেরণা জোগান, তাদের জন্যও আছে পুরস্কার। কোন ক্লাবের ভক্তরা সেরা—সেই লড়াই হবে ডর্টমুন্ড, সেল্টিক আর কোপেনেহেগেনের ভক্তদের মাঝে।

লন্ডনের ব্লুমসবেরি বলরুমে গতকাল পিটার শিলটন, রবার্তো দি মাত্তেও, জে জে ওকোচা, আন্দ্রেই শেভচেঙ্কোদের মতো তারকাদের উপস্থিতিতে ঘোষণা করা হয় মনোনীতদের নাম। ২৩ অক্টোবর এখান থেকে খানিকটা দূরে ঐতিহাসিক লন্ডন প্যালাডিয়ামে হবে চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান। তার আগ পর্যন্ত হবে ভোটগ্রহণ। চারটি মূলনীতি মেনে চলবে ভোটিং। যেকোনো কোচ তাঁর দলের খেলোয়াড়কেও ভোট দিতে পারবেন, ঠিক তেমনি খেলোয়াড়ও নিজ দলের কোচকে ভোট দিতে পারবেন, যেটা ব্যালন ডি’অরে ছিল না। সাংবাদিকও নিজ দেশের খেলোয়াড় ও কোচকে ভোট দিতে পারবেন। একই সঙ্গে ফিফার ওয়েবসাইটে নিবন্ধিত ফ্যানরাও ভোট করতে পারবেন প্রিয় খেলোয়াড় বা কোচকে। সেরা গোলের পুরস্কার পুসকাস অ্যাওয়ার্ডের জন্য। ফিফা


মন্তব্য