kalerkantho


ছুটির আনন্দেও শিরোপার অঙ্ক

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ছুটির আনন্দেও শিরোপার অঙ্ক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক দিনের জন্য তাঁরা ছুটি নিয়েছেন ফুটবল থেকে। খেলার কথা ভুলে টুটুল-জাফররা কাল ভুটান ঘুরে বেড়িয়েছেন।

অনূর্ধ্ব-১৮ দলের ফুটবলাররা দিনটি উপভোগ করেছেন অন্যভাবে। দৃশ্যত সেখানে ফুটবল গরহাজির থাকলেও বাংলাদেশ কোচ মাহবুব হোসেন রক্সির চোখে ফুটবল ছিল ভালোভাবে, ‘খেলোয়াড়রা এত দিন ফুটবলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে কাটিয়েছে। ট্রেনিং এবং দুটি কঠিন ম্যাচের কঠিন চাপ নিয়েছে। এরপর তাদের মানসিকভাবে একটু চাঙ্গা করাও দরকার। ঘুরে বেড়ালেও আমাদের সব আলাপ-আলোচনায় ছিল ফুটবল। সামনের ম্যাচের আগে তিন দিনের বিরতি আছে। তাই কাল (আজ) থেকে আবার ফুটবলে ঢুকে পড়বে সিরিয়াসলি। ’

ঢুকতেই হবে। কারণ হঠাৎ করে বাংলাদেশ দলের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে শিরোপাস্বপ্ন।

সাফ অনূর্ধ্ব-১৮ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা। দেশ ছাড়ার সময় মাথায় অত বড় চিন্তা না থাকলেও ভুটানে প্রথম ম্যাচের পর থেকে সব পালটে যেতে শুরু করেছে। ভারতের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য ফুটবল খেলে লেটার মার্কস পেয়ে পাস করার পর লাল-সবুজে ফিরেছে ভীষণ আত্মবিশ্বাস। এরপর খুব সহজে মালদ্বীপ হার্ডল পেরিয়ে যেন টুর্নামেন্টটা তাদের কাছে সহজ হয়ে গেছে। নেপাল ও ভুটানের বিপক্ষে বাকি দুই ম্যাচও আর সেরকম কঠিন লাগছে না। আসলে আগে কঠিন পরীক্ষা উতরে গেলে সহজ হয়ে যায় বাকিগুলো। মাহবুব হোসেন রক্সি কঠিন-সহজের ব্যাখ্যায় না গিয়ে বলেছেন অন্যভাবে, ‘বাংলাদেশ ভালো খেলে দুটি ম্যাচ জিতেছে। পয়েন্ট তালিকায় এগিয়ে আছে। তাই বলে সামনের দুটি ম্যাচ কিন্তু জেতা হয়ে যায়নি। পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে না জেতার কোনো কারণ নেই। বড় কথা হলো, প্রতিপক্ষকে বুঝে ট্যাকটিকস অনুযায়ী খেলা। সেভাবে যারা খেলতে পারছে তারাই জিতছে। ’ যেমন স্বাগতিক ভুটানের সামর্থ্য কম হলেও তারা ‘কাউন্টার অ্যাটাক’ নির্ভর ফুটবলে খেলে দুটি জয় পেয়েছে। সুবাদে পাঁচ দলের রাউন্ড রবিন লিগের এ টুর্নামেন্টে তারা সমান ৬ পয়েন্ট পেলেও গোল গড়ে বাংলাদেশের পেছনে।   

ভারতের বিপক্ষে তিন গোলে পিছিয়ে পড়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে অসাধ্য সাধন করলেও মালদ্বীপের ম্যাচে প্রথমার্ধে দুই গোল করে সহজ করে ফেলে জয়ের রাস্তা। কোচের চোখেও লেগে আছে প্রথমার্ধের পারফরম্যান্সটাই, ‘এই ম্যাচে আরো গোল হলে আমি খুশি হতাম। প্রথম ৪৫ মিনিট তারা দুর্দান্ত খেলেছে, চাপ দিয়ে গোল বের করে ফেলেছে। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে খেলোয়াড়রা ইনডিভিজুয়াল পারফরম্যান্স দেখাতে গিয়ে দলগত খেলাটা ওভাবে হয়নি। গোলের সুযোগও সেভাবে পায়নি। তবে ভালো খেলেছে ডিফেন্ডাররা। ’ আগের ম্যাচে ভুগিয়েছে বাংলাদেশের ডিফেন্স, ভারতের বিপক্ষে টুটুল হোসেন বাদশার দু-দুটি ভুলের মাসুল দিতে হয়েছিল।

অনূর্ধ্ব-১৮ দলের এই পারফরম্যান্সে অ্যান্ড্রু ওর্ডও দারুণ খুশি। সিনিয়র জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়ান কোচ ভুটান গেছেন এই দলের উপদেষ্টা কোচ হিসেবে। তাঁর সহযোগিতার কথা বলেছেন রক্সি, ‘এই দলের কোচ আমি হলেও দল তৈরি এবং ট্রেনিংয়ে অ্যান্ড্রুর ভূমিকা আছে। দুজন মিলে খেলোয়াড় বাছাই করে দল তৈরি করেছি। একসঙ্গে প্র্যাকটিসের সময় না পেলেও লিগের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে আমরা খেলোয়াড়দের সাজানোর চেষ্টা করেছি। একদিক থেকে ভারতের ম্যাচটি ছিল আমাদের প্র্যাকটিস ম্যাচও। সেদিনের পারফরম্যান্সটাই তো এই দলের বড় পুঁজি। ’

প্রিমিয়ার লিগ ও চ্যাম্পিয়নশিপ লিগে পারফরম্যান্স দেখে দুই কোচ মিলে খেলোয়াড় বাছাই করেছেন। এরপর কিন্তু একসঙ্গে সবাইকে নিয়ে প্র্যাকটিস হয়েছে মাত্র এক দিন, খেলা হয়নি প্র্যাকটিস ম্যাচও। আর এই দলটি কিনা ভুটানে চমক উপহার দিচ্ছে প্রথম ম্যাচ থেকে! আগামী সোমবার তারা মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নেপালের। সিনিয়র দলের মতোই নেপালের এই অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলায়ও প্রচণ্ড গতি আছে। অ্যাটাকিং ফুটবল খেলে। বাংলাদেশ কোচের চোখে তারা মোটেও সহজ প্রতিপক্ষ নয়, ‘নেপাল ভালো খেলে, তাদের হালকাভাবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ’ এরপর টুর্নামেন্টের চরিত্রটা বিশ্লেষণ করেছেন এভাবে, ‘এই টুর্নামেন্টে বড়-ছোট কোনো দল নেই, যেকোনো দল যে কাউকে হারিয়ে দিতে পারে। খেলোয়াড়দের ম্যাচিউরিটির ওপর নির্ভর করে অনেক কিছু। কোচের গেম প্ল্যান অনুযায়ী যারা খেলছে তারাই জিতছে। আমরা আপাতত নেপাল ম্যাচ নিয়ে আছি। সেটা জিতলে পরে ভুটান চিন্তা। ’

ম্যাচিউরিটির পরীক্ষায় আপাতত বাংলাদেশ এগিয়ে। এটা আসে অভিজ্ঞতা থেকে। কদিন আগে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ফিলিস্তিনে খেলে এসেছেন জাফর ইকবাল, বাদশা, রহমত ও বিশ্বনাথ। এঁদের মধ্যে সিনিয়র দলে খেলার অভিজ্ঞতা আছে জাফর ইকবাল ও বাদশার। অভিজ্ঞরাই তো এই বয়সভিত্তিক দলের মূল চালিকাশক্তি। তাই ঠিকঠাক ট্রেনিং না হওয়ার পরও ভারতের বিপক্ষে অমন কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে শিরোপার স্বপ্ন দেখতে পারছে বাংলাদেশ।


মন্তব্য