kalerkantho


নতুন চ্যালেঞ্জ জাফরের

২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



নতুন চ্যালেঞ্জ জাফরের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আঞ্চলিক ফুটবলের মগডালে উঠে ভারত ছড়ি ঘোরাচ্ছে কয়েক বছর ধরে। এই ছড়ি ধরে হঠাৎ টান মেরে বসেছেন জাফর ইকবাল।

তাতে পা হড়কে গেছে পরাশক্তির; আর সুদিনের মৃদুমন্দ বাতাস বইতে শুরু করেছে দেশের ফুটবলে!

একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ-ভারতের ফুটবল প্রায় একই সমতায় দাঁড়িয়েছিল। গত এক দশকে সেই সহাবস্থান বদলে ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নের গ্রাফ ছুটেছে আকাশমুখী আর বাংলাদেশ পাতালের দিকে। র্যাংকিংয়েও দুই দলের মানের ফারাক ভীষণভাবে স্পষ্ট। এমন দুর্দিনে ১৮ বছর বয়সী এক যুবার বিস্ফোরণে অল্প সময়ের জন্য হলেও ঘুচে গেছে সেই মানের দূরত্ব। সুরভিত হয়েছে দেশের ফুটবল। বিশেষ করে ৩ গোলে পিছিয়ে পড়ে দ্বিতীয়ার্ধে ৪ গোল করে বাংলাদেশ ম্যাচ জিতেছে অবিশ্বাস্যভাবে। আর নায়ক জাফর ইকবালের গোল দুটি এবং করিয়েছেন আরেকটি। পারফরম্যান্সের এমন বিচ্ছুরণে চট্টগ্রাম আবাহনীর এ উইঙ্গারও খানিকটা বিস্মিত, ‘দ্বিতীয়ার্ধে আমরা সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করেছি। শেষ পর্যন্ত যে জিতব, এটা কারো কল্পনায়ও ছিল না।

শুধু শেষ পর্যন্ত লড়াই করে গেছি। এই ম্যাচের স্মৃতি থেকে যাবে অনেক দিন, আমার ক্যারিয়ারের সেরা এক ম্যাচ খেললাম ভুটানে। ’

১৮ বছর বয়সী এ উইঙ্গারের ফুটবল ক্যারিয়ারও সবে শুরু হয়েছে। গত মৌসুমে আরামবাগের জার্সিতে প্রিমিয়ারে পা রেখেছেন বান্দরবানের ছেলেটি। আর সেটাই হয়ে গেছে ক্যারিয়ারের বড় টার্নিং পয়েন্ট। ফেডারেশন কাপে তাঁর খেলা দেখেই টম সেইন্টফিট এ তরুণকে ডাকেন জাতীয় দলের ক্যাম্পে। লাল-সবুজের জার্সিতে সিনিয়র দলে তিন ম্যাচে সাড়া ফেলার মতো কিছু করেননি। কিছুদিন আগে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে ফিলিস্তিনে গিয়েও দাগ কাটতে পারেননি মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিধরদের বিপক্ষে। তারপর ভুটানের মাটিতে হয়েছে এই মহাবিস্ফোরণ, ‘এই ম্যাচ খেলে ভালো লাগার আরেকটি কারণ হলো, আমাদের উপদেষ্টা কোচ অ্যান্ড্রু ওর্ড আমার পারফরম্যান্স দেখেছেন এবং ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ’ এর আগে বাংলাদেশ দলের মূল কোচ ওর্ডের অধীনে তিনি এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ খেলেছেন ফিলিস্তিনে। ওখানে মানের ফারাক এত বেশি ছিল যে কারো পায়ে সেই অর্থে কিছু দেখা যায়নি।

মজার ব্যাপার হলো, এবার দল বদল করে জাফর চট্টগ্রাম আবাহনীতে গেলেও এখনো ঢুকতে পারেননি শুরুর একাদশে। বদলি হয়ে অবশ্য খেলেছেন কয়েকটা ম্যাচ। ক্লাব দলে জায়গা না পেলেও এখন মাহবুব হোসেন রক্সির বড় ভরসার ফরোয়ার্ড। ‘ট্রেনিংয়ে আমরা সময় পেয়েছিলাম খুব কম, সেখানে সেটপিস নিয়ে কিছুদিন প্র্যাকটিস হয়েছে। সেটাই কাজে লেগে গেল প্রথম ম্যাচে। দুটো কর্নার কিকে হেড করে জাফর ইকবাল দুটো গোল করেছে। এরপর সুফিলের গোলটা বানিয়ে দিয়েছে। সে-ই তো ম্যাচের নায়ক’—এই ফরোয়ার্ডকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৮ দলের কোচ। পরক্ষণে তিনি মালদ্বীপের ম্যাচের কথা ভেবে নতুন চ্যালেঞ্জের সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন জাফর ইকবালকে, ‘সে যেহেতু আমার দলের আগের ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়, তাই এ ম্যাচে সে প্রতিপক্ষের কড়া মার্কিংয়ে থাকবে। বড় খেলোয়াড় হতে হলে এ বাধাগুলো অতিক্রম করেই তাকে পারফরম করতে হবে। ’ এ টুর্নামেন্টই তো ফুটবলারদের স্বপ্নের সিঁড়ি। সবচেয়ে কঠিন সিঁড়িটা পেরিয়ে আজ তিনি তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে।


মন্তব্য