kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

আমি সব সময়ই রান করি

৫ বছর আগে এই জাতীয় লিগেই সুযোগ হাতছাড়া করেছিলেন। এবার আর তা নয়, রংপুরের বিপক্ষে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি তুলে নিলেন এনামুল হক। ২১৬ রানের ইনিংস নিয়েই কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের সঙ্গে আলাপে অবধারিতভাবেই উঠল জাতীয় দল প্রসঙ্গও

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



আমি সব সময়ই রান করি

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : ৫ বছর আগে মাত্র ৭ রানের জন্য ডাবল সেঞ্চুরি মিস করেছিলেন। এতদিনের অপেক্ষা নিশ্চয়ই খুব অস্বস্তিকরও ছিল?

এনামুল হক : ১৯৩ রানের ইনিংসটি তো অনেক পুরনো কাহিনী।

আমি ভুলেই গিয়েছিলাম (হাসি...)।

প্রশ্ন : তাই নাকি?

এনামুল : সত্যিই তাই। এমনকি সেঞ্চুরি করার পরও মনে পড়েনি যে আমি একটা ডাবল সেঞ্চুরি মিস করেছিলাম। তবে দিনশেষে (তৃতীয় দিনের শেষে) যখন ১৭৩ রানে অপরাজিত থেকে হোটেলে ফিরলাম, তখনই প্রথম মনে পড়েছিল। তখনই মনে হল, নাহ, এবার ডাবল সেঞ্চুরিটা করতেই হবে। ওই ব্যাপারটি মনে পড়ার আগপর্যন্ত আমি স্বাভাবিকই ছিলাম।

প্রশ্ন : তার মানে কি ডাবল সেঞ্চুরির জন্য রাতের ঘুমও নষ্ট হয়েছিল কিছুটা?

এনামুল : রোমাঞ্চিত তো ছিলামই। তবে ঘুম নষ্ট হওয়ার কোনো ব্যাপার ছিল না। কারণ আমি সবসময়ই রান করি।

তাই কখনোই এরকম হয় না যে রান করি না বলে আমি ঘুমাতে পারি না।

প্রশ্ন : আগে একবার ডাবল সেঞ্চুরি মিস হয়েছিল বলে কি এবার একটু বেশিই সাবধানী ছিলেন?

এনামুল : সাবধান হওয়ার চিন্তাই আসেনি। ভালোলাগার ব্যাপার হল, রান করার অভ্যাস আছে আমার। অভ্যাসটা আছে বলেই বড় কোনো উপলক্ষেও আমার মধ্যে নার্ভাসনেস কাজ করে না। কোনো সমস্যাও হয় না আমার।

প্রশ্ন : তাই বলে এবার ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও কি বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করেননি?

এনামুল : সাবধানতা যে একটা সময় অবলম্বন করিনি, তা নয়। তবে সম্প্রতি ১৪-১৫টার মতো ফিফটি করেছি। কিন্তু সেঞ্চুরিটাই হচ্ছিল না। তাই সেঞ্চুরির আগে একটু সাবধানে খেলার চেষ্টা করেছি। তবে ডাবল সেঞ্চুরি করার সময় সাবধানী ছিলাম না। নিজের স্বাভাবিক খেলাটিই খেলেছি। আর মাইলফলকের কথা মাথায় রেখে তো আর কেউ ব্যাটিং করতে পারে না। ব্যাটিং করতে করতেই আসলে বড় কিছু অর্জন করা হয়ে যায়। আমার ক্ষেত্রেও আজ তাই হল।  

প্রশ্ন : সম্প্রতি বোর্ড সভাপতির কথায় আপনার জাতীয় দলে ফেরার আলোচনা উঠেছিল। শেষপর্যন্ত অবশ্য জায়গা পাননি। এই ডাবল সেঞ্চুরি দিয়ে জাতীয় দলে ফেরার জোর দাবি জানিয়ে কোনো বার্তা দেওয়া হল কিনা?

এনামুল : খেলায় তো উত্থান-পতন থাকবেই। আমি নিজেকে আরো প্রতিনিয়ত আরো উন্নত ও পরিণত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আর ভালো খেলা নিজের সন্তুষ্টির জন্যও খুব জরুরী। দলের জন্য তো বটেই। আর জাতীয় দলের কথা বলছেন তো? জাতীয় দলে খেলার বাড়তি তাগিদ আমার আড়াই বছর আগেই ছিল, এখনো আছে, সামনেও থাকবে। জাতীয় দলে খেলার আশা সবাই করে। আমিও করি। লাল-সবুজ জার্সিটা আমিও গায়ে চড়াতে চাই। সেজন্য ভালো খেলে যেতে চাই।


মন্তব্য