kalerkantho


একই সংকট জয় করার লক্ষ্য তাঁদের

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



একই সংকট জয় করার লক্ষ্য তাঁদের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দুজনেই আছেন ঘোর সংকটে। একজন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে খেলা চার টেস্টে চারটি ফিফটিসহ ৪৬.৭৫ গড়ে ৩৭৪ রান করেও প্রশ্নের মুখে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ ইনিংসে মাত্র ৬৫ রান করার পর এই প্রশ্নও উঠে গেছে যে তিনি কেন দলে! আরেকজনের অবস্থা আরো করুণ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪ ইনিংসে করেছেন মোটে ২১ রান। তাঁর খেলা গত চার টেস্টের একটিতেও নেই ফিফটি। যে কারণে দলে জায়গা নড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল তাঁরও। এঁদের মধ্যে প্রথমজন সৌম্য সরকার এবং পরেরজন ইমরুল কায়েস।

ব্যাটে রান না থাকলেও দলে জায়গার নড়চড় হয়নি এঁদের কারোরই। সৌম্যর তো হওয়ার কথাই নয়। কারণ হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের পরম আস্থাভাজন এই বাঁহাতি ওপেনার। সেটি অস্বাভাবিকও নয়।

সময়ে সময়ে ব্যাট হাতে এমন অনেক ঝলক দেখিয়েছেন যে কোচের আস্থার প্রতিদান দেওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যাপার। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকেই কোচের প্রিয়পাত্র বনে যাওয়া সৌম্যর মতো সৌভাগ্যবান নন ইমরুল। নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়েই আজকের অবস্থানে। তবে এবার দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়ার আগে যা পেয়েছেন, সেটিকে তাঁর সৌভাগ্য বলতেই হয়। কারণ কোচের আস্থার হাত যে এখন তাঁর পিঠেও। যেটি পেতেই যেন আত্মবিশ্বাসে টগবগ করেও ফুটতে শুরু করে দিয়েছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘‘কোচের সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি আমাকে বলেছেন, ‘একজন খেলোয়াড় চারটি ইনিংসে খারাপ খেলেছে বলে তো আমরা ওকে বদ দিতে পারি না। তুমি টানা দুই-তিন বছর টেস্ট ক্রিকেটে রান করেছ। সব ফরম্যাটেই রান আছে তোমার। দুই-চারটি ইনিংসে খারাপ করলেই তোমাকে বাদ দিতে পারি না। ’ তিনি আমাকে এও বলেছেন, ‘তুমি খেলে যাও। অসুবিধা নেই’। ’’

কোচের সমর্থন পাওয়াটা দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইমরুলকে রানে ফেরাতে রাখতে পারে বিরাট ভূমিকা। সমালোচকদের জবাব দেওয়ার জন্য রানে ফিরতে চান সৌম্যও। তাঁকে ঘিরে সমালোচনার পুরোটাই অবশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। রান করেই সেই সমালোচকদের মুখে কলুপ আঁটাতে চান সাতক্ষীরার এই তরুণ, ‘এই সময়টায় ফেসবুক কম দেখার চেষ্টা করি। যেহেতু আমাদের দেশে কেউ ভালো খেললে তাঁকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়, খারাপ খেললেও কথা হবেই। এটাকে আমি ইতিবাচকভাবে দেখি। ভালো-মন্দ যাই হোক, সবাই আমাকে নিয়েই তো কথা বলছে। এসব ভেবে মানসিকভাবে শক্ত থাকার চেষ্টা করি। সমালোচকদের চুপ করানোর একটিই উপায় আছে। আর সেটি হলো রান করা। আমি কঠোর পরিশ্রম করছি রান করার জন্য। ’ শুধু সৌম্যই নন, রানে ফেরার জন্য ইমরুলে বাড়তি পরিশ্রমও লক্ষণীয়। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ শেষে জাতীয় দলের সব ক্রিকেটারকেই ছুটি দেওয়া হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকাগামী ফ্লাইটে চড়ে বসার আগে এই অবসরও রানে ফিরতে মরিয়া ইমরুল-সৌম্যরা কাজে লাগাচ্ছেন। মিরপুরের হোম অব ক্রিকেটে নীরবে অনুশীলনও করে চলেছেন তাঁরা। সারিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সেই ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও, যেগুলোর জন্য বড় ইনিংস খেলতে পারছেন না।

সৌম্য যেমন শোধরাতে চাইছেন ‘একটি ভুল’। শ্রীলঙ্কায় টানা তিন ইনিংসে ফিফটি করা এ ব্যাটসম্যান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও সেভাবেই ব্যাটিং করে সফল হয়ে চেয়েছিলেন, ‘শ্রীলঙ্কাতে যেভাবে খেলেছি, এখানেও সেভাবেই খেলতে চেয়েছি। কারণ শ্রীলঙ্কার উইকেট আর আমাদের উইকেট প্রায় একই রকম। এ কারণেই ওই ধরনের ব্যাটিং করেছি। যতটুকু সময় উইকেটে ছিলাম, ব্যাটেও বল আসছিল। কিন্তু একটি ভুলের কারণে আউট হয়ে যাচ্ছিলাম। ’

কম রানে আউট হতে থাকা ইমরুল আবার ক্যারিয়ার বাঁচাতে এমন জায়গায় যাচ্ছেন, যেখানে হয়েছিল তাঁর আন্তর্জাতিক অভিষেক। ২০০৮ সালের নভেম্বরে ব্লুমফন্টেইন টেস্টে অভিষিক্ত ইমরুলের বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে সুসময়টা গেছে মূলত ২০১৪-র ফেব্রুয়ারি থেকে গত বছরের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে তিন-তিনটি সেঞ্চুরি করা ইমরুল গত কিছুদিনের বাজে পারফরম্যান্সের জন্য দায়ী করেন ইনজুরিকে, ‘শেষ দুটো টেস্টে ভালো করিনি। এর আগে নিউজিল্যান্ডে ইনজুরি হয়েছে। সেটির কারণে ফেরার পর শ্রীলঙ্কায় ওভাবে পারফরম করতে পারিনি। সব মিলিয়ে নিজেকে একটু দুর্ভাগাই বলব। ইনজুরি না হলে যে ছন্দে যাচ্ছিলাম, তাতে পারফরম্যান্স আরো ভালো হতো। ’ কোচ আস্থা রাখায় সেই ভালোর দেখা দক্ষিণ আফ্রিকায় পেয়েও যেতে পারেন!


মন্তব্য