kalerkantho


মাহমুদের সামনে বড় সুযোগ

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



মাহমুদের সামনে বড় সুযোগ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গণমাধ্যমের জন্য বাংলাদেশের চেয়ে ভালো জায়গা নাকি আর হয় না। এখানে যে ‘খবর’ তৈরি হয় প্রতিনিয়তই! তাতে একটু পুরনো খবর চাপা পড়তেও লাগে না সময়।

পুরো দেশ থেকে ক্যানভাসটা ছোট করে কেবল খেলার ভুবনে নিয়ে এলেও তো তা-ই। এই যে মাহমুদ উল্লাহ বাদ পড়া নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরের সময় পুরো দেশে তোলপাড় হয়ে গেল, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে এর ধারাবাহিকতা কই!

সেবার মাহমুদের বাদ পড়া নিয়ে তেমন মাথাব্যথা ছিল না কারো। কারণ আরো বড় ‘খবর’ তৈরি হয়ে গেছে ততক্ষণে। বাদ পড়েছিলেন মমিনুল হকের মতো টেস্ট স্পেশালিস্টও!

সেই মাহমুদ আবার ফিরেছেন টেস্ট দলে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের স্কোয়াডে। আর তাঁর এই ফরম্যাটে প্রত্যাবর্তন প্রধান নির্বাচকের প্রবল চাওয়া থেকেই। পরশুর সংবাদ সম্মেলনে অমনটাই দাবি করেন মিনহাজুল আবেদীন, ‘ওকে (মাহমুদ) নেওয়াটা ব্যক্তিগতভাবে আমার সিদ্ধান্ত। কারণ সে বাউন্সি উইকেটে ভালো খেলে। ইংল্যান্ডেও ভালো খেলে এসেছে।

ওর ভালো করার ব্যাপারে আমি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী। বর্তমানে সে যেভাবে ব্যাটিং করে, তাতে তার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। ’ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গনে ১০ বছর কাটিয়ে দিয়েছেন মাহমুদ। এখনো টেস্ট দলে থাকার জন্য প্রধান নির্বাচকের ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের’ ওপর ভরসা করতে হয় তাঁকে। নিজেকে তাই দুর্ভাগা ভাবতেই পারেন মাহমুদ।

শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রথম টেস্টের পর মঞ্চস্থ মাহমুদ-নাটক। দ্বিতীয় টেস্টের একাদশ থেকে বাদ তো বটেই, তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত পর্যন্ত হয়। কারণ আবেগের কাছে আত্মসমর্পণে প্রবলভাবে ভেঙে পড়ে পুরো দলের মানসিকতায় নাকি নেতিবাচকতা ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। তা আবেগাক্রান্ত হবেন না? গলে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে না হয় ব্যর্থ, করেন শূন্য ও ৮ রান। কিন্তু এর ঠিক আগের টেস্ট ইনিংসটিই তো ৫০ পেরোনো। হায়দরাবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ ৬৪ রান আসে মাহমুদের ব্যাট থেকে। উইকেটে ছিলেন তিন ঘণ্টা ২০ মিনিট, বল খেলেছেন ১৪৯টি। অন্যদের আসা-যাওয়ার মিছিলে এক প্রান্ত আগলে অনেকক্ষণ লড়াই করেন মাহমুদ। অথচ পরের টেস্টে বিবর্ণ থাকার মাসুলেই কিনা একেবারে স্কোয়াড থেকে তাঁকে ঝেড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত!

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসানের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত দেশে ফিরতে হয়নি ময়মনসিংহের ওই ক্রিকেটারকে। কিন্তু কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহের গুডবুকে যে নেই তিনি! অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পরের সিরিজেই তাই দল থেকে বাদ মাহমুদ। অথচ ওই সিরিজে তাঁর অভাব অনুভূত হয়েছে ভালোভাবে। প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে দল ১০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার সময়। অথবা দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৩ রানে ৫ উইকেট পড়ে যাওয়ার সেই অবিশ্বাস্য ধসের সময়ও। মাহমুদ থাকলে যে ধসগুলো ঠেকাতে পারতেন, সে দাবি বাড়াবাড়ি। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে লড়াইয়ের প্রতিজ্ঞাটা তো থাকত তাঁর ব্যাটে!

আর বড় মঞ্চে মাহমুদ জ্বলে উঠতে ভালোবাসেন বরাবর। বাংলাদেশের প্রথম চার বিশ্বকাপ অংশগ্রহণে সেঞ্চুরি করতে পারেননি কেউ। ২০১৫ সালে মাহমুদ খোলেন সেই গেরো। শুধু তাই নয়, পর পর দুই ম্যাচে তিন অঙ্কের জাদুকরী সংখ্যা লুটোয় তাঁর ব্যাটে। কিংবা মাস তিনেক আগে বাংলাদেশকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনালে ওঠার পথে মাহমুদের ইনিংসটির কথা ভাবুন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ১০৭ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংসটির তো ঠাঁই হয়ে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট রূপকথায়। মাত্রই যে ব্যাটসম্যান অমন ইনিংস খেলেছেন, তাঁকেই কিনা বাদ দেওয়া হয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ থেকে। হোক না সেটি ভিন্ন ফরম্যাট; কিন্তু বাংলাদেশে এক ফরম্যাটে ফর্ম ফেরার ডিভিডেন্ট হিসেবে অন্য ফরম্যাটে খেলা চালিয়ে যাওয়ার উদাহরণ তো বড় কম নয়। বর্তমানের আয়নায় চোখ রাখলে সৌম্য সরকারকেই যেমন দেখা যাবে।

তবে মাহমুদ তো আর সৌম্য নয়। কোচের স্নেহ কখনোই পাননি সেভাবে। সেই ২০০৭ সালে অভিষেকের পর থেকে নিশ্চিন্তে ক্রিকেট খেলার সময়টাও তাঁর দীর্ঘ হয়নি কখনো। এমন অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকার টেস্ট স্কোয়াডে ডাক পাওয়া তাঁকে আবার দাঁড় করিয়েছে নতুন এক চ্যালেঞ্জের সামনে। প্রোটিয়াদের দেশে ২০০৮ সালে সর্বশেষ সফরে যায় বাংলাদেশ। সেই স্কোয়াডে ছিলেন না মাহমুদ। ঘরের মাটিতে ২০১৫ সালের সিরিজের দুই টেস্টে ৬৭ ও ৩৫ রানের দুটি ইনিংস আছে তাঁর। চাইলে সেখান থেকে কিছুটা প্রেরণা নিতে পারেন।

তবে সবচেয়ে বড় প্রেরণাটি বোধ হয় ভিন্ন। টেস্ট দলে নিজের জায়গা পাকা করা। কোচ হাতুরাসিংহের মন জয় করা। রংধনুর দেশের সফরটি কি পারফরম্যান্সে রাঙিয়ে দিতে পারবেন মাহমুদ? সুযোগ কিন্তু হাতের মুঠোয়!


মন্তব্য