kalerkantho


শেখ রাসেলের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সামনে

২৪ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



শেখ রাসেলের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সামনে

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবারও পুরনো ‘ভূত’ চেপেছে শেখ রাসেলের ঘাড়ে! মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে জয়ে শুরুর পর ব্রাদার্সের সঙ্গে ড্র এবং টানা তিন ম্যাচ হারের পর আলোচনা শুরু হয়ে গেছে ফুটবলাঙ্গনে। এটা উত্তরাধিকার-জাত ভূতের ভয়।

টানা আট ম্যাচ জয়হীন শেখ রাসেলের একটা দুঃস্বপ্নের অতীত আছে আগের মৌসুমে। গোল মিস, ইনজুরি ও দুর্ভাগ্য মিলিয়েই এক ছন্নছাড়া ব্যাপার ঘটেছিল। মাঝপথে দায়িত্ব নিয়ে সেই দলটিকে পথে ফিরিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম মানিক। সেবার এই কোচ ছিলেন ত্রাতা, সুবাদে তিনি ভয় তাড়ানোর কাজ এরই মধ্যে শুরু করে দিয়েছেন দলের ভেতর, ‘আমার দলটা খারাপ খেলছে না। আবাহনীর বিপক্ষে ম্যাচেও আমরা বাজে ফুটবল খেলে হারিনি। কিন্তু কিছু জায়গায় আমার পরিবর্তন করতে হবে, যাদের নিয়ে আমার পরিকল্পনা ছিল তাদের পাচ্ছি না। আশা করি সুফল পাব সামনে। ’

গত মৌসুমের দলের সঙ্গে তুলনা করলে এটি এগিয়ে থাকবে। আগের দল ছিল অভিজ্ঞতার ভারে ন্যুব্জ আর এটি তারুণ্য-অভিজ্ঞতার মিশেলে তৈরি নতুন এক দল, যাদের ভালো করার সামর্থ্য আছে।

সামর্থ্যের কথা সবাই বললেও গোলে তার প্রকাশ নেই। পাঁচ ম্যাচে গোল করেছে মাত্র পাঁচটি, তার মধ্যে একটি আত্মঘাতী। তারা গোল পাচ্ছে না বলে প্রতিপক্ষ খেলছে নির্ভয়ে। বরং উল্টো শেখ রাসেলের ওপর চাপ তৈরি করে তারা গোল বের করে নিচ্ছে। তাতেই হারের আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে। উত্তরণের সোজাসাপ্টা উপায় হলো, ‘অ্যাটাকিং থার্ডে’ নিখুঁত খেলা এবং আক্রমণের ধার বাড়ানো। এ ছাড়া মাঝমাঠের সৃষ্টিশীলতা এবং আত্মবিশ্বাস ফেরানো জরুরি।  

অ্যাটাকিং থার্ডে নিখুঁত খেলা : প্রথম ম্যাচে মুক্তিযোদ্ধার বিপক্ষে দাউদা সিসে দুই গোল করে ভয়ংকর হয়ে ওঠার ইঙ্গিত দিলেও পরের চার ম্যাচে গোলহীন এই গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড। সমস্যা হলো তিনি ঠিক বক্সের স্ট্রাইকার নন, বাইরে থেকে বল নিয়ে ভেতরে ঢোকেন কিংবা অন্যকে বানিয়ে দেন। এই অন্য জনটি তিনি খুঁজে পাচ্ছেন না জুটি বাঁধার জন্য। স্ট্রাইকার আমিনুর রহমান ও রুম্মন ইনজুরিতে। মেহবুব হাসান নয়ন গত মৌসুমে রহমতগঞ্জে দুর্দান্ত খেলে শেখ রাসেলে নাম লিখিয়ে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি এখনো। কিন্তু ম্যাচ জিততে হলে ঝাঁজালো আক্রমণ লাগবে এবং বক্সের ওপর নিখুঁত খেলে প্রতিপক্ষকের ওপর চাপ তৈরি করতে হবে। তখনই গোলের সুযোগ আসবে।

মধ্যমাঠে লাগবে সৃষ্টিশীলতা : শাহেদুল আলমের পায়ে সৃষ্টিশীলতা থাকলেও শেখ রাসেলের মাঝমাঠে তার প্রকাশ সেভাবে নেই। প্রথমদিকে অনুপস্থিত থাকলেও মোনায়েম খান রাজু অসুস্থতা সেরে ফিরেছেন মাঠে। দুই মিডফিল্ডার ভালো ফর্মে থাকলে দলের মাঝমাঠ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকে না। তারা ভালো খেললে স্বাভাবিকভাবে ফরোয়ার্ড লাইনে ভালো বল যাবে। আক্রমণে বৈচিত্র্য যোগ হবে। সেটা হয়ে ওঠেনি বলেই শেখ রাসেলের ‘অ্যাটাকিং থ্রেট’ নেই। এটা তৈরির জন্য শফিকুল ইসলাম মানিকও কিছু কৌশলগত পরিবর্তনের কথা ভাবছেন।  

আত্মবিশ্বাস ফেরানো : প্রথম ম্যাচের পর থেকে আর জয়ের দেখা পায়নি শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র। তার ওপর টানা তিন হারে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস নড়ে গেছে। কিন্তু সামনের ম্যাচগুলোতে ভালো খেলতে হলে বিশ্বাস ফেরানোটা খুব জরুরি। গত মৌসুমে হারতে হারতে তারা যেন নিজেদের স্বাভাবিক খেলা ভুলে গিয়েছিল। কোচ অবশ্য বিশ্বাস মেরামতের কাজ করছেন, ‘এই দলে অনেক খেলোয়াড় আছে যারা গতবার খুব বাজে অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। সুতরাং এবারও তারা পারবে, কেবলই একটি জয়ের ব্যাপার। ’    

ব্যাপারটা যখন একটি জয়ের তখনই সামনে দাঁড়িয়ে ফরাশগঞ্জ, আগামী ২৭ আগস্ট তাদের মুখোমুখি হবে শেখ রাসেল। তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষ বলে এটিই হতে পারে তাদের ‘ভয়’ তাড়ানোর ম্যাচ। নিজেদের ফিরে পাওয়ার ম্যাচ। কোচ শফিকুল ইসলাম মানিকও তা-ই মনে করেন, ‘ফরাশগঞ্জকেও খাটো করে দেখার সুযোগ নেই আমাদের। তবে এই ম্যাচ আমাদের জন্য একটা সুযোগ মনে করি। ভালো খেলে ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়তে হবে। এখনো মাত্র পাঁচটি ম্যাচ গেছে, সামনে অনেক খেলা। আমার লক্ষ্য প্রথম লেগে শীর্ষ দলের চেয়ে ৬/৭ পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে শেষ করা। ’ সেটা পারলে অর্থাৎ ব্যবধান কম থাকলে মধ্যবর্তী দলবদলে আবার খুঁতগুলো সারিয়ে নতুন করে লড়াইয়ে নামার পরিকল্পনা করতে পারবে। তার আগে ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে হবে শেখ রাসেলকে। এরপর সেই জয়রথ টেনে নিতে হবে .... কঠিন কাজ।


মন্তব্য