kalerkantho


সব কিছুর জন্য প্রস্তুত তামিম

২৪ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



সব কিছুর জন্য প্রস্তুত তামিম

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অভিনবভাবেই অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকলেন তিনি। রাজধানীর এক হোটেলের হলরুম অন্ধকার করে চলছিল অডিও ভিজ্যুয়াল।

সেটি শেষ হতেই আলো যেমন জ্বলল, তেমনি খুলে গেল হলরুমের অন্য প্রান্তের দরজাও। লাল কার্পেট বিছানো পথে একটি মোটরসাইকেল ঢুকতেই দেখা গেল চালকের পেছনে বসা তামিম ইকবালকে। যে ব্র্যান্ডের মোটরসাইকেলে করে ঢুকেছেন, এবার সেই হাউজুয়েরই পণ্যদূত হয়েছেন বাংলাদেশ দলের এ বাঁহাতি ওপেনার। চীনের এ মোটরসাইকেলের স্থানীয় পরিবেশক কর্ণফুলী হুইলস লিমিটেডের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করার আগে নাকি পণ্যটির গুণাগুণও যাচাই করেছেন যথাসাধ্য। তাই এই সিদ্ধান্তেও পৌঁছাতে পেরেছেন যে, ‘আমার কাছে নিরাপত্তা সবার আগে। নিজের গবেষণায় আমি যতটুকু বুঝেছি এই মোটরসাইকেলও বেশ নিরাপদ। ’

তামিমের সার্টিফিকেট হয়তো বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের গ্রাহকদেরও আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে। তবে এর আগে এখন তাঁর ব্যাটিং সক্ষমতায় আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নিরাপত্তা খুঁজছে বাংলাদেশও। সময়ে ক্রমেই আরো পরিণত হতে থাকা চট্টগ্রামের এ তরুণ ব্যাটিং নির্ভরতার এমনই প্রতিশব্দ হয়ে উঠেছেন যে তাঁর কাছে প্রত্যাশা বেড়ে যাওয়াই স্বাভাবিক।

দেশের মাটিতে বাংলাদেশের সবশেষ টেস্ট গত বছরের অক্টোবরে ঢাকায় ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। ঐতিহাসিক জয় পাওয়া সেই ম্যাচের দুই ইনিংসেই (১০৪ এবং ৪০) তামিমের ব্যাট। নিরাশ করেননি গত মার্চে কলম্বোর পি সারা ওভালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের শততম টেস্টেও। জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখা সেই টেস্টে সেঞ্চুরি পাননি বটে, তবে ৪৯ ও ৮২ রানের দুটি ইনিংসের জন্য ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার উঠেছিল তাঁর হাতেই। অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও তাই তামিমকে ঘিরে দারুণ কিছুর আশা।

হাউজুয়ের পণ্যদূত হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অনুষ্ঠানেও তাই উঠল সেই প্রসঙ্গ। কিন্তু তাঁকে নিজের পারফরম্যান্স পর্যন্ত টেনে নেওয়া গেল না, কারণ তামিম বিশ্বাস করেন ‘সম্মিলিত’ অবদান রাখায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভালো কিছু করার আশায়ও সবার অবদানের যোগফল চান তামিম। দেশের মাটিতে স্পিন উপযোগী উইকেট স্টিভেন স্মিথদের হারানোর অব্যর্থ ফর্মুলা হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই। তামিম নিজেও মানছেন তা। তবে সে জন্য শুধুই স্পিনারদের দিকে তাকিয়ে থাকার ব্যাপারটিতেও সায় নেই তাঁর, ‘উইকেট স্পিন সহায়ক হলে আমাদের স্পিনারদের অবশ্যই ভালো বল করতে হবে। তাই বলে এমন নয় যে পেস বোলার কিংবা ব্যাটসম্যানদের ভালো করা লাগবে না। পারফরম্যান্স হতে হবে সম্মিলিত। ’

সদলবলে ঝলসে ওঠা পারফরম্যান্সের জন্য দল সম্ভাব্য সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে সেরে নিয়েছে বলেও দাবি করলেন তামিম, ‘এই সিরিজের প্রস্তুতি নিতে গিয়ে আমরা প্রায় সব জায়গাই স্পর্শ করেছি। এখন শুধু বাস্তবায়ন করার পালা। আরো যে ছোট ছোট কাজ করার দরকার, সেগুলোও আমরা টেস্টের আগের কয়েক দিনে সেরে নেব। ২৭ আগস্টের মধ্যেই আমরা পুরোপুরি তৈরি হয়ে যাব। আশা করছি খুব ভালো একটি টেস্ট সিরিজ হবে। ’ তবে নিজেদের মাঠে খেলা বলে বাংলাদেশকে ফেভারিট বলে দেওয়ার পক্ষপাতীও তিনি নন, ‘নিজেদের মাঠে খেলব বলে আমাদের কিছু সুবিধা তো থাকবেই। তাই বলে খেলার আগেই আমরা জিততে পারব না। পাঁচটি দিন সেশন বাই সেশন লড়াই করে এবং ভালো খেলেই আমাদের জিততে হবে। আর অস্ট্রেলিয়াও আগে থেকে হেরে যাবে না। ওরা খুব পেশাদার দল। টেস্ট ক্রিকেটের অন্যতম সেরা দল। ওদের হারাতে হলে প্রতিটা সেশনে জিততে হবে, জিততে হবে প্রতিটা ছোট ছোট পদক্ষেপেও। অনেক কঠিন কাজ। ’ উইকেট স্পিন সহায়ক হলে নিজেদের রান করার কষ্টের কথাও মাথায় আছে তাঁর, ‘ওদেরও তো উঁচু মানের স্পিনার আছে, বিশেষ করে নাথান লিয়ন। আমাদের তাই সব কিছুর জন্যই তৈরি থাকতে হবে। স্পিন উপযোগী উইকেট বানিয়ে রাখলেই জিতব না। স্পিন সহায়ক উইকেটে ওদের রান করতে কষ্ট হলে আমাদেরও হবে। ’ অস্ট্রেলিয়া দলে বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বেশ কয়েকজন বলে স্বাগতিকরা বাড়তি অফ স্পিনার হিসেবে নাসির হোসেনকে নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ দলেও তো বাঁহাতির অভাব নেই। সে ক্ষেত্রে লিয়নের মতো বোলারের ত্রাস হয়ে ওঠার সম্ভাবনাও মাথায় রাখছেন তামিম, ‘স্পিন সহায়ক উইকেটে লিয়ন বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে বলেই আমরা ওকে নিয়ে অনেক দিন থেকেই কাজ করছি। আমাদের আসলে সব কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। ’


মন্তব্য