kalerkantho


মানিয়ে চলছেন ইমরুল

২৩ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



মানিয়ে চলছেন ইমরুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বন্দুকের নলের সামনে তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার, চুন থেকে পান খসলেই ঘাড় ধাক্কা! সে তিনি এ কালের রগচটা হেড কোচ চন্দিকা হাতুরাসিংহে হন কি আপাতত শান্ত জেমি সিডন্স—ইমরুল কায়েসের ভাগ্যবদল হয়নি। সে কারণেই কিনা, অনেক চাপাচাপিতেও নিজের পছন্দের ব্যাটিং পজিশন জানাতেও সতর্ক বাঁহাতি এ টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যান।

ক্রিকেটারদের গত্বাঁধা ‘দলের প্রয়োজনে’ ৩ নম্বরে খেলতে অনাপত্তির কথাই বলেছেন ইমরুল।

টেস্টে বাংলাদেশের সেরা উদ্বোধনী জুটি তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের। পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনা টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তো অবিশ্বাস্য একটা জুটিও আছে তাঁদের। তবু কখনো ফর্মের দোহাই দিয়ে, কখনো টিম কম্বিনেশনের কারণে একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন নয়তো ৩ নম্বরে খেলেছেন ইমরুল। ব্যাটিং অর্ডার কখনোই তাঁর ইচ্ছায় নয়, ঠিক হয়েছে ‘দলীয় প্রয়োজনে’।

সব সময় দলই আগে। তবু ক্রিকেটে ওপেনারের পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দেয় সব দলই। এ গুরুত্ব মেলে পজিশনটি বিশেষত্বের কারণে। ম্যাচের প্রথম বলের মুখোমুখি হওয়ার স্কিলের সঙ্গে মানসিক প্রস্তুতিটাও পুরোপুরি ভিন্ন, সেটা সবার থাকে না।

আবার একজন ওপেনারের ব্যাটিং অর্ডার পাল্টালেও সমস্যা। ইমরুল যেমন নিসংকোচে বলতে পারছেন, ‘পরে নামলে প্যাড পরে ড্রেসিংরুমে অপেক্ষায় থাকতে হয়। ওই সময় নিজের মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে, কখন মাঠে নামব। তামিমকে যদি বলেন পরে নামতে, ও পারবে না। একটা সময় আমিও পারতাম না। তার পরও অ্যাডজাস্ট করতে হচ্ছে। দলের জন্য, দলের প্রয়োজনে খেলতে হচ্ছে। ’

বিদেশি কোচের সংসারে ২০০৮ সালে অভিষেকের পর থেকেই ‘অ্যাডজাস্ট’ করে চলেছেন ইমরুল। ২০১১ সালে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হোম সিরিজের পর দল থেকে বাদ পড়েন তিনি। ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অবশ্য ফিরেছিলেন ইমরুল, তবে ৩ নম্বরে। ফিরেই সেঞ্চুরি এবং এরপর খুব বেশি সময় লাগেনি তাঁর ওপেনিংয়ের হারানো স্থানটি ফিরে পেতে। এক ম্যাচ পরই আবার তামিমের উদ্বোধনী সঙ্গী ইমরুল। সব শেষ নিউজিল্যান্ড সফরেও ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে ইনিংস সূচনায় চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ফিটনেসের কারণে দ্বিতীয় টেস্ট থেকে ছিটকে পড়ায় ইমরুলের জায়গা নেন সৌম্য সরকার। সেই থেকে জাতীয় দলের হেড কোচের যে ছক তাতে ইমরুলের অভ্যস্ত ব্যাটিং পজিশন ফিরে পাওয়ার আশু কোনো সম্ভাবনা নেই।

ইমরুল নিজেও জানেন বিষয়টি, ‘শ্রীলঙ্কায় যে শেষ টেস্টটা খেলেছি, সেটাও তিনে খেলেছি। আমি কোচের সঙ্গে কথা বলেছি, তিনি তিনেই ব্যাটিং করার কথা বলেছেন। নেটে সেভাবে ব্যাটিং করছি। ঘরোয়া ক্রিকেটেও তা-ই করেছি। যদিও ওপেনার থেকে ৩ নম্বরে ব্যাটিং করা কঠিন। ’ ব্যাটিং অর্ডারে এ পরিবর্তনকে দুর্ভাগ্যজনক বলেও মনে করছেন না ইমরুল, ‘আমি মনে করি জাতীয় দলের পক্ষে ম্যাচ খেলাই সবচেয়ে বড় অর্জন। এ জন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। ব্যাটিং পজিশন নিয়ে নিজের পছন্দ থাকে। তবে দল যেটা ভালো মনে করে, সেটাই করতে হবে। ওপেনিং কিংবা ৩ নম্বর, যেখানেই হোক আমি খেলতে তৈরি। ’ দলের পরিকল্পনায় সৌম্যকে নিজের জায়গায় দেখেও বিরাগ প্রকাশ করেননি তিনি, ‘সৌম্য ভালো করছে। এ কারণেই কোচ ভেবেছেন ওকে ওপেনিংয়ে রাখতে। এটাই হয়তো টিমের প্ল্যান। ’

প্রায় আট বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে দলীয় পরিকল্পনায় নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলতে না পারার আক্ষেপ অবশ্য আড়াল করেননি ইমরুল, ‘আট বছর খেলে ফেলার পরও দলে আমি অনিয়মিত। জানি, খারাপ খেললে জায়গা থেকে সরে যেতে হয়। ফেরার পর নতুনভাবে শুরু করতে হয়। কী হতো বা হতো না, সেসব নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই। এখন সামনে যা আছে, সেদিকে ফোকাস করা ভালো বলে মনে করি। ’


মন্তব্য