kalerkantho


আবেগের রাতে জিতল বার্সা

রিয়াল পুরনো ছন্দে

২২ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



আবেগের রাতে জিতল বার্সা

স্প্যানিশ সুপার কাপে মাত্রই উত্তপ্ত দুটি ম্যাচ গেছে, কিন্তু পরশু রাতে বার্সেলোনার সঙ্গে একাত্ম ছিল রিয়াল মাদ্রিদও। কাতালুনিয়ার শহরটিতে সন্ত্রাসী হামলায় সমব্যথী রিয়াল খেলোয়াড়রাও এদিন হাতে কাল ব্যাজ পরে নেমেছিলেন।

ন্যু ক্যাম্পে উপস্থিত প্রায় ৬০ হাজার দর্শকের মধ্যে সেই আবেগ তো ছিলই; লিওনেল মেসি, সের্হিয়ো বুশকেত্জদের জার্সিতে এদিন নিজেদের নামও ছিল না। সেখানে লেখা শুধু ‘বার্সেলোনা’। আবেগের রাতে কাতালানদের মাঠের খেলায়ও হতাশ করেননি তাঁরা। রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ২-০ গোলের সহজ জয়ে লা লিগার নতুন মৌসুম শুরু হয়েছে তাদের।

দেপোর্তিপো লা করুনার মাঠে রিয়াল মাদ্রিদও সেই ‘পুরনো’ রিয়াল। ৩-০ গোলের জয়ে মৌসুম শুরু করার পাশাপাশি টানা গোল করার ইউরোপিয়ান রেকর্ডটা নিয়ে গেছে তারা ৬৯ ম্যাচে। স্প্যানিশ সুপার কাপটা তারা জিতেছে একরকম গ্যারেথ বেলকে ছাড়া। প্রথম লেগে ৪১ মিনিট খেলেছিলেন ওয়েলশ ফরোয়ার্ড, দ্বিতীয় লেগে তাঁকে নামানইনি জিনেদিন জিদান। ফরাসি কোচের বাড়তি তৃপ্তি সেই বেল লিগে নেমেই করেছেন ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স।

তিন গোলের একটি তাঁর, অন্য একটিতে তাঁর অ্যাসিস্ট। ম্যাচের পার্শ্বনায়ক অবশ্যই কেইলর নাভাস। শুরুতে কিছুটা অগোছালো রিয়ালকে তাঁর দারুণ দুটি সেভই যেন জাগিয়ে দেয়। ২০ মিনিটে বেলের গোলটা পোস্টের কাছে দাঁড়িয়ে আলতো টোকায়। তার আগে লুকা মডরিচের গোলার মতো শটটি গ্রিপে রাখতে পারেননি দেপোর্তিভো গোলরক্ষক, করিম বেনজেমা এগিয়ে এসে বেলকে সুযোগটা করে দেন। রিয়াল ব্যবধান বাড়াতে এরপর মিনিট দশেকও সময় নেয়নি। পুরো মাঠে রিয়াল খেলোয়াড়দের এক পাসিং প্রদর্শনীর শেষটা হয় ক্যাসেমিরোর গোলে। প্রতিপক্ষকে দর্শক বানিয়ে নাভাস থেকে শুরু করে এই সময়ে ৪৪টা পাস খেলে রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধেও দেপোর্তিভোর ডিফেন্স চিরে বেলের কাটব্যাক, সেখান থেকে ব্যবধান ৩-০ করেন টনি ক্রুস। শেষটায় অবশ্য ব্যবধান কমানোর সুযোগ ছিল স্বাগতিকদের, কিন্তু পেনাল্টিতে ফ্লোরিন আনদোনেকে রুখে দেন নাভাস। অতিরিক্ত সময়ে তার পরও একটা ধাক্কা খায় রিয়াল, দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে সের্হিয়ো রামোসকে যে মাঠ ছেড়ে যেতে হয়।

বার্সেলোনার মাঠে এদিন হ্যাটট্রিক হতে পারত মেসির। নেইমার, লুই সুয়ারেসহীন দলটিতে ‘ফলস নাইন’-এর ভূমিকায় খেলেছেন তিনি। দুই অর্ধ মিলিয়ে তাঁর তিন-তিনটি শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। নেইমারের না থাকায় যিনি দলে ঢুকেছেন সেই জেরার্দ দেলোফেউয়ে হয়তো উপশম হয়েছে মেসির আক্ষেপ। না, স্প্যানিশ এই উইঙ্গারও গোল পাননি, তবে দুটি গোলেই তাঁর অবদান। প্রথম গোলে, বেতিস ডিফেন্ডার এলিন তুস্কা নিজেদের জালেই বল ঠেলেছেন দেলোফেউয়ের দুর্দান্ত ক্রসটা ফেরাতে না পেরেই। আনমার্কড থেকে সের্গি রোবার্তো আয়েশিভাবে যে পরের গোলটা করেছেন সেটিও এভারটন, মিলান হয়ে বার্সায় ফেরা দেলোফেউয়ের কাটব্যাক থেকে। ম্যাচে মেসির সঙ্গে বোঝাপড়ায়ও তিনি উতরে গেছেন। তবে গত লিগে দশম হওয়া বেতিসের বিপক্ষে বার্সার এই পারফরম্যান্সই সব নয়, সেটি এর্নেস্তো ভালভের্দেও জানেন। ম্যাচ শেষে সেটি বলেছেনও তিনি অকপটে, ‘নেইমার না থাকায় দলে শক্তির যে ঘাটতি হয়েছে সেটা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের এখন সেটি পূরণ করতে হবে, সে জন্য খেলোয়াড়ও প্রয়োজন। ’ একই রাতে নেইমার নিজেও প্যারিস সেন্ত জার্মেইয়ের মাঠে বোঝাচ্ছিলেন কী রত্ন হারিয়েছে বার্সা। ফেলিপে কৌতিনিয়ো বা উসমান দেম্বেলের জন্যও যা করে দেখানোটা কঠিন। তবে আপাতত দায়িত্বটা দেলোফেউয়ের কাঁধে। লিগের প্রথম ম্যাচে নিজের কাজটুকু করতে পেরে অন্তত তিনি খুশি। সন্ত্রাসী হামলায় নিহতের প্রতি জয়টা উত্সর্গও করেছেন তিনি। গোল ডটকম


মন্তব্য