kalerkantho


তৌহিদের পাঁচে পাঁচ

২১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



তৌহিদের পাঁচে পাঁচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : তৌহিদুল আলম যেন ২০১৫-১৬ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের জেমি ভার্ডি। লিগের শুরু থেকে গোল করে চলেছেন একের পর এক। কাল চট্টগ্রাম আবাহনীর পঞ্চম ম্যাচে নিজের পঞ্চম গোল পেলেন এই স্ট্রাইকার। প্রতি ম্যাচেই তাঁর একটি করে গোল। কাল কামাল বাবুর রহমতগঞ্জের বিপক্ষে যখন গোল পাচ্ছিল না সাইফুল বারীর দল, তখন সেই তৌহিদেই তাদের উদ্ধার। ডান দিক থেকে দারুণ ক্রস ফেলেছিলেন জাহিদ হোসেন। সুযোগ সন্ধানী তৌহিদ ডিফেন্ডারের মার্কিংয়ের মধ্যে থেকেই তাতে ঠিক পা ছুঁইয়ে দিয়েছেন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে তাতেই এগিয়ে যায় চট্টগ্রামের দলটি। দ্বিতীয়ার্ধে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ২-০ করেছেন জাহিদ হোসেন। অন্য ম্যাচে ল্যান্ডিং ডারবোয়ের জোড়া গোলে ঢাকা আবাহনীও ২-০তে হারিয়েছে শেখ রাসেলকে।

কাল তৌহিদ জোড়া গোলও পেতে পারতেন।

প্রথমার্ধেই গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামের লং কিকে বক্সের মুখে বল পেয়ে গিয়েছিলেন একেবারে একা। চট্টগ্রাম আবাহনী স্ট্রাইকার হেডও নিয়েছিলেন, কিন্তু রহমতগঞ্জ গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতায় সেই বল গ্রিপে নিয়েছেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ সহজ সুযোগ নষ্ট করেন স্কোরলাইন দ্বিগুণ করার। বক্সের ভেতর থালায় সাজিয়ে দেওয়ার মতো করে বল তাঁর পায়ে ঠেলেছিলেন জাহিদ, এই মিডফিল্ডার কিনা অন্ধের মতো পা চালিয়ে সেই সুযোগ নষ্ট করেছেন। আরেকবার আফিজ ওলাদিপো গোলরক্ষককে  একা পেয়েও সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। কামাল বাবুর দলের তাতে ম্যাচে ফেরার সুযোগ থাকে। কিন্তু ৭২ মিনিটে প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি উপহার দিয়ে কোচকে হতাশায় ডুবিয়েছে কাজী শরিফুল ইসলাম। জাহিদ সেই সুযোগে গোলের খাতা খোলেন। তৌহিদের পাঁচে পাঁচের কীর্তির পাশাপাশি এক গোল এক অ্যাসিস্টে দিনটা তাই জাহিদেরও।

আবাহনী, শেখ রাসেল দুই দলই ছন্দে ফিরতে মরিয়া ছিল এদিন। আবাহনীর আগের চার ম্যাচে দুই জয়ের সঙ্গে এক ড্র এক হার। শেখ রাসেল শেষ দুই ম্যাচ টানা হেরেছে। প্রথম দুটির একটিতে জয়, একটি ড্র। কিন্তু প্রথমার্ধটা গোলের জন্য মাথা কুটে মরেছে দুই দলই, কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত আসেনি। ওয়ালি ফয়সাল ডান দিক থেকে বাঁ পায়ের এক ফ্রিকিকে অনেকটা অপ্রত্যাশিত সেই গোল পাইয়ে দিতে চলেছিলেন, বল হাওয়ায় ভেসে ক্রসবারের কাছে নিচু হয়ে ঢোকার ঠিক আগ মুহূর্তে রাসেল গোলরক্ষক জিয়া হাত ছুঁইয়ে তা বাইরে পাঠিয়েছেন। প্রথমার্ধে উল্লেখযোগ্য ঘটনা অন্যটি হলো চোট পেয়ে আবাহনী স্ট্রাইকার এমেকা ডার্লিংটনের মাঠ ছেড়ে যাওয়া। তাঁর জায়গায় নামেন ল্যান্ডিং ডারবোয়ে। তাতে সত্যিকার একজন নাম্বার নাইন ছাড়াই খেলা চালিয়ে যেতে হয় তাদের। স্থানীয় দুই ফরোয়ার্ড রুবেল মিয়া ও সাদউদ্দিনের কাঁধে গুরুদায়িত্ব বর্তায়। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে এই দুজনের ঝলক এবং গোলরক্ষক জিয়ার ভুলেই গোলের রাস্তা তৈরি হয়ে যায় আবাহনীর। সাদের থ্রু ধরে বক্সে ঢুকে পড়া রুবেলকে ফাউল করে বসেন শেখ রাসেল গোলরক্ষক। রেফারির তা ছাড় দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। জিয়া পেয়েছেন হলুদ কার্ড আর স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়িয়ে আবাহনীকে এগিয়ে নিয়েছেন সেই ডার্লিংটনের বদলে নামা  ল্যান্ডিং। পিছিয়ে শেখ রাসেল ম্যাচে ফেরার মতো সুযোগ তৈরি করেও গোল পায়নি ফাইনাল পাস বা শটের ব্যর্থতায়। ৮৬ মিনিটে সেই সুযোগও রুদ্ধ হয়ে যায় ল্যান্ডিং নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফেললে। রুবেলের ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেছেন গাম্বিয়ান মিডফিল্ডার। এই জয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে তিনে উঠে এসেছে আবাহনী। সমান পয়েন্ট নিয়ে গোলব্যবধানে এগিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেখ জামাল। আর চট্টগ্রাম আবাহনী ১৫ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে।


মন্তব্য