kalerkantho


নাসিরের প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গেই

২১ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



নাসিরের প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গেই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : দলে ছিলেন না অনেক দিন। তাই বলে প্রচারের আড়ালেও পড়ে যাননি তিনি।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ভক্তরা নাসির হোসেনের জন্য এমন প্রাণপাত করেছেন যে মনেই হয়নি দৃষ্টিসীমার বাইরে ছিলেন। টেস্ট দলে ফেরার পরদিন তাই এই তরুণ ক্রিকেটার মজা করেই বলছিলেন, ‘আমি খেললেও নিউজে থাকি, না খেললেও থাকি। ’

খবরে থাকলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বড় দৈর্ঘ্যের ম্যাচে মাঠে ছিলেন না গত দুই বছর। খুব কম সময়ও নয়। এই সময়ের মধ্যে জগৎও বদলে গেছে কত! বাংলাদেশ বড় দলের বিপক্ষে টেস্টও জিততে শুরু করে দিয়েছে। ওয়ানডেতে পায়ের নিচে মাটি শক্ত করেছে আরো। দলে পারফরমারের সংখ্যাও বেড়ে গেছে অনেক। বিশেষ করে নাসির সবশেষ টেস্ট যে পজিশনে খেলেছেন, সেই জায়গার দাবিদারও বেড়ে গেছে অনেক। তাঁর টেস্ট দলে না থাকার সময়ে মেহেদী হাসান মিরাজ নামের এক তরুণ আন্তর্জাতিক অভিষেকেই তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

এই অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার গত বছর অক্টোবরে দেশের মাটিতে ইংল্যান্ড সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। গত মার্চে কলম্বোয় বাংলাদেশের শততম টেস্টে অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেনও ৭৫ রানের ইনিংস খেলে নিজেকে চিনিয়েছেন। ওই দুজনের মতো নাসিরও অফ স্পিনার। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংটাও এবার তাঁর দলে ফেরার ক্ষেত্রে বাড়তি যোগ্যতা হিসেবে কাজ করেছে। এঁরা সবাই একই ধরনের খেলোয়াড় হওয়ায় টিকে থাকার লড়াই হয়ে উঠেছে আরো কঠিন।

যদিও বদলে যাওয়া জগত্টা নাকি নাসিরের কাছে খুব কঠিন মনে হয় না। যা মনে হয়, ‘কঠিন আসলে কোনো কিছুই নয়। আবার সব কিছুই কঠিন। আমি আগেও বললাম যদি সুযোগ পাই, চেষ্টা করব পারফরম করার। আমার কারো সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নেই। আমার প্রতিযোগিতা নিজের সঙ্গেই। পারফরম করলে আমি অবশ্যই দলে থাকব। ’ দলে টিকে থাকার জন্য নিজের অনেক ভুলও এত দিনে শুধরে নিয়েছেন বলে দাবি তাঁর, ‘খারাপ খেললে দলে থাকব না, এটাই খুব স্বাভাবিক। সেই সঙ্গে এটাও সত্য যে পারফরম করলে আবার সেখানে আসা যাবে। বাদ পড়ার পর থেকেই তাই চেষ্টা করেছি পারফরম করতে। আমার ক্যারিয়ারে আসলে অনেক ভুল ছিল। আমি চাইলে আরো বড় বড় ইনিংস খেলতে পারতাম। কিন্তু নিজের খামখেয়ালির জন্যই পারিনি। এখন অবশ্য যত বেশি সম্ভব উইকেটে থেকে ব্যাটিং করার চেষ্টা করি। ’

জাতীয় দলে ফেরার চেষ্টায় নিজের ওপর চাপও নাকি নেননি, ‘সত্যি কথা বলতে আমি জাতীয় দল নিয়ে এখন তেমন একটা চিন্তাই করি না। যখন যেটা খেলি, সেটিতেই আমার শেষ ম্যাচ ধরে খেলি। ভাবি যে এখানে আমাকে সেরা কিছু করে দেখাতেই হবে। তবে জাতীয় দলে ফেরার জন্য পারফরম করতে হবে ভেবে আমি নামিনি। খেলতে নেমেছি খেলব, উপভোগ করব ভেবেই মাঠে নামি। ’ ভীষণ উপভোগ করেন বোলিংটাও। আর এবার তাঁর দলে ফেরার অন্যতম বিবেচনা যখন বোলিংও, তখন এ ক্ষেত্রেও নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতে মরিয়া নাসির, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে বোলিংটা আমি উপভোগ করি। আমি চেষ্টা করি ভালো বোলিং করার জন্য। যদি সুযোগ হয় বোলিংয়ের, তাহলে আমি আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। ’ সেই সঙ্গে ব্যাটিংয়ে সম্ভাব্য এ ভূমিকা পালনের মানসিক প্রস্তুতিও নিয়ে রাখা আছে তাঁর, ‘আমি যতটুকু বুঝেছি, খেলার সুযোগ হলে আমি ৬ কিংবা ৭ নম্বরে ব্যাটিং করব। ওই সময়ে নামলে উইকেটে স্বীকৃত ব্যাটসম্যানও পাব। স্বীকৃত ব্যাটসম্যান সঙ্গে পেলে চেষ্টা থাকবে সময় নিয়ে পার্টনারশিপ গড়ার। আর টেল এন্ডাররা চলে এলে চেষ্টা থাকবে স্কোরবোর্ডে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কিছু রান যোগ করার। ব্যাটিংয়ে আমার ভূমিকা আমি এভাবেই চিন্তা করে রেখেছি। ’ ২৭ আগস্ট থেকে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টে খেলার সুযোগ পেলে সেটিকেও সম্ভবত শেষ ম্যাচ ধরে নিয়েই খেলবেন নাসির, ‘পারফরম্যান্সই শেষ কথা। এটা ছাড়া কোথাও টিকে থাকার সুযোগ নেই। পারফরম্যান্স হচ্ছে সব কিছুর মেডিসিন। সত্যি কথা বললে পরের টেস্ট ম্যাচগুলো নিয়ে আমি একদমই ভাবছি না। আমি জানি এখানে পারফরম করলে পরের সুযোগগুলোও আমার সামনে আসবে, না করলে নয়। ’

 


মন্তব্য