kalerkantho


গোলের মালা গাঁথছেন তৌহিদ

সনৎ বাবলা   

২০ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



গোলের মালা গাঁথছেন তৌহিদ

এ জাতির ফুটবলে বড় সংকটের নাম গোল। মাঝেমধ্যে পুরো ম্যাচ ভালো খেলেও গোলহীন থাকে।

এই গোল-সংকটের ফুটবলে হঠাৎ গোলের ফুল ফুটেছে এক দেশি ফুটবলারের পায়ে। তৌহিদুল আলম সবুজ লিগের শুরু থেকে টানা চার ম্যাচে চার গোল করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন পেশাদার ফুটবলের যুগে!

২০০৬-০৭ মৌসুম থেকে ফুটবল পেশাদার যুগে প্রবেশ করলেও কোনো দেশি ফুটবলারের পায়ে এমন গোলের ‘সমারোহ’ দেখা যায়নি। দেখানোরও সুযোগ ছিল কম। সেই শুরু থেকে দুই মৌসুম আগ পর্যন্ত এ দেশের ঘরোয়া ফুটবল ছিল বিদেশি শাসিত। বিশেষভাবে আফ্রিকান ফুটবলারদের দৌরাত্ম্যে অচ্ছুত হয়ে থাকতেন দেশি স্ট্রাইকাররা। কোনো দল দয়াপরাবশ হয়ে কাউকে দলে নিলেও রিজার্ভ বেঞ্চই ছিল তাঁর অবধারিত জায়গা। চার-পাঁচজন করে বিদেশি খেলানোর দুয়ার খুলে দিলে দেশিদের সুযোগই-বা কী থাকে। স্বাভাবিকভাবে বিদেশিদের গোলে গোলে জয়জয়কার। এবার বিদেশির সংখ্যা দুজনে নেমে আসায় যেন হালে পানি পেয়েছেন দেশি স্ট্রাইকাররা।

এরই মধ্যে একজন টানা চার ম্যাচে চার গোল করে পেছনে ফেলেছেন বিদেশি স্ট্রাইকারদের। ফরাশগঞ্জের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই গোল ধরা দিয়েছে তৌহিদুল আলমের পায়ে, সর্বশেষ শেখ রাসেলের বিপক্ষে বল জালে ঠেলে চট্টগ্রাম আবাহনীর এই ফরোয়ার্ড বলছেন, ‘গোলটা হলো অভ্যাস এবং আত্মবিশ্বাসের ব্যাপার। তবে এটাকে চাপ হিসেবে নিলেই নিজের খেলা শেষ হয়ে যাবে। ’ টানা চার ম্যাচের প্রত্যেকটিতে একটি করে গোল করার রেকর্ড আর কারো নেই। গতবার মোহামেডানের জার্সি গায়ে তিনি টানা তিন ম্যাচে করেছিলেন তিন গোল এবং শেষ পর্যন্ত ৮ গোল করে দেশিদের মধ্যে সেরা হয়েছিলেন।

তাতে কী লাভ? জাতীয় দলের কোচরা তাঁকে চেনে না। গত অক্টোবরে ভুটান ম্যাচের আগে তৌহিদ পাঁচ গোল করে দেশিদের মধ্যে আগুয়ান স্ট্রাইকার হয়েও জাতীয় দলে জায়গা পাননি। ‘তখন লিগ শেষ হয়নি কিন্তু আমি গোল পাচ্ছিলাম। তার পরও আমাকে জাতীয় দলে ডাকেনি, যারা ঘরোয়া লিগে মাঠে নামারই সুযোগ পাচ্ছিল না তারা খেলেছে। কিভাবে খেলোয়াড় বাছাই হয় আমি জানি না’—আক্ষেপে পুড়ছেন ২৭ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। বাংলাদেশের জার্সিতে তাঁর অভিষেক হয়েছিল ২০১০ সালে ঢাকায় এসএ গেমসে। বেশির ভাগই সিনিয়র জাতীয় দলের ফুটবলার হলেও সেই দলটির পোশাকি নাম ছিল অনূর্ধ্ব-২৩ দল এবং তাঁর গোলে ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনাল জিতে ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। ফাইনালে আফগানিস্তান জয়েও ছিল তাঁর গোল। এরপর দুই বছর জাতীয় দলে খেললেও ২০১৩ সাল থেকে বাইরে। ২০১৬ সালে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে কয়েকটি ম্যাচের জন্য ডি ক্রুইফ তাঁকে ফিরিয়েছিলেন। রহস্যজনক ব্যাপার হলো দলে থাকলেও তাঁকে জায়গা দিতেন না শুরুর একাদশে। কোনো কোচই দিতেন না। হতে পারে ৫ ফিট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার জন্য তাঁর ওপর ঠিক ভরসা রাখতে পারতেন না। কিন্তু এই উচ্চতা নিয়ে তো তাঁর ঢাকা মাঠে গোল পেতে কোনো সমস্যা হয় না। গতবার আট গোল নিয়ে দেশিদের মধ্যে সেরা, আগেরবারও আট গোল নিয়ে দ্বিতীয় সেরা আর এবার তো বিদেশিদেরও পেছনে ফেলে ছুটছেন সবার আগে।

সেরা হওয়ার লক্ষ্যে ছোটা চট্টগ্রাম আবাহনীর এই স্ট্রাইকারের আত্মবিশ্লেষণ হলো, ‘আমার শক্তি সম্পর্কে নিজের ধারণা খুব স্পষ্ট। আমার সম্বল আত্মবিশ্বাস আর পজিশনাল সেন্স। শ্যুটিংয়ে জোর কম হলেও গোলমুখে খুব ঠাণ্ডা মাথায় প্লেসিংয়ের মাধ্যমে ফিনিশ করি। এ ছাড়া বক্সের বাইরে এসে আমি গোল বানিয়ে দিতে পারি। ’ আসলে গোলের গন্ধ শুঁকে তিনি জায়গা নিতে পারেন। তা পান বলেই ‘নাম্বার নাইন’ পজিশন ছেড়ে বেরিয়ে এসে সতীর্থ নাইজেরিয়ান ওলাদিপোকে বক্সে পাঠান। চেষ্টা করেন গোল বানিয়ে দিতে। আর জুটিতেই দুর্বার চট্টগ্রাম আবাহনী শিরোপার দৌড়ে সবার আগে।


মন্তব্য