kalerkantho


সোনালি চুলের সেই কিশোর আজ...

সামীউর রহমান   

২০ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



সোনালি চুলের সেই কিশোর আজ...

যে সময়টায় শাহরিয়ার নাফীস সেঞ্চুরি করে রিকি পন্টিংয়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিলেন, অথবা জেসন গিলেস্পি ডাবল সেঞ্চুরি করে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন; স্টিভেন স্মিথ তখন পায়ের নিচে জমি খুঁজছেন। অস্ট্রেলিয়ার সবশেষ বাংলাদেশ সফরের সময় তাঁর বয়স ১৮। ক্রিকেট খেলতে ইংল্যান্ড যাওয়ার জন্য স্কুল ছেড়েছেন, মায়ের দিকের আত্মীয়তার সূত্রে একজনের বাসায় থেকে দ্বিতীয় স্তরের লিগে খেলছেন। তখনো তিনি দলের ব্যাটিংস্তম্ভ বা মার্টিন ক্রোর ভাষায় ‘ইয়ং ফ্যাব ফোর’-এর একজন হয়ে ওঠেননি। লেগ স্পিন বোলিং করেন। মাথাভর্তি সোনালি চুল, খানিকটা মোটাসোটা শরীর, হাতে বেকড বিনসের কৌটা আর ঠোঁটে সিগারেট ধরিয়ে দিলে দিব্যি শেন ওয়ার্নের ভাই হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যাবে। অস্ট্রেলিয়া পরেরবার বাংলাদেশে আসতে আসতে সেই কিশোর লেগ স্পিনার হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া দলের অধিনায়ক, দলের সেরা ব্যাটসম্যান তো বটেই; এই সময়ে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদেরও একজন।

কেন উইলিয়ামসন, জো রুট, বিরাট কোহলি ও স্টিভেন স্মিথ—এই চারজনকে মার্টিন ক্রো বলতেন এ সময়ের ‘ফ্যাবুলাস ফোর’। বাকি তিনজনের সঙ্গে স্মিথের বিশাল ফারাকটা হচ্ছে, তাদের মতো করে স্মিথ ‘ব্যাটিং প্রতিভা’ সনদটা ছোটবেলা থেকে বয়ে বেড়াননি। ২০১০ সালে জানুয়ারিতে, হেরাল্ড সান পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে স্মিথকে বলতে শোনা গেছে, ‘মিডিয়াম পেস করা অলরাউন্ডার তো অনেক আছে। তাই বাবা আর আমি বসে আলাপ করে ঠিক করলাম, লেগ স্পিনার হলে টেস্ট খেলার সুযোগটা বাড়বে।

ওয়ার্ন ছিল আমার আইডল। তাঁকেই আমি সব সময় দেখতাম। ’ সাত বছর পর, স্মিথ অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক, টেস্টে ২০টি সেঞ্চুরি আর টেস্টে বোলিংটা শেষবারের মতো করেছেন জানুয়ারিতে, তাও এক ওভার!  অথচ দেশের হয়ে তাঁর অভিষেকটা লেগ স্পিনার হিসেবে। বদলে যাওয়ার গল্পটা তোলা থাক অন্য দিনের জন্য, আজ স্মিথের মুখেই জানা যাক ২০০৬ সালে তিনি ছিলেন কোথায়, ‘১১ বছর...অনেক লম্বা সময়। তখন তো আমি বোধ হয় নিউ সাউথ ওয়েলস দলেও জায়গা করে নিতে পারিনি, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক অনেক আগের কথা, এর পর থেকে কত কিছুই তো বদলে গেছে। ’ বদলেছে অনেক কিছুই। উসাইন বোল্ট নামের এক জ্যামাইকান অলিম্পিকে ১০০ মিটার দৌড়কে ছেলেখেলা বানিয়ে বিশ্বরেকর্ডকে নিজের সম্পত্তি বানিয়ে অবসরে চলে গেছেন। মাইকেল ফেলপস অলিম্পিকে একগাদা পদক জিতে সর্বকালের সেরা অলিম্পিয়ান হয়ে সাঁতারকে বিদায় জানিয়েছেন। এমন অনেক কিছুই হয়েছে, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট খেলতে বাংলাদেশে আসার সময় হয়নি। এই সফরের পর অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আবার টেস্ট খেলার সময় আসতে আসতে আবারও এমন দীর্ঘ বিরতি পড়বে কি না, সেই উত্তর স্মিথেরও জানা নেই, ‘১৭ বছরে বাংলাদেশের সঙ্গে মাত্র চারটি টেস্ট খেলেছে অস্ট্রেলিয়া, এটা জেনে আমি বেশ অবাকই হয়েছি। তবে সূচিটা তো আর আমি করি না, যেখানে খেলতে বলা হয় সেখানে গিয়ে খেলি। আমার মনে হয় এই প্রশ্নটা আমাকে করার চাইতে প্রশাসকদেরই করা উচিত। ’

১১ বছর পর মাঠে গড়াতে যাওয়া এই সিরিজের ভাগ্যাকাশেও ছিল শঙ্কার মেঘ। ২০১৫ সালে নিরাপত্তাজনিত শঙ্কায় আসেনি অস্ট্রেলিয়া, পারিশ্রমিকসংক্রান্ত জটিলতায় ভেস্তে যেতে বসেছিল এই সিরিজটাও। স্মিথই বলেছিলেন, চুক্তি স্বাক্ষর না হলে হবে না বাংলাদেশ সফর। তবে অবশেষে যে সিরিজটা হচ্ছে, তাতে খুবই স্বস্তিতে স্মিথ, ‘পাওনা নিয়ে দেন-দরবারটা যতটা লম্বা হবে ভেবেছিলাম, তার চেয়ে একটু বেশিই লম্বা হয়েছে। ভালো লাগছে এই ভেবে যে শেষ পর্যন্ত এখানে আসাটা হলো। এখন আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়া আর যে খেলাটা খেলতে ভালোবাসি সেটাই খেলার বড় সুযোগ। ’

মিরপুরে সিরিজের প্রথম টেস্ট। এই মাঠেই সবশেষ টেস্টে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে ইংল্যান্ড। তাই বাড়তি সতর্কতা অধিনায়ক স্মিথের, ‘জানি সিরিজটা আমাদের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জিং। বাংলাদেশ ভালো খেলছে, উপমহাদেশ সফরে কন্ডিশন সব সময়ই আমাদের বিপক্ষে থাকে। দেশে এই ধরনের ক্রিকেটে আমরা খেলি না। আশা করছি, ভারত সফরের অভিজ্ঞতা আমরা এখানে কাজে লাগাতে পারব। ’

লেগ স্পিনার হিসেবে এ রকম স্পিন-সহায়ক কন্ডিশন পেলে নিশ্চয়ই খুশি হতেন স্মিথ! কিন্তু তিনি যে এখন অধিনায়ক, জানেন এ রকম উইকেটে সাফল্য খুব বেশি নেই তাঁর দলের। সাত বছরে কত কিছুই না বদলে গেছে স্মিথের জীবনে!


মন্তব্য