kalerkantho


প্রশ্নবাণে জর্জরিত নির্বাচক কমিটি

২০ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



প্রশ্নবাণে জর্জরিত নির্বাচক কমিটি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দল নিয়ে বিতর্ক হওয়াটা প্রত্যাশিতই ছিল। দল ঘোষণার পরপর তাই প্রশ্নবাণে জর্জরিত প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন।

বিশেষ করে ১৪ জনের দলে মমিনুল হকের না থাকা নিয়েই প্রশ্নের ঝোড়ো হাওয়া ধেয়ে যাচ্ছিল তাঁর দিকে। এর ঝাপটা লাগছিল নির্বাচক হিসেবে দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে মিনহাজুলের পাশেই বসা চন্দিকা হাতুরাসিংহের গায়েও। বাংলাদেশ দলের হেড কোচ বোঝাতে চাইলেন, ‘দল নির্বাচনে ধারাবাহিকতা কিন্তু পারফরম করা ক্রিকেটারদের যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসও জুগিয়ে থাকে। ’

এক হিসাবে এটি ধারাবাহিকতাই। কারণ বাংলাদেশ সবশেষ টেস্ট খেলেছে শ্রীলঙ্কায়। সেখানে দেশের শততম টেস্টের একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন মাহমুদ উল্লাহ ও মমিনুল হক। এঁদের মধ্যে প্রথমজনকে টেস্টের আগেই দেশের ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই মাথাচাড়া দিতে থাকায় তাঁকে শেষ পর্যন্ত দলের সঙ্গেই রেখে দেওয়া হয়। সেবার একাদশ থেকে বাদ পড়ার ধারাবাহিকতায় ওই দুজন এবার দলেই নেই। তাঁদের ছাড়াই পি সারা ওভালে জেতে বাংলাদেশ।

শ্রীলঙ্কায় টেস্ট সিরিজ ড্র করে ফেরার মতো পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা এবার দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও রাখতে চায় স্বাগতিকরা। কিন্তু সে জন্য মমিনুলকে বাইরে রাখার ধারাবাহিকতা রাখতে হবে কেন?

এর জুতসই কোনো জবাব মেলে না বলে প্রশ্ন হতেই থাকে। তাতে কখনো বিরক্ত এবং কখনো উত্তপ্ত মিনহাজুল একসময় এমন কথা বলে দেন যা এত দিন বাংলাদেশ ক্রিকেটে ওপেন সিক্রেটই ছিল, ‘কিছু খেলোয়াড়ের পজিশন টিম ম্যানেজমেন্টই ঠিক করে। এটা নির্বাচকদের পক্ষ থেকে কিন্তু যায় না। টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনা থাকে, হেড কোচের একটা চাওয়া থাকে। সেই অনুযায়ীই আমাদের কাজ করতে হয়। ’ শুনে মনে হয়, আরে তাই তো! শ্রীলঙ্কায় তো নির্বাচকদের কেউই ছিলেন না। সেখানে মাহমুদ উল্লাহকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত যে কোচের একারই ছিল, তা নিয়েও তাই সংশয় থাকেনি খুব।

মমিনুলের বিষয়ে তাঁর রক্ষণশীল মনোভাবও অজানা নয়। ২০১৫ বিশ্বকাপের সময় থেকেই এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের শর্ট বল সামলানোর সামর্থ্য নিয়ে কোচ নিঃসংশয় নন বলে শোনা যেতে থাকল। কাছাকাছি সময়ের মধ্যে সীমিত ওভারের ক্রিকেট থেকেও ছিটকে পড়লেন ছোটখাটো গড়নের জন্য ‘মিনি’ নাম পাওয়া ওই তরুণ। গত কিছুদিন ধরে অফ স্পিনেও তাঁর দুর্বলতার কথা বলতে থাকেন কোচ। তাই মমিনুলের বাদ পড়ায় কোচই যে বড় ভূমিকা রেখেছেন, তা আর না বললেও চলছে। কিন্তু সমস্যা হলো তাঁর কথায় ‘লেফট-রাইট’ করতে হলেও মুখে সম্মিলিত সিদ্ধান্তের বর্ম দেখাতে হয় মিনহাজুলদের, ‘সামগ্রিক পারফরম্যান্সের জন্যই মমিনুল বাদ পড়েছে। গত জানুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা সিরিজ পর্যন্ত ছয় ইনিংসে ওর মাত্র একটি ফিফটি। এ জন্যই মমিনুল নেই। ’

অথচ দেশের মাঠে বাংলাদেশের সবশেষ টেস্টেও ফিফটি আছে মমিনুলের। সেটি গত বছর অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জেতা ঐতিহাসিক টেস্টেই। প্রথম ইনিংসে দ্বিতীয় উইকেটে তামিম ইকবালের (১০৪) সঙ্গে ১৭০ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন মমিনুল (৬৬)। তা ছাড়া টেস্ট গড়েও (৪৬.৮৮) দেশের সেরা তিনিই। তাঁকে নিয়ে অল্পতে অধৈর্য হয়ে যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের অবকাশ থাকেই। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে বারবার মমিনুলকেন্দ্রিক প্রশ্নে হাতুরাসিংহে পাল্টা সংবাদমাধ্যমের দিকে আঙুল তুলে বসেন, ‘নির্দিষ্ট কোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে দল বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ মানেই শুধু মমিনুল নন, এটা ১১ জন ক্রিকেটারের দল। আপনারা এক-দুজনকে নিয়েই বেশি ভাবিত। আমরা ভাবি সবাইকে নিয়ে। সবাইকে সমানভাবে বিবেচনা করি এবং সমান সুযোগও দিই। ’ কিন্তু বাস্তব চিত্র এবং পরিসংখ্যানও তাঁর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যেতে তৈরি। কালকের সংবাদ সম্মেলনে সৌম্য সরকারের খুব প্রশংসা করলেন মিনহাজুল। করারই কথা। গত চার টেস্টের ৮ ইনিংসে ৪৬.৭৫ গড়ে চারটি ফিফটিসহ ৩৭৪ রান সৌম্যর। যাঁর খারাপ সময়েও পিঠে আস্থার হাত রেখেছেন হাতুরাসিংহে। নিজে নেটে বল ছুড়ে নক করান সৌম্যকে। কোচের আস্থায় আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এ ওপেনার এখন প্রতিদানও দিচ্ছেন। কোচের একই রকম সুনজর পেলে তো মমিনুলও পারফরম করতে পারতেন। কিন্তু সেটি তিনি পাননি। পেলে মমিনুলের টেস্ট ক্যারিয়ারকে হাতুরাসিংহে আসার আগে এবং পরে, এই দুই ভাগে ভাগ করে ব্যাপক পার্থক্য দেখা যেত না। প্রথম ৭ টেস্টেই তিন সেঞ্চুরি করে ফেলা মমিনুল এই কোচ আসার পর ১৫ টেস্টে তিন অঙ্কে পৌঁছেছেন মাত্র একবার। সুতরাং দায় তাঁর ওপরও বর্তায়। হাতুরাসিংহে দায় নিলেনও, তবে মমিনুলকেও দিলেন অনেকটা, ‘কোচ হিসেবে আমারও দায় আছে। তবে সেটি শুধু আমার একার নয়। ওই ক্রিকেটারকেও দায় নিতে হবে। কারণ সে নিজেও তো জানে যে ওকে কী করতে হবে। ’ মমিনুলময় সংবাদ সম্মেলনে উঠল মাহমুদ উল্লাহ প্রসঙ্গও। কিন্তু মিনহাজুল সাফ বলে দিলেন, ‘ওর না থাকাটা প্রত্যাশিতই ছিল। কারণ সবশেষ টেস্টে সে ছিল না। কাজেই এটা নিয়ে আলোচনার কিছু নেই। ’ নাসিরকে ফেরানোর পক্ষে মিনহাজুলের যুক্তি, ‘অস্ট্রেলিয়া দলে বেশ কয়েকজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মিরাজের সঙ্গে নাসিরকে বাড়তি অফ স্পিনার হিসেবে নেওয়া হয়েছে, যে কিনা ব্যাটিংও করতে জানে। সবশেষ  হোম সিরিজে যে কাজটি করেছে শুভাগত। ’

শুভাগত গেছেন, নাসির এসেছেন। এরপর কে?


মন্তব্য