kalerkantho


অস্ট্রেলিয়া আসার ক্ষণে দল ঘোষণার উত্তেজনা

১৯ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



অস্ট্রেলিয়া আসার ক্ষণে দল ঘোষণার উত্তেজনা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ২০১৫ সালে তারা আসতে আসতেও আসেনি। এবার অস্ট্রেলিয়া এসেছে আর তাতেই ১১ বছর পর আবার তাদের সঙ্গে টেস্ট খেলার সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের। যে সুযোগ লুফে নিতে চাওয়া স্বাগতিকরা এক দশক আগের মতো সহজ শিকারও নেই আর। তাই দুই টেস্টের সিরিজে সম্ভাব্য সেরা প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ার মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই অবশেষে বহু প্রার্থিত সফরে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। আর তারা আসতে না আসতেই বেজে উঠছে লড়াইয়ের দামামাও। আজ দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে স্টিভেন স্মিথের আনুষ্ঠানিক প্রথম সংবাদ সম্মেলনের ঘণ্টাখানেক আগেই ঘোষিত হয়ে যাবে ২৭ আগস্ট থেকে এই ভেন্যুতেই শুরু হতে যাওয়া সিরিজের প্রথম টেস্টের বাংলাদেশ দলও।

যে দল নিয়ে বিতর্ক ছড়ানোর পূর্বাভাসও আছে। অবশ্য এখন বিতর্ক ছাপিয়েও পারফরম করে ম্যাচ বের করার দক্ষতা আছে স্বাগতিকদের। নিজেদের খেলা সবশেষ টেস্টে সেটি প্রমাণিতও। শ্রীলঙ্কায় গলে বাজেভাবে হেরে কলম্বোয় নিজেদের শততম টেস্টের আগে একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলা মাহমুদ উল্লাহকে দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে কম বিতর্ক হয়নি। এমনকি মমিনুল হককেও একাদশের বাইরে ছুড়ে ফেলাকে যৌক্তিক বলে মনে করেননি বেশির ভাগ লোক।

অথচ পি সারা ওভালে ঐতিহাসিক সেই টেস্ট জিতে সিরিজে সমতা নিয়ে দেশে ফেরার পর সেসব নিয়ে উচ্চবাচ্য আর হয়নি তেমন। আবারও একই কারণে ক্রিকেট পরিবেশ উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তা প্রশমিত করার উপায় পারফরম্যান্সই। সীমিত ওভারের পর গত কিছুদিন টেস্টেও যে পারফরম্যান্স বুক ফুলিয়ে বলার মতোই। নিজেদের মাঠে সবশেষ টেস্টে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়। জয় নিজেদের খেলার সবশেষ টেস্টেও। তার ওপর আবার এখনকার বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটাররা তাঁদের ক্রিকেট জীবনে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট খেলতে মুখিয়ে। এক যুগের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সেই সুযোগটি না পাওয়া টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমই যখন উত্তেজনায় টগবগ করে ফুটতে শুরু করে দিয়েছেন, তখন অন্যদের অবস্থাও অনুমান করে নিতে সমস্যা হয় না।

বাংলাদেশে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়ার নিয়তি মেনেই গত রাতে ঢাকায় পা রাখা অস্ট্রেলিয়া দল ২২-২৩ আগস্ট তাদের জন্য নির্ধারিত দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচটি কোথায় খেলবে, তা অবশ্য এখনো চূড়ান্ত নয়। আজ আগে আসা অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিদলের সদস্যরা আরেকবার বিকেএসপি পরিদর্শনের পরই প্রস্তুতি ম্যাচের ভেন্যু চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, ‘কোথায় খেলবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। কাল (আজ) হওয়ার কথা আছে। তাঁরা আরেকবার বিকেএসপি পরিদর্শনে যাওয়ার পরই বলবেন যে কোথায় খেলবেন। ’ ফতুল্লার পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের মাঠ পর্যন্ত ঘুরে আসা প্রতিনিধিদল যখন আরেকবার বিকেএসপি যাচ্ছে, তখন প্রস্তুতি ম্যাচের পাল্লা সেদিকেই ঝুঁকে আছে বলে মনে করা যেতে পারে। এমনিতে বিকেএসপির মাঠ পছন্দ না হওয়ার কারণ নেই। কিন্তু সমস্যা যাতায়াতে। প্রতিনিধিদল যেদিন পরিদর্শনে গিয়েছিল, সেদিন তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সাধারণ ব্যবস্থায়। তাতে সময় লাগায় শন ক্যারলের নেতৃত্বাধীন দলটি সেদিন খুব আশ্বস্ত হতে পারেনি বিকেএসপির বিষয়ে। যদিও বিসিবির তরফ থেকে বলা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়া দল যাবে নিরাপত্তা প্রহরায় এবং সে ক্ষেত্রে সময় লাগবে এক ঘণ্টারও কম। কিন্তু যাওয়ার আগে এর ব্যবহারিক না দেখালে কী করে ক্যারলরা বুঝবেন যে আসলেই অত কম সময়ে যাওয়া সম্ভব কি না! আজ তাই দ্রুততম সময়ে স্মিথদের বিকেএসপিতে পৌঁছানোর ‘ডেমো’ হবে বলে জানা গেছে বিসিবি সূত্রে। এ জন্যই নাকি আরেকবার বিকেএসপি গমন।

ব্যাপক নিরাপত্তা ঘেরাটোপের পাশাপাশি ঢাকায় অস্ট্রেলিয়া দলের ঠিকানা র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলেও বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করার কথা গত রাতে আসা ৩২ জনের দলের। ভুল পড়েননি। ইংল্যান্ড আর অস্ট্রেলিয়ার দল সাধারণত এ রকম বড়ই হয়। দলের সঙ্গে জুড়ে থাকেন বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে আছেন ভারতীয় এক রন্ধন বিশেষজ্ঞও। গত বছর ভারত সফরে যাওয়া অস্ট্রেলিয়া দলই নিয়োগ করেছিল তাঁকে। অবশ্য ঢাকায় তাঁর কাজের চাপ খুব বেশি হওয়ার কথা নয়। কারণ ওই যে বলা হচ্ছিল বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্যের কথা। সেটি দিতে তো র্যাডিসন হোটেলের হেড শেফই আছেন। তিনি নিজেও তো একজন অস্ট্রেলিয়ান! কাজেই দূরের বিদেশে এসেও ঘরের ছোঁয়া পেতে খুব সমস্যা হবে না স্মিথদের।


মন্তব্য