kalerkantho


অপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ

১৮ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



অপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ

আরো উঁচুতে, আরো দ্রুত, আরো শক্তিশালী। ১৮৯৪ সালে ব্যরন পিয়ের দ্য কুবার্তে প্রস্তাবিত এই শব্দগুলোই ঢুকে যায় আধুনিক অলিম্পিকে, ক্রীড়াবিদদের আপ্তবাক্য হিসেবে।

জিনেদিন জিদানের রিয়াল মাদ্রিদের বেলাতেও বোধ হয় নিশ্চিন্তে ব্যবহার করা যায় এই তিনটি শব্দ; ‘সিতিউস, অলটিউস, ফোর্তিয়াস’। স্পেনের লা লিগা, উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ, উয়েফা সুপার কাপের পর স্প্যানিশ সুপার কাপ। রিয়াল শুধু জিতছেই! বুধবার রাতে, স্প্যানিশ সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগে মাদ্রিদিস্তারা বার্সেলোনাকে হারাল ২-০ গোলে, দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধানটা ৫-১।

ন্যু ক্যাম্পে ৩-১ গোলে জিতে আসার পর নিজেদের মাঠে বড় ব্যবধানে না হারলেই চলত রিয়ালের। কিন্তু প্রথম লেগে রেফারিকে ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ধাক্কার পর শাস্তি, বাজে রেফারিং—সব কিছু মিলিয়ে পরিস্থিতিটা এমন যুদ্ধংদেহী যে সমর্থকদের ভাবনায় জয় ছাড়া আর কিছুই নেই! নেইমার নেই বার্সেলোনায়, এদিকে নিষিদ্ধ রোনালদো। জিদান একাদশে রাখেননি গ্যারেথ বেল, ইসকো, কাসেমিরোকেও। চ্যাম্পিয়নস লিগে বার্সেলোনার সেই রূপকথার ‘কামব্যাক’ আর রিয়ালের তরুণ একাদশ দেখে যাদের মনে সংশয়ের মেঘ জমেছিল, সেটা উড়ে গেছে ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মার্কো আসেনসিওর নেওয়া শট পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রকে ভুল প্রমাণ করে ঢুকে যায় বার্সেলোনার জালে। টের স্টেগেন শুধুই চেয়ে চেয়ে দেখলেন, করার ছিল না কিছুই।

আসেনসিওর গোলের সঙ্গে সঙ্গেই বার্সেলোনার সমীকরণটা হয়ে পড়ে আরো কঠিন, জয়ের আশা তখন দূরের বাতিঘর। তবু বার্নাব্যু থেকে জিতে ফেরাটা আসছে মৌসুমের জন্য প্রেরণা হতে পারত কাতালানদের, সেটাও হয়নি। মাঝমাঠে বলের দখলই পায়নি বার্সেলোনা, রক্ষণ ছিল ছন্নছাড়া। এত সব ধূসর রঙের মাঝেও মেসি জাদুর ঝলক ছিল। রিয়ালের দুজন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বল নিয়ে যেভাবে বক্সের ভেতর ড্রিবল করে ঢুকেছিলেন মেসি, সেটা অন্য কোনো দিন হলে হয়তো গোলেই শেষ হতো! কিন্তু বুধবার রাতটা যে ছিল রিয়ালের। তাইতো মেসির চিপ ফিরিয়ে দেয় ক্রসবার। লুই সুয়ারেসও মিস করেছেন সহজ সুযোগ। অন্যদিকে রিয়াল শানিয়ে গেছে একের পর এক আক্রমণ। বার্নাব্যুর সাদা ঢেউ বারবার হয়েছে উত্তাল। ম্যাচের ৩৯ মিনিটে, দুর্দান্ত টার্নে স্যামুয়েল উমতিতিকে বোকা বানিয়ে করিম বেনজেমা যেভাবে দ্বিতীয় গোলটা করলেন, তাতে করে জিদান এই স্বদেশিকে নিয়ে গর্ব করতেই পারেন! রোনালদো ও বেলের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকা বেনজেমা গোলের সুযোগগুলো রোনালদোর জন্য ছেড়ে দেবেন, এটাই যেন এই ফরাসির নিয়তি। কাল রোনালদোর অবর্তমানে গোল করে বেনজেমার উল্লাসে ছিল সেই প্রত্যয়ও।

প্রথমার্ধের দুই গোলেই ম্যাচের রোমাঞ্চের ইতি। দ্বিতীয়ার্ধে হয়নি কোনো গোল। প্রথম লেগের পর ইনস্টাগ্রামে বার্সেলোনা সমর্থকদের আশাহত হতে না বলা দুজন, মেসি ও সুয়ারেসই হতাশ করেছেন সবচেয়ে বেশি। দুজনেই মিস করেছেন দলের সহজতম দুটি সুযোগ। সুয়ারেস তো চোট পেয়ে চার সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরেই চলে গেছেন। পিকের পায়ে বল গেলেই রব উঠেছে ‘ও থাকছে’! টুইটারে নেইমারকে নিয়ে এই শব্দ দুটি লিখেছিলেন, এর পর থেকেই দিয়ে যাচ্ছেন খেসারত। সপ্তম মিনিটে রোনালদোকে লাল কার্ড দেওয়ার প্রতিবাদ হয়েছে রুমাল নাড়িয়ে। আর রোনালদো গ্যালারিতে বসে দেখেছেন এই ম্যাচ। নিজের ক্ষোভটা উগড়ে দিয়েছেন টুইটারে, ‘পাঁচ ম্যাচ! এই পরিস্থিতিতে মুখ বন্ধ রাখা অসম্ভব। এই নিষেধাজ্ঞাটা ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়ানো এবং হাস্যকর। একে বলে নির্যাতন। ’ এখানেই শেষ নয়, খুব সম্ভবত শাস্তির সমালোচনা করায় জিদানেরও অর্থদণ্ড হতে যাচ্ছে।

এভাবে মাঠের বাইরে কোণঠাসা রিয়াল মাঠের খেলায় ঠিকই প্রমাণ করল নিজেদের। জিদান আক্ষরিক অর্থেই ভাসছেন ট্রফি জয়ের সপ্তম স্বর্গে, রিয়ালের কোচ হিসেবে এটা তাঁর সপ্তম শিরোপা। আর জিজুর হাত ধরেই রিয়াল আরো উঁচুতে, আরো দ্রুত, আরো শক্তিশালী। মার্কা


মন্তব্য