kalerkantho


নাজমুলের সমর্থনের পরই হকির নির্বাচন স্থগিত

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসে নাজমুল হাসান যখন রহমত উল্লাহকে সমর্থন করার ঘোষণা দিয়েছেন তখনই হকির নির্বাচন স্থগিতের কার্যক্রম প্রায় সারা! কারণ বন্যা, উত্তরাঞ্চলের বন্যায় ভেসে গেছে হকির নির্বাচন।

মাঠের হকি যেনতেন হলেও নির্বাচন এলে হকির সংগঠকরা নাওয়া-খাওয়া ভুলে মরিয়া হয়ে ওঠেন পদের জন্য।

আগামী ২৭ আগস্ট নির্বাচনকে ঘিরে দুই পক্ষের দলাদলি-কলহও তাই তীব্র রূপ নিয়েছিল। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আব্দুর রশীদের দিকে ঢাকার ক্লাবের পাল্লা ভারী তো রহমত উল্লাহর দিকে জেলা ও বিভাগের ভোটাররা। নিজেদের অবস্থান আরো সুসংহত করতে দুই পক্ষই আবার ছুটে গিয়েছিল হকির সুহৃদ নাজমুল হাসানের কাছে। বিসিবি সভাপতি দুই পক্ষের সঙ্গে বসেছিলেন, চেয়েছিলেন সমঝোতার মাধ্যমে একটি কমিটি করতে। সেটা  হয়নি বলেই গতকাল তিনি জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংগঠক পরিষদের মতবিনিময় অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে নিজের পছন্দের কথা জানিয়েছেন, ‘জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের মতো আমারও পছন্দ রহমত উল্লাহ। ক্লাবগুলোকে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে। ওই ক্লাবগুলোর দাবিতে আমি নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহকে সরিয়ে (আব্দুস) সাদেক ভাইকে নিয়ে এসেছিলাম। কিন্তু এটার আইনি কোনো ভিত্তি ছিল না। রহমত উল্লাহ আমার কথা মেনে নিয়ে ছাড় দিয়েছিলেন। তিনি যদি আগে ছাড় দিতে পারে এবার অন্যরা পারবে না কেন?’ ২০১৫ সালে বিসিবি সভাপতির মধ্যস্থতায় পাঁচ ক্লাবের দাবির মুখে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক রহমত উল্লাহ সরে গিয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন আব্দুস সাদেক। সেই ছাড়ের পুরস্কার হিসেবেই রহমত এবার নাজমুল হাসানের ফেভারিট!

তার আগে পরিষদ সভাপতি আ জ ম নাছির উদ্দীন এই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করেন। যদিও এই ফেভারিট হয়েও শেষ পর্যন্ত কোনো লাভ হয়নি। বিকেল ৪টায় নাজমুল হাসানের ঘোষণা শেষ হতে না হতেই নির্বাচন স্থগিতের খবর ছড়িয়ে পড়ে ক্রীড়াঙ্গনে। বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ নির্বাচন স্থগিতের প্রজ্ঞাপনও জারি হয়ে যায়, যেখানে বন্যাকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার শুকুর আলী বলেছেন, ‘(ফোরামের) জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদ বন্যার কারণে নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হবে। ’ যাঁরা স্থানীয় হোটেলে নির্বাচন উপলক্ষে নাজমুল হাসানকে নিয়ে মতবিনিময় করেছেন, তাঁরাই নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেন বলে জানা গেছে। তবে জেলা ও বিভাগীয় সংগঠক পরিষদের সদস্য সচিব আশিকুর রহমান মিকুর কথা, ‘আমার সঙ্গে এ ব্যাপারে কমিশনের কোনো কথা হয়নি। আমার জানা মতে, বন্যার কারণে রংপুর, দিনাজপুর ও চুয়াডাঙ্গার কাউন্সিলররা নির্বাচন স্থগিতের আবেদন করেছিলেন। ’

হকির অনুসারীরা মনে করেন পুরো দেশের জন্য অভিশাপ হয়ে ধেয়ে আসা বন্যা হকির জন্য শাপে বরই হয়েছে! দুটি পক্ষ মানেই হকিতে অচলাবস্থা সৃষ্টির সম্ভাবনা। তার পূর্বাভাসও দিয়ে রেখেছিল একটি পক্ষ। এটাই নাজমুল হাসানের ভীষণ অপছন্দের, ‘খেলা বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। এখন আবাহনী-মোহামেডান একসঙ্গে আছে, নতুন একটা কমিটি হওয়ার পর আবাহনী-মোহামেডান যদি বলে খেলব না তখন কী হবে? নির্বাচনে হারলেই কেউ খেলা বন্ধের ডাক দেবে, এটা হতে পারে না। সামনের ক্রিকেট নির্বাচনে আমি হেরে গেলাম তারপর খেলা বন্ধ করার চিন্তাভাবনা শুরু করলাম, এটা তো কোনো সংগঠকের কাজ হতে পারে না। সাধারণ সম্পাদক যে-ই হোক মাঠের খেলা যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। ’

হকির নির্বাচন স্থগিতে সেই শঙ্কা দূর হয়েছে আপাতত।


মন্তব্য