kalerkantho


প্র্যাকটিসেও ছিলেন না মাহমুদ-মমিনুল

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



প্র্যাকটিসেও ছিলেন না মাহমুদ-মমিনুল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গণমাধ্যম সরব হওয়ায় কলম্বোয় যা করা যায়নি, ঢাকায় এবার সেটি নীরবেই করে ফেলা হলো! গত মার্চে পি সারা ওভালে বাংলাদেশের শততম টেস্টের দিন-তিনেক আগে মাহমুদ উল্লাহকে একাদশ থেকে ছেঁটে ফেলার সিদ্ধান্তই শুধু নয়, ঠিক হয়েছিল তাঁকে দেশেও ফেরত পাঠিয়ে দেওয়ার। যদিও ব্যাপক সমালোচনার মুখে কলম্বোতেই রেখে দেওয়া হয় তাঁকে।

আর এবার অস্ট্রেলিয়া সিরিজ সামনে রেখে চলতে থাকা প্রস্তুতির মধ্যেই দল থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হলো তাঁকে। তবে তিনি একা নন, সঙ্গী এবার মমিনুল হকও। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের শততম টেস্টের একাদশ থেকে বাদ পড়েছিলেন এই তরুণ বাঁ-হাতি ব্যাটসম্যানও। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল থেকে ম্যাচ পরিস্থিতিতে দুই দিনের অনুশীলন শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টিতে প্রথম দিন ভেস্তে গেছে। এ জন্য বেছে নেওয়া ১৭ ক্রিকেটারের মধ্যে নাম তো নেই-ই, ওই দুজন গতকাল ছিলেন না এমনকি মাঠেও।

দল ঘোষণার আগেই যা তাঁদের টেস্ট স্কোয়াডে না থাকার বার্তাই দিচ্ছে। কিন্তু কেন নেই ওই দুজন? এর কোনো ব্যাখ্যাও নেই। হয়তো আছে তবে সেটি দিতে অপারগ প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। গতকাল সন্ধ্যায় মাহমুদ উল্লাহ-মমিনুল ইস্যুতে তাঁর সঙ্গে কথোপকথন তুলে দিলেই বিষয়টি সবচেয়ে ভালো বোঝা যাওয়ার কথা।

প্রশ্ন : ১৭ জনের দলে নেই মানে এটা কি ধরে নেওয়া যায় যে টেস্ট স্কোয়াডেও মাহমুদ-মমিনুল থাকছেন না?

মিনহাজুল : কেন ধরবেন? দলই তো ঘোষণা হলো না এখনো।

প্রশ্ন : এঁদের না রাখার কারণ কী?

মিনহাজুল : এটা প্রস্তুতি ম্যাচ। এটাতে যে কাউকে তো আমরা রাখতেই পারি আবার বাদও দিতে পারি।

প্রশ্ন : প্রস্তুতি তো অস্ট্রেলিয়া সিরিজ সামনে রেখেই, নাকি? তাহলে তো বলতেই হয় ওই দুজন আপনাদের ভাবনাতেই নেই।

মিনহাজুল : এই ফোনটা রাখুন। হাতু (চন্দিকা হাতুরাসিংহে) ফোন দিয়েছে। ওর সঙ্গে কথা বলে জানাচ্ছি।

প্রধান নির্বাচকের শেষ কথা থেকেই চাইলে মাহমুদ-মমিনুলের বাদ পড়ার সূত্রটা ধরা যেতে পারে। এটি আর এখন ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কারো অজানা নয় যে নামে সর্বোচ্চ পদাধিকারী হলেও অনেক ক্ষেত্রেই মিনহাজুলের হাত-পা বাঁধা। কিছু বলার থাকলেও বুঝে-শুনে বলতে হয়। পাছে না আবার হেড কোচ হাতুরাসিংহে চটে যান! তিনি নাখোশ হওয়ায় খোদ ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটি প্রধানের আসন নড়ে যাওয়ার নজির যখন আছে, তখন তাঁকে ‘স্যালুট’ ঠুকেই চলতে হয়! আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচক কমিটির অংশ হওয়ার পর তো আরো!

কাজেই সিদ্ধান্ত বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাতুরাসিংহের হলেও দায় মিনহাজুলদেরও নিতে হয়। কিন্তু এবার যেহেতু দলটা এখনো ঘোষিত হয়নি, তাই প্রধান নির্বাচক নিরাপদ দূরত্বে থাকার চেষ্টা করবেন স্বাভাবিক। কিন্তু মমিনুলকে নিয়ে আরো আগে থেকেই এবং মাহমুদকে নিয়ে শ্রীলঙ্কা থেকে যা যা শুরু হয়েছে, সেসবকে  স্বাভাবিক বলার কোনো কারণ নেই। রানে থাকা মমিনুলকে সীমিত ওভারের দল থেকে ছেঁটে ফেলে তাঁর আত্মবিশ্বাসে এমন চোট দেওয়া হলো যে রান কমে গেল। দুই টেস্ট আগেই নিউজিল্যান্ডে টেস্ট ফিফটি করা এ ব্যাটসম্যানের ব্যাটিং নিয়ে নানা সমস্যার কথা তবু প্রচার করার চেষ্টা হয়। যদিও, অন্তত ২০ টেস্ট খেলা বাংলাদেশি ক্রিকেটারকুলের মাঝে মমিনুলের টেস্ট গড়ই সবচেয়ে বেশি। এক টেস্ট আগেই হায়দরাবাদে ফিফটি করা মাহমুদকে নিয়ে সেরকম কিছুও শোনা যায় না। তার চেয়েও বড় কথা, হোক ভিন্ন ফরম্যাটে তবু আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা মাহমুদকে দারুণ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল। তা ছাড়া ক্যারিয়ারজুড়েই ‘উইকেটে সেট হতে সময় নেন বেশি’ এবং ওয়ানডেতেও ‘টেস্ট উপযোগী ব্যাটিং’য়ের জন্য সমালোচনা হয়েছে তাঁর। সঙ্গে অভিজ্ঞতা যোগ করলে এমন উপেক্ষা প্রাপ্য নয় মাহমুদের। ধরে নেওয়া যাক, নির্বাচকের কথাই সত্যি, মূল স্কোয়াড তো এখনো ঘোষিত হয়নি। তার মানে মাহমুদ-মমিনুলের জন্য দরজা বন্ধ হয়ে যায়নি। যদি তা-ই হবে, তাহলে তাঁদের প্রস্তুতির সর্বোচ্চ সুযোগটা কেন দেওয়া হলো না?


মন্তব্য