kalerkantho


অতঃপর গন্তব্য বিকেএসপি!

১৭ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



অতঃপর গন্তব্য বিকেএসপি!

ছবি : মীর ফরিদ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : অস্ট্রেলিয়া বড় দল—২০০৫ সালে রিকি পন্টিংদের পর্যাপ্ত যত্নআত্তি নিশ্চিত করা নিয়েই রক্তচাপ বেড়ে গিয়েছিল বিসিবির। বড় দল তারা এখনো, তবে নিজেদের অভিজ্ঞতা আর দলের ঊর্ধ্বগামী নৈপুণ্যের কারণে ২০১৭ সালে স্টিভেন স্মিথদের আতিথ্য দেওয়া নিয়ে চাপা উদ্বেগও নেই বিসিবিতে। তবে উদ্বেগ আছে নিরাপত্তা নিয়ে। তার চেয়েও বেশি উৎকণ্ঠা দুই দিনের ট্যুর ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে। অবশ্য গতকাল দুপুরে রোদ উঠতেই পূর্বনির্ধারিত ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামেই ম্যাচটি আয়োজনের ব্যাপারে নতুন করে কোমর বেঁধে নেমেছে বিসিবি। তবে ভেতরের খবর, ফতুল্লা নয়, অস্ট্রেলিয়াকে রাজি করিয়ে বিকেএসপিতে ট্যুর ম্যাচ সরিয়ে নিতেই বেশি তৎপর বোর্ড।

প্রতিটি হোম সিরিজের আগে গমগম করে ক্রিকেট বোর্ডের কার্যালয়। প্রতিপক্ষ যত হাইপ্রোফাইল, তত উত্তেজনা কর্তাব্যক্তিদের শরীরী ভাষাতেও। আগের রাতে অস্ট্রেলিয়ার অগ্রবর্তী দলের দুই সদস্য এসেছেন, তাঁদের নিয়ে যাওয়া হবে ট্যুর ম্যাচের বিকল্প ভেন্যু ইউল্যাবের মাঠ দেখাতে। তার আগে আন্ত মন্ত্রণালয় বৈঠক শেষ না হতেই হোম ক্রিকেটে ঢুকে পড়ে সেনাবাহিনীর একটি কনভয়। প্রতি সিরিজের আগেই উদ্ধার কার্যক্রমের মহড়া দেয় সেনাবাহিনীর একটি কমান্ডো ইউনিট।

আজ সেটি হবে, তবে গতকাল তারা করে গেছেন মহড়ার মহড়া। সব মিলিয়ে সাজ সাজ রব ক্রিকেটের সদর দপ্তরে। ১১ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার আগমন বলে কথা!

তবে এবারের আয়োজনে রোমাঞ্চের চেয়ে উদ্বেগটা কম নয় কর্তাব্যক্তিদের। সেটি টেস্ট সিরিজের ফল-টল নিয়ে নয় মোটেও। এমনকি ক্রমাগত বৃষ্টিতে ম্যাচ পণ্ড হওয়ার আশঙ্কাতেও আক্রান্ত নন তাঁরা। তাঁদের যত উৎকণ্ঠা ২২-২৩ আগস্টের ট্যুর ম্যাচ আয়োজন নিয়ে। যদিও প্রকাশ্যে অবশ্য সে উদ্বেগ প্রকাশই করতে চাইলেন না বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস, ‘যে হারে বৃষ্টি হচ্ছে, তাতে আমাদের কী করার আছে? বৃষ্টি হলে তো এমনিতেই খেলা হবে না। ’ তাহলে কি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃষ্টির জন্য নীরবে প্রার্থনা করছে বিসিবি, তাতে অন্তত ভেন্যু তৈরি না থাকার কারণে খেলা বাতিলের দায় থেকে মুক্তি মেলে! জালাল সে ‘কূটচাল’ও উড়িয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা অবশ্যই ম্যাচ আয়োজন করতে চাই। পরিদর্শকরা আজ (গতকাল) ইউল্যাবের মাঠ দেখেছেন। কাল (আজ) ফতুল্লায় যাবেন। আর বিকেএসপিতেও যেতে রাজি হয়েছেন তারা। ’

অস্ট্রেলিয়ার ট্যুর ম্যাচের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে পারে পর্যবেক্ষকদলের বিকেএসপিতে যাওয়ার প্রস্তাবে রাজি হওয়ার বিষয়টি। টানা বর্ষণ আর চূড়ান্ত অব্যবস্থাপনায় ফতুল্লার স্টেডিয়াম যখন জঞ্জালে ডুবে, তখনই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে বিকেএসপিতে ম্যাচটি স্থানান্তরের অনুরোধ করেছিল বিসিবি। কিন্তু দূরত্বের কারণে সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি সফরকারীরা। বরং ঢাকার মধ্যেই কোনো মাঠ, নয়ত মিরপুরে খেলার পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। বোধগম্য কারণেই প্রথম টেস্টের ভেন্যুতে সফরকারীদের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ দিতে রাজি নয় বিসিবি, দেবেও না।

সে কারণেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ইউল্যাবের মাঠে নিয়ে যাওয়া অতিথি দলের প্রতিনিধিদের। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও এ মাঠের সম্ভাবনা নাকচ হয়ে গেছে বলেই নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে। অস্থায়ী ড্রেসিংরুমের ব্যবস্থা না হয় করা গেল, কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই যে মাঠ তলিয়ে যায় পানিতে। আর যা-ই হোক, অতিথি দলের জন্য মাছ দিয়ে শাক ঢাকার ইচ্ছা নেই বিসিবির। ‘আমরা এমন মাঠেই খেলা দেব, যেখানে ড্রেনেজ সিস্টেম ভালো। এখন তো যখন-তখন বৃষ্টি হচ্ছে। তাই আমরা বিব্রতকর কোনো অবস্থার মধ্যে পড়তে চাই না’, জানিয়েছেন জালাল ইউনুস।

গতকাল দুপুরে রোদ ওঠার পর ফতুল্লার মাঠ নিয়েও আশার নতুন জাল বোনা শুরু হয়েছিল বিসিবির অধস্তন পর্যায়ে। তবে ঊর্ধ্বতনরা সেখানে খেলা হলে ভিন্ন এক আশঙ্কার ‘গন্ধ’ পাচ্ছেন। উন্মুক্ত সুয়ারেজ আর কারখানার রাসায়নিক বর্জ্য মিলেমিশে উৎকট গন্ধ ছড়াচ্ছে ফতুল্লার স্টেডিয়ামে। তাই শেষ সময়ে মাঠ তৈরি হলেও ‘মান্যবর’ অতিথি দলকে পূতিগন্ধময় পরিবেশে নিয়ে ফেলার ইচ্ছা নেই বিসিবির।

বিকেএসপির এসব সমস্যার কোনোটাই নেই। ড্রেনেজ সিস্টেম নিয়েও কোনো দুর্ভাবনা নেই। সমস্যা একটাই—দূরত্ব। অস্ট্রেলিয়ার পর্যবেক্ষকদলের সঙ্গে দিনভর ঘুরে বেড়ানো বিসিবিসংশ্লিষ্ট একজনের উপলব্ধি, ‘আসলে ওরা বিকেএসপিতে শেষবার গিয়েছিল ২০১৪ সালে। সে অভিজ্ঞতার কারণেই ওই ভেন্যুতে যাতায়াত নিয়ে তাদের মনে সামান্য দ্বিধা আছে। তবে এক ঘণ্টার কম সময়ে যাতায়াতের নিশ্চয়তা দেওয়া গেলে ওরা রাজি হবে। ’ জালাল ইউনুসেরও একই বিশ্বাস, ‘বিকেএসপিতে যাওয়ার পথে ইপিজেড পড়ে। তবে সফরকারী দলকে ভিআইপি মর্যাদায় যাতায়াতের সুযোগ করে দিতে রাজি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। আমার মনে হয় না যাতায়াত বড় কোনো বাধা। আর আমরা তো বিশ্বের অনেক দেশে গিয়ে দূরে দূরে ম্যাচ খেলি। ’

হাবে-ভাবে অস্ট্রেলিয়াকেও বিকেএসপিতে নিয়ে যাওয়ার মানসিক প্রস্তুতিটা একরকম নিয়েই ফেলেছে, তা যতই ফতুল্লা নিয়ে প্রকাশ্য আশাবাদ ব্যক্ত করুক না কেন বিসিবি।


মন্তব্য