kalerkantho


মুখোমুখি প্রতিদিন

এভাবে বক্সাররা হারিয়ে যাবে

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



এভাবে বক্সাররা হারিয়ে যাবে

পল্টনে মোহাম্মদ আলী বক্সিং রিংটায় ধুলো জমে গেছে। শেষ কবে এখানে বক্সারদের লড়াই হয়েছে মনে করা কঠিন, কাগজপত্র দেখতে হবে।

এসএ গেমসে সোনাজয়ী বক্সার আব্দুর রহিম সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন একটা জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের, সেটিও অনিয়মিত। কালের কণ্ঠ স্পোর্টসের মুখোমুখি হয়ে খেলাটা নিয়ে তাই হতাশাই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কণ্ঠে।

 

কালের কণ্ঠ স্পোর্টস : দেশে বক্সিং খেলাটা আছে, বোঝার উপায় নেই—এ অবস্থা কেন?

আব্দুর রহিম : বছরে আমাদের মাত্র একটা টুর্নামেন্ট হয়। অন্যান্য দেশ, যেমন ভারতে এখন সুপার বক্সিং লিগ হচ্ছে, তা ছাড়া সারা বছর বিভিন্ন স্পন্সরের মাধ্যমে তাদের কোনো না কোনো টুর্নামেন্ট চলতে থাকে, জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ তো হয়ই। আমাদের এখানে এক জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ ছাড়া স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে খেলা হয়, সেটিও শুধু জুনিয়রদের। সিনিয়রদের টুর্নামেন্ট ওই একটাই। সারা বছর খেলা থাকলেই না স্টেডিয়াম জমজমাট থাকবে।

প্রশ্ন : তো আপনি শেষ টুর্নামেন্ট খেলেছেন কবে?

রহিম : এসএ গেমসের আগে আমাদের সর্বশেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে সম্ভবত। ওটাতেই সর্বশেষ খেলেছি।

তবে আমাদের সেনাবাহিনীতে আন্ত ইউনিট ও ডিভিশনের খেলাটা নিয়ম করে হয়।

প্রশ্ন : ২০১৫ সালে শেষ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হয়েছে, তার মানে এটিও তো অনিয়মিত?

রহিম : হ্যাঁ, ২০১৬-এর শুরুতে এসএ গেমস হলো, এরপর আমরা আর কোনো টুর্নামেন্ট খেলিনি। এ বছর এখনো পর্যন্ত কোনো খেলা হয়নি। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপটা এ মাসেই হওয়ার কথা ছিল, সেটা আরো মাসখানেক পিছিয়ে গেছে শুনলাম।

প্রশ্ন : ঘরোয়া খেলাই অনিয়মিত, জাতীয় দলেরও নিশ্চয়ই খেলা নেই?

রহিম : গত বছর আমরা ওই এসএ গেমসটাই খেলেছি। এর পর থেকে বেকার বসে। এমন না যে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট হয় না বা আমাদের কাছে আমন্ত্রণ আসে না। কিছুদিন আগেও উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তানে খেলা হয়েছে, আমাদের পাঠানো হয় না। হয়তো টাকার সমস্যা। তবে আমি বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিয়েছি, ওই আসরে খেলার সব খরচ আন্তর্জাতিক বক্সিং ফেডারেশনই বহন করেছে। সর্বশেষ ২০১৩ বা ২০১৪ সালে আল আমিনকে পাঠানো হয়েছিল। এর পর থেকে ওখানেও আর কাউকে পাঠানো হয়নি। আমরা কোথাও খেলি না দেখে হয়তো ‘আইবা’-ই সুযোগটা বন্ধ করে দিয়েছে।

প্রশ্ন : এভাবে চলতে থাকলে তো বক্সাররাই হারিয়ে যাবে!

রহিম : স্বাভাবিক, খেলা না থাকলে মানসিকতা পরিবর্তন হয়ে যায়। একটা সময় খেলার সেই উদ্যমই আর পাওয়া যায় না।

প্রশ্ন : নতুন বক্সারও নিশ্চয়ই উঠে আসছে না?

রহিম : নিয়মিত খেলা না হলে, সুযোগ-সুবিধা না থাকলে বক্সাররা উঠে আসবে কী করে? আমাদের এখানে ক্লাব টুর্নামেন্ট নেই। বক্সিংটা বেঁচে আছে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ আর আনসারের মতো দলগুলোর কারণে। এখনো যারা খেলায় আসে, তারা ওই চাকরিটার জন্যই আসে।


মন্তব্য