kalerkantho


আরো উত্তপ্ত ফিরতি লেগ

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



আরো উত্তপ্ত ফিরতি লেগ

প্রীতি ম্যাচও যেখানে ‘এল ক্লাসিকো’র উত্তাপে ফুটন্ত কড়াই হয়ে ওঠে, সেখানে শিরোপার লড়াই হলে তো সেটা রূপ নেয় জ্বলন্ত উনুনে! তার ওপর প্রথম লেগে প্রশ্নবিদ্ধ রেফারিং, ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর লাল কার্ড, সেই একই অপরাধে অতীতে লিওনেল মেসির পার পেয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যু যেন ইটভাটার গনগনে চুল্লি! প্রথম লেগটা রিয়াল ৩-১ গোলে জিতে খানিকটা সুবিধাজনক অবস্থানে আছে বটে, তবে সেসব নিয়ে কথা সামান্যই। রিয়াল সমর্থকরা মাঠে সাদা রুমাল উড়িয়ে দুয়ো দেবে রেফারি হোসে মারিয়া সানচেস মার্তিনেসকে।

রোনালদোর জার্সি নম্বর অনুযায়ী ম্যাচের সপ্তম মিনিটে হবে এই প্রতিবাদ।

অপ্রীতিকর অংশগুলো বাদ দিলে, স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম লেগের আগে বার্সেলোনার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদকে এতটা দাপটের সঙ্গে শেষ কবে জিততে দেখা গেছে, সেটা খুঁজে বের করতে বেশ স্মৃতি হাতড়াতে হবে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে ৩-১ গোলে বার্সেলোনাকে হারিয়েছিল রিয়াল। ম্যাচ জেতার পর জিনেদিন জিদান বলেছিলেন, ‘আমি এই খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত। সব কিছুই রেফারির ভূমিকা দিয়ে আড়াল করা যাবে না, আমরা চমৎকার একটা ম্যাচ খেলেছি। ’ রোনালদো না থাকলেও সেই ভালো খেলার ধারাবাহিকতাটা ধরে রাখার প্রত্যয় জিদানের কণ্ঠে, “আমাদের কোনো ‘এ’ দল, ‘বি’ দল নেই। আমরা সবাই মিলে একটা দল, এখান থেকে যে-ই একাদশে খেলবে, ভালো খেলবে। ” আসেনসিও, ইসকো, কোভাচিচের প্রশংসা ছিল কোচের কণ্ঠে; রোনালদোবিহীন একাদশে কোচ নিশ্চয়ই তাঁদের ওপরই বেশি করে ভরসা করবেন। প্রথম লেগের আগে জিদান বলেছিলেন, সুপার কাপটা দুই লেগের না হয়ে এক ম্যাচের হলেই ভালো হতো।

তেমনটা হলে অবশ্য এখনই শিরোপা উৎসব করে ফেলতে পারত ‘লস ব্লাঙ্কোস’রা। কিন্তু খেলাটা যে দুই লেগের! তাই প্রতিপক্ষের মাঠে ২ গোলে এগিয়ে থাকলেও কোনো আত্মতৃপ্তি নেই জিদানের, ‘বুধবারের আগে কিছুই শেষ হয়নি। এখন আমাদের ফিরতি লেগে মনোনিবেশ করতে হবে। ’

মঙ্গলবার স্থানীয় সময় ১১টায় সুপার কাপের দ্বিতীয় লেগকে সামনে রেখে নিজেদের সব শেষ অনুশীলন পর্ব সেরে নিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। যুবদল থেকে লুকা ও আশরাফকে অনুশীলনে ডেকেছিলেন কোচ জিদান; গা গরম ও শারীরিক ব্যায়ামের পর পজেশন, প্রেসিং, ক্রসিং, ফিনিশিংয়ের অনুশীলন শেষে হয়েছে ছোট মাঠে নিজেদের ভেতর ম্যাচ। অন্যদিকে রবিবার রাতের পর সোমবার ছিল বার্সেলোনার ‘রিকভারি সেশন’, কাল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬-৩০ মিনিট থেকে শুরু হওয়ার কথা প্রস্তুতি পর্বের শেষ ধাপ। প্রথম লেগ হারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমর্থকদের মুষড়ে না পড়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেসি ও সুয়ারেস। ইন্সটাগ্রামে মেসি জানিয়েছেন, ‘আমাদের একটা খারাপ দিন গেছে। কিন্তু আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং এগিয়ে যেতে হবে। এ তো কেবল শুরু মাত্র। ’ সুয়ারেসও জানিয়েছেন, ‘আমরা সব সময়ই দৃঢ়চেতা, ইতিবাচক ও সুন্দর আগামীর প্রত্যাশী। ’

প্রথম লেগের ম্যাচটা জিততে না পারলেও পেনাল্টি থেকে গোল করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন মেসি। এ নিয়ে সুপার কাপে ১৩ গোল হয়েছে মেসির, যা তাঁকে করেছে এই আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতা। এ ১৩ গোলের ৬টিই মেসি করেছেন রিয়ালের বিপক্ষে। আর সব মিলিয়ে এল ক্লাসিকোতে মেসির গোলসংখ্যা হয়েছে ২৪ ( মিয়ামির প্রীতি ম্যাচের গোল বাদে), এল ক্লাসিকোর ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের ইতিহাসে এত গোল আর কারোরই নেই।

রিয়াল অনুপ্রেরণা খুঁজছে বার্সেলোনার মাঠে ২০১৪ সালের কোপা দেল রে ও ২০১২ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপ জয় থেকে। অন্যদিকে কাতালানরা ৩-১ গোলের হারের পরও ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র খুঁজছে রিয়ালের মাঠে অতীতের বড় জয়গুলো থেকে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে রিয়ালকে তাদের মাঠে ৪-০-তে হারানো কিংবা ২০০৮-০৯ সালে ৬-২-তে হারানোর কীর্তিকে মনে করেই উজ্জীবনী শক্তি খুঁজছে বার্সেলোনা।

নেইমারবিহীন এল ক্লাসিকোর পর এবার রোনালদোও নেই। তাতেও বিন্দুমাত্র কমছে না এল ক্লাসিকোর উত্তাপ বরং দুই দলই ফুটছে আগ্নেয়গিরির মতো। আগুনটা উসকে দিয়েছে রেফারিং বিতর্ক। সব মিলিয়ে এল ক্লাসিকোর যে যুদ্ধংদেহী মেজাজটা সমর্থকরা প্রত্যাশা করে, প্রেক্ষাপটটা তেমনই। মৌসুমের শুরুতেই এমন গরম এল ক্লাসিকো প্রত্যাশা বাড়িয়ে দিচ্ছে আসন্ন লিগকে ঘিরেও। ক্লাব ওয়েবসাইট, মার্কা


মন্তব্য