kalerkantho


যে শোক শক্তির উৎসও

১৬ আগস্ট, ২০১৭ ০০:০০



যে শোক শক্তির উৎসও

ক্রীড়া প্রতিবেদক : শোকের চাদরে ঢেকে পুরো বাংলাদেশ। ধানমণ্ডিতে বেদনার অনুভূতি একটু বেশি।

এখানেই বিপথগামী কিছু সেনার হাতে সপরিবারে নৃশংস খুন হয়েছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ৩২ নম্বর রোডের সেই বাড়ি হয়ে আছে বেদনার জাদুঘর। এর পাশেই অবস্থান বঙ্গবন্ধুর ছেলের নামে শেখ জামাল ধানমণ্ডি ক্লাব লিমিটেড। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে খুন হয়েছিলেন শেখ জামাল ও শেখ রাসেলও। ক্লাব দুটির পরিবেশ সকাল থেকে গুমোট এ জন্য। শেখ জামাল, শেখ রাসেল আর বিভীষিকাময় সেই রাতে নিহত সবার রুহের মাগফিরাতে দিনভর নানা আয়োজন ছিল ক্লাব দুটির।

শেখ জামাল ক্লাব চত্বরে তৈরি করা হয়েছিল অস্থায়ী মঞ্চ, যেখানে বসে ক্লাব পরিচালক আর কর্তারা দৃঢ় শপথ নিলেন শোককে শক্তিতে পরিণত করে শেখ জামালকে দেশসেরা ক্লাব বানানোর। একই প্রত্যয় দেশের স্বনামধন্য আরেক ক্লাব শেখ রাসেলেরও। তারাও নানা কর্মসূচিতে পালন করেছে গতকালের দিনটি।

এরপর কর্তারা শপথ নিয়েছেন বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ক্লাব চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে শেখ রাসেলের সুনাম ফিরিয়ে আনার।

শেখ জামালের কর্মসূচির শুরু সকালে পতাকা উত্তোলন দিয়ে। এরপর ক্লাবের সদর দরজায় শেখ জামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান ক্লাব পরিচালক ও কর্তারা। উপস্থিত ছিলেন শেখ জামালের সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানের ব্যক্তিগত সচিব ও ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ফয়জুর রহমান, ক্লাব পরিচালক নজীব আহমেদ, আবদুল্লাহ আল জহির, ফিরোজ আলম ও ক্লাব কর্তা আশরাফ উদ্দিন আহমেদ চুন্নু, আব্দুল গাফফার, আবু হাসান চৌধুরীসহ অন্য কর্তারা। শেখ জামালের প্রতিকৃতিতে ফুল দেওয়ার পর তাঁরা যান ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর রোডের ঐতিহাসিক সেই বাড়িতে। সেখানে গিয়েছিলেন শেখ রাসেল ক্লাবের পরিচালক ও কর্তারাও। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানান তাঁরা। বাড়িটি এখন বেদনার জাদুঘর। এর প্রতিটি জায়গায় বঙ্গবন্ধুর সেই সময়ের সব চিহ্নকে রেখে দেওয়া হয়েছে সেভাবেই।

সেই কালরাতে খুন হওয়া বঙ্গবন্ধু ছাড়া পরিবারের বাকি সবার লাশ দাফন করা হয় বনানী কবরস্থানে। শেখ জামাল ও শেখ রাসেলের কর্তারা সেখানে গিয়ে পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসেন। এরপর কোরআন খতম, দোয়া মাহফিল আর গরিবদের মধ্যে খাবার বিতরণে শেষ হয় দিনের অনুষ্ঠান। শোকের এই দিনে শেখ জামালের সভাপতি ও বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহানের ব্যক্তিগত সচিব ও ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. ফয়জুর রহমান শপথ নিলেন শোককে শক্তিতে পরিণত করার, ‘প্রতিষ্ঠার কিছুদিনের মধ্যে শেখ জামাল ক্লাব সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে। বসুন্ধরা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাফওয়ান সোবহান ক্লাবের সভাপতি হওয়ার পর গতি বেড়েছে আরো। ফুটবল আর ক্রিকেট প্রিমিয়ার লিগে শিরোপা জেতা লক্ষ্য আমাদের। আশা করছি এ বছরই পারব সেটা। দেশের ১৬ কোটি মানুষের প্রিয় ক্লাব হয়ে উঠতে চাই আমরা। ’


মন্তব্য